| |

অম্বর রায়

৫ জুন, ১৯৪৫ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের বাংলা প্রদেশের কলকাতায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। বামহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৬০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

কাকা পঙ্কজ রায় ও কাকাতো ভাই প্রণব রায়ের সাথে তিনিও জমিদার পরিবারের সন্তান ছিলেন। তাঁরা প্রত্যেকেই রক্ষণভাগ নিয়ন্ত্রণ, ধৈর্য্য শক্তি ও ফুরফুরে মেজাজের অধিকারী হলেও তাঁর ন্যায় কলকাতার মাঠে ব্যাট হাতে ক্রিজে অবস্থান করে কেউ সাড়া অবস্থানে সাড়া জাগাতে পারেননি। ১৯৬০-৬১ মৌসুম থেকে ১৯৭৭-৭৮ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে বাংলার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ক্রিকেট বিশ্লেষকদের অনেকেই তাঁকে বাংলার সর্বাপেক্ষা প্রতিভাবান স্ট্রোক খেলোয়াড় হিসেবে চিত্রিত করে গেছেন। সেরা বোলারদের বিপক্ষে দূর্দান্ত ক্রীড়াশৈলীর স্বাক্ষর রেখে সতর্ক পদচারণায় ফিল্ডারদের হতাশা পর্যবেক্ষণ করেছেন প্রায় একাকী।

একাকী অনুশীলন কর্মে যোগ দিতেন। সাজঘরে ঘুমিয়ে পড়তেন। দলীয় সঙ্গীদের ডাকাডাকিতে জেগে উঠতেন। এরপর, দর্শকদেরকে উল্লাসে মত্ত রাখতেন। বড় ধরনের ইনিংস খেলার দিকে অগ্রসর হতে স্ট্রোকের ফুলঝুড়ি ছোটাতেন। বিদেয় নেবার পর সিগারেট ধরাতেন ও খেলার গতিধারা পর্যবেক্ষণ করতেন। অন্য কেউ তাঁর ন্যায় কলকাতায় ব্যাট হাতে উজ্জ্বীবনী শক্তি প্রদর্শনে অগ্রসর হতে পারেননি।

১৯৬৯-৭০ মৌসুমে ১৭৩ রানের ইনিংস খেলেন। এ পর্যায়ে চতুর্থ উইকেট জুটিতে শ্যাম সুন্দর মিত্রের সাথে ৩০৮ রান যুক্ত করেন। ঐ সময়েই এটিই বাংলা দলের সর্বোচ্চ রানের জুটি ছিল। ঐ মাসের শেষদিকে ১৩৩, ৯৫ ও ৯৩ রানের উপর্যুপরী ইনিংস খেলেন। পাঁচ মৌসুম পর ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানের সন্ধান পান। দলের সংগ্রহ ৩১৩ হলেও তিনি করেছিলেন ১৯৭ রান। অন্য কোন ব্যাটসম্যান ৪০-এর কোটা স্পর্শ করতে পারেননি।

১৯৬৯ সালে ভারতের পক্ষে মাত্র চার টেস্টে অংশ নেয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯৬৯-৭০ মৌসুমে নিজ দেশে গ্রাহাম ডাউলিংয়ের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। ৩ অক্টোবর, ১৯৬৯ তারিখে নাগপুরে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। প্রথম ইনিংসে আট নম্বর অবস্থানে ব্যাট হাতে মাঠে নেমে দূর্দান্ত খেলেন। ১০টি চারের মারে ৪৮ রান তুলে বিদেয় নিয়েছিলেন। এছাড়াও, দ্বিতীয় ইনিংসে ২ রান তুলেছিলেন। সফরকারীরা ১৬৭ রানে জয় পেয়ে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-১ ব্যবধানে অগ্রসর হতে থাকে।

একই মৌসুমে বিল লরি’র নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ১২ ডিসেম্বর, ১৯৬৯ তারিখে কলকাতায় অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়া দলের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। ১৮ ও ১৯ রান সংগ্রহ করেছিলেন। সফরকারীরা ১০ উইকেটে জয়ী হয় ও পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

টেস্টগুলো থেকে ১৩.০০ গড়ে ৯১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ৪৩.১৫ গড়ে ৭১৬৩ রান সংগ্রহের কারণে তাঁর প্রতিভাকে সঠিকভাবে বিচার করা যায় না। তবে, রঞ্জী ট্রফিতে তিনি আরও ভালো খেলা উপহার দিয়েছিলেন। ৪৯.৪৯ গড়ে ৩৮১১ রান পেয়েছিলেন। এছাড়াও, তিনি সুইং বোলার ছিলেন। একবার মঈন-উদ-দৌলা ট্রফিতে হায়দ্রাবাদের বিপক্ষে ৪/৪৪ লাভ করেছিলেন।

