|

অমিত মিশ্র

২৪ নভেম্বর, ১৯৮২ তারিখে দিল্লিতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। লেগ-ব্রেক বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ভারতের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

২০০০-০১ মৌসুম থেকে ২০১৭-১৮ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে চণ্ডীগড়, হরিয়াণা ও উত্তরাঞ্চলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, ডেকান চার্জার্স, দিল্লি ক্যাপিটালস, অয়েল এন্ড ন্যাচারেল গ্যাস কর্পোরেশন ও সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের পক্ষে খেলেছেন।

রঞ্জী ট্রফিতে হরিয়াণার পক্ষে লেগ স্পিনার হিসেবে খেলেছেন। আক্রমণাত্মক ডানহাতি লেগ বোলার হিসেবে খেলে থাকেন ও প্রয়োজনে নিচেরসারির কার্যকর ব্যাটসম্যান হিসেবে আবির্ভূত হন। নিখুঁতধর্মী ও বলকে শূন্যে পর্যাপ্ত ভাসিয়ে খেলেন। এছাড়াও, অপ্রচলিত গুগলি বলে ব্যাটসম্যানদেরকে বিভ্রান্তিতে ফেলেন। পিচে বলকে বাঁক খাওয়াতে পারঙ্গমতা প্রদর্শন করলেও নির্ভরযোগ্যতার পরিচয় দিতে পারেননি।

২০০০-০১ মৌসুমে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে। তবে, দিল্লি দলে উপেক্ষিত হলে হরিয়াণায় লেগ স্পিনারের শূন্যতা পূরণে তাঁকে রাখা হয়। বিস্ময়করভাবে ব্যাটসম্যান হিসেবেও দলে ভূমিকা রাখতে থাকেন। বলকে বাঁক খাওয়ানোর ক্ষেত্রেও তাঁর পরামর্শক ও কোচ সঞ্জয় ভরদ্বাজের কাছ থেকে প্রশংসা কুড়ান। এমনকি, অনূর্ধ্ব-১৭ দলের সদস্যরূপে খেলেন বলের তুলনায় ব্যাট হাতেই অধিক সফলতা পেয়েছিলেন। ডেকান চার্জার্স, সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ, দিল্লি ডেয়ারডেভিলসের পক্ষে খেলেছেন।

২০০৩ থেকে ২০১৭ সময়কালে ভারতের পক্ষে সর্বমোট ২২ টেস্ট, ৩৬টি ওডিআই ও ১০টি টি২০আইয়ে অংশ নিয়েছেন। ১৩ এপ্রিল, ২০০৩ তারিখে ঢাকায় অনুষ্ঠিত টিভিএস কাপে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন। খেলায় তিন একটিমাত্র উইকেটের সন্ধান পান ও তাঁর দল ১৫৩ রানে বিজয়ী হয়। এ পর্যায়ে ভারতের সর্বকালের সেরা দুই স্পিনার – অনিল কুম্বলে ও হরভজন সিং তাঁদের স্বর্ণালী সময় ছিলেন। ফলশ্রুতিতে, দলে ঠাঁই পেতে তাঁকে যথেষ্ট বেগ পেতে হয়। এছাড়াও পরবর্তীকালে রবিচন্দ্রন অশ্বিনরবীন্দ্র জাদেজা তাঁর পথ রোধ করেন।

২০০২ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট খেলার জন্যে তাঁকে দলে রাখা হয়। তবে, প্রথম একাদশে তাঁর ঠাঁই হয়নি। প্রায় ছয় বছর পর ২০০৮ সালে খেলার সুযোগ পান। ২০০৮-০৯ মৌসুমে নিজ দেশে রিকি পন্টিংয়ের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ১৭ অক্টোবর, ২০০৮ তারিখে মোহালিতে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। প্রথম ইনিংসে ৫-উইকেটের সন্ধান পান। এমএস ধোনি’র অসাধারণ ব্যাটিংয়ের কল্যাণে স্বাগতিক দল খেলায় ৩২০ রানে জয় পায় ও চার-টেস্টে নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

একই সফরের ৬ নভেম্বর, ২০০৮ তারিখে নাগপুরে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের বিদায়ী টেস্টে ০ ও ৭ রান সংগ্রহসহ একটি রান-আউটের সাথে নিজেকে যুক্ত রাখেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ২/৫৮ ও ৩/২৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। জেসন ক্রেজা’র অনবদ্য বোলিং সত্ত্বেও স্বাগতিক দল ১৭২ রানে জয় পায় ও ২-০ ব্যবধানে সিরিজে জয়লাভ করে।

অনিল কুম্বলে’র অবসর গ্রহণের পর তাঁর অগ্রযাত্রা শুরু হয়। ২০১১ সালে ভারত দলের নিয়মিত সদস্যের মর্যাদা পান। জুলাই, ২০১৩ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওডিআই সিরিজে দূর্দান্ত ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন করেন। ঐ প্রতিযোগিতায় ১৮ উইকেট দখল করে সর্বোচ্চ উইকেট সংগ্রাহকে পরিণত হন। এরফলে, দ্বি-পক্ষীয় ওডিআই সিরিজে জবাগল শ্রীনাথের সর্বাধিক উইকেট লাভের বিশ্বরেকর্ডের সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত করেন।

২০১৪ সালের এশিয়া কাপে দশ ওভারে মাত্র ২৮ রান খরচ করে দুই উইকেট লাভ করেন। ২০১৬-১৭ মৌসুমে সফরকারী নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওডিআই সিরিজে অসাধারণ ক্রীড়ানৈপুণ্যের স্বাক্ষরের প্রেক্ষিতে প্লেয়ার অব দ্য সিরিজ পুরস্কারে ভূষিত হন।

একই মৌসুমে নিজ দেশে অ্যালাস্টেয়ার কুকের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের মুখোমুখি হন। ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৬ তারিখে চেন্নাইয়ে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ১/৮৭ ও ১/৩০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, করুণ নায়ারের অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে খেলায় তাঁর দল ইনিংস ও ৭৪ রানে জয় পেয়ে ৪-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

আইপিএলের ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে তিনটি হ্যাট্রিক করেন।

Similar Posts

  • |

    কামিন্ডু মেন্ডিস

    ৩০ সেপ্টেম্বর, ১৯৯৮ তারিখে গলেতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। বামহাতে ব্যাটিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে কার্যকর অফ-ব্রেক কিংবা স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিংয়ে পারঙ্গমতা প্রদর্শন করছেন। শ্রীলঙ্কার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। গলেভিত্তিক রিচমন্ড কলেজে অধ্যয়ন করেছেন। ষোড়শ জন্মদিন উদযাপনের পূর্বেই শ্রীলঙ্কার অনূর্ধ্ব-১৯ দলে প্রথমবারের মতো অংশ নেন। ২০১৮ সালের আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯…

  • | |

    লর্ড হক

    ১৬ আগস্ট, ১৮৬০ তারিখে লিঙ্কনশায়ারের উইলিংহাম রেক্টরি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে অগ্রসর হতেন। ১৮৯০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। এছাড়াও, ইংল্যান্ড দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৮৮১ সালের শরৎকালে কেমব্রিজের অধীন মাগদালেন কলেজে ভর্তি হন। বেশ স্বাচ্ছন্দ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিকেট একাদশ দলে অন্তর্ভুক্ত হন।…

  • | | |

    আমির ইলাহী

    ১ সেপ্টেম্বর, ১৯০৮ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের পাঞ্জাবের লাহোরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে মিডিয়াম কিংবা লেগ-ব্রেক বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। দুইটি অপ্রত্যাশিত বিষয়ের সাথে নিজের নামকে স্মরণীয় করে রেখে গেছেন। মাত্র বারোজন ক্রিকেটারের অন্যতম হিসেবে দুইটি ভিন্ন দেশের পক্ষে খেলেছেন। বিশজন বয়োজ্যেষ্ঠ ক্রিকেটারের অন্যতম হিসেবে…

  • |

    ডন বিয়ার্ড

    ১৪ জানুয়ারি, ১৯২০ তারিখে মানাওয়াতুর পালমারস্টোন নর্থে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৫০-এর দশকে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। নিখুঁতমানসম্পন্ন ডানহাতি মিডিয়াম-পেস বোলার ছিলেন। কিছুটা দেরীতে বলকে সুইং করাতে সক্ষম ছিলেন। ব্যাট হাতে নিয়ে বেশ মারকুটে ব্যাটসম্যানের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতেন। প্রথম-শ্রেণীর…

  • | | |

    ব্রুস এডগার

    ২৩ নভেম্বর, ১৯৫৬ তারিখে ওয়েলিংটনে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, কোচ ও প্রশাসক। মূলতঃ উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালন করতেন। বামহাতে ব্যাটিং কর্মে মনোনিবেশ ঘটাতেন। পাশাপাশি, ডানহাতে বোলিং করতে পারতেন। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ধ্রুপদীশৈলীর ব্যাটিংয়ের অধিকারী ছিলেন ও ফাস্ট বোলিংয়ের বিপক্ষে দারুণ খেলতেন। ১৯৭৫-৭৬ মৌসুম থেকে ১৯৮৯-৯০ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে…

  • | |

    মমিনুল হক

    ২৯ সেপ্টেম্বর, ১৯৯১ তারিখে কক্সবাজারে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছেন। আকর্ষণীয় ভঙ্গীমায় বামহাতে ব্যাটিং করেন। এছাড়াও, মাঝে-মধ্যে কার্যকর বামহাতি স্পিনার হিসেবে আবির্ভূত হন। বাংলাদেশের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সকল স্তরে অংশ নিয়েছেন। পাশাপাশি, বাংলাদেশ দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। খর্বাকায় ৫ ফুট ৩ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী। ‘সৌরভ’ ডাকনামে পরিচিত মমিনুল হক মুমিনুল…