|

আলফন্সো রবার্টস

১৮ সেপ্টেম্বর, ১৯৩৭ তারিখে সেন্ট ভিনসেন্টের কিংসটাউনে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ১৯৫০-এর দশকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

সেন্ট জর্জেস অ্যাংলিকান স্কুল ও সেন্ট ভিনসেন্ট বয়েজ গ্রামার স্কুলে অধ্যয়ন করেছেন। ক্রিকেট ও ফুটবলে দক্ষতার স্বাক্ষর রাখেন। এভারটন উইকসের সুপারিশক্রমে পোর্ট অব স্পেনের কুইন্স রয়্যাল কলেজে বৃত্তিলাভ করেন।

ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে ত্রিনিদাদ ও টোবাগো এবং উইন্ডওয়ার্ড আইল্যান্ডসের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৫৫-৫৬ মৌসুম থেকে ১৯৫৯-৬০ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। কম্বাইন্ড উইন্ডওয়ার্ড ও লিওয়ার্ড আইল্যান্ডসের পক্ষে খেলেছেন। তন্মধ্যে, সাতটি খেলা প্রথম-শ্রেণীভূক্ত ছিল।

১৭ বছর বয়সে উইন্ডওয়ার্ড আইল্যান্ডসের সদস্যরূপে ১৯৫৩-৫৪ মৌসুমে সেন্ট জর্জেসে সফররত ইংরেজ দলের বিপক্ষে খেলেন। সুবিধে করতে পারেননি। রান-আউটের কবলে পড়ে দুই রানে বিদেয় নেন। এক বছর পর পোর্ট অব স্পেনে ত্রিনিদাদের বিপক্ষে দল ১৭০ রানে গুটিয়ে গেলেও তিনি ৭৪ রান তুলেছিলেন। ১৮ বছর বয়সে সেন্ট জর্জেসে সফররত অস্ট্রেলীয় একাদশের বিপক্ষে আরও একবার ৭৪ রান তুলে দলের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকে পরিণত হন। ফলশ্রুতিতে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলে ঠাঁই পান।

১৯৫৬ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে একটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯৫৫-৫৬ মৌসুমে ডেনিস অ্যাটকিনসনের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ড সফরে যান। ইডেন পার্কে অকল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অংশ নেন। ৩৪ ও এক রান তুলতে সক্ষম হন। ট্রাফালগার স্কয়ারে নেলসনের বিপক্ষে ৪৭, ওয়াঙ্গানুইয়ে সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টসের বিপক্ষে ১৯ ও ৪৫ এবং নেপিয়ারে হক’স বে’র বিপক্ষে ৩১ রান তুলেছিলেন। শেষ খেলাটিতে সফরকারীরা ১০৫ রানে গুটিয়ে গেলেও তিনি সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হন।

এ সফরের ৯ মার্চ, ১৯৫৬ তারিখে অকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ ও চূড়ান্ত টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। এরফলে, ক্ষুদে দ্বীপপুঞ্জ সেন্ট ভিনসেন্টের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে টেস্ট ক্রিকেটে অংশগ্রহণের গৌরব অর্জন করেন। এছাড়াও, এ পর্যায