খেলোয়াড়ী জীবন থেকে অবসর নেয়ার পর ভারতের দল নির্বাচকমণ্ডলীর সদস্য হন। তাঁর সময়কালে ১৯৮৪-৮৫ মৌসুমে ইডেন গার্ডেন্সে অনুষ্ঠিত টেস্টে কপিল দেবের দল থেকে বাদ পড়ার বিষয়টি সর্বাধিক বিতর্কিত বিষয়ে পরিণত হয়েছিল। এছাড়াও, সৌরভ গাঙ্গুলী’র প্রতিভার বিষয়ে তিনিই প্রথম অবলোকন করেছিলেন।

তাঁর হৃদযন্ত্রের সমস্যা ছিল ও ধূমপান পরিত্যাগ করার কথা বলা হয়। তবে, তিনি তা করেননি। ১৯ সেপ্টেম্বর, ১৯৯৭ তারিখে ৫২ বছর ১০৬ দিন বয়সে পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় হৃদযন্ত্র ক্রিয়ায় তাঁর জীবনাবসান ঘটে। তবে, কিছু সূত্রে জানা যায় যে, তিনি ম্যালেরিয়ার জীবাণুতে আক্রান্ত হয়েছিলেন।

Similar Posts

  • |

    ডেভন কনওয়ে

    ৮ জুলাই, ১৯৯১ তারিখে ট্রান্সভালের জোহানেসবার্গে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ শীর্ষসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলছেন। বামহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী। এছাড়াও, মাঝে-মধ্যে উইকেট-রক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে থাকেন। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সকল স্তরে অংশ নিয়েছেন। দক্ষিণ আফ্রিকায় জন্মগ্রহণ করেন ও সেখানেই শৈশবকাল অতিবাহিত করেন। ২০১৭ সালে নিউজিল্যান্ডে চলে আসেন। দক্ষিণ আফ্রিকার ঘরোয়া ক্রিকেটে প্রায় ১০০টি…

  • |

    রন স্যাগার্স

    ১৫ মে, ১৯১৭ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের সিডেনহাম এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষণে এগিয়ে আসতেন। উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে অগ্রসর হতেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। মারেকভিল পাবলিক স্কুলে অধ্যয়ন করেছেন। দীর্ঘকায় গড়নের অধিকারী ছিলেন। বেশ পরিশ্রমী ছিলেন। ১৯৩২-৩৩ মৌসুমে মারিকভিল ডিস্ট্রিক্ট ক্রিকেট ক্লাবের সদস্যরূপে যোগ দেন। থার্ড গ্রেডের ক্রিকেটে…

  • | | | | |

    গুল মোহাম্মদ

    ১৫ অক্টোবর, ১৯২১ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের পাঞ্জাবের লাহোরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, আম্পায়ার ও কোচ ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। বামহাতে মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, বামহাতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন করতেন। ভারত ও পাকিস্তান – উভয় দলের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছিলেন। ৫ ফুট ৫ ইঞ্চি নিয়ে ছোটখাটো গড়নের অধিকারী হলেও অন্যতম সেরা অল-রাউন্ডার ছিলেন। আক্রমণাত্মক…

  • |

    ডিক স্পুনার

    ৩০ ডিসেম্বর, ১৯১৯ তারিখে কো ডারহামের থর্নবি-অন-টিজ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালনে অগ্রসর হয়েছিলেন। এছাড়াও, বামহাতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৫০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ওয়ারউইকশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৪৮ থেকে ১৯৫৯ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। এক দশকের অধিক সময় দলে থেকে ১৩৮৫১ রান…

  • |

    এস বদ্রিনাথ

    ৩০ আগস্ট, ১৯৮০ তারিখে তামিলনাড়ুর মাদ্রাজে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ মাঝারিসারির ব্যাটসম্যানের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ভারতের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ২০০০-০১ মৌসুম থেকে ২০১৬-১৭ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রেখেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে তামিলনাড়ুর প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, চেন্নাই সুপার কিংস,…

  • |

    স্কট বর্থউইক

    ১৯ এপ্রিল, ১৯৯০ তারিখে কো ডারহামের সান্ডারল্যান্ড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। দলে তিনি মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলছেন। লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী। পাশাপাশি, বামহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন করেন। ২০১০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সকল স্তরে অংশ নিয়েছেন। ২০০৯ সাল থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর কাউন্টি ক্রিকেটে ডারহাম ও সারে দলের প্রতিনিধিত্ব করছেন।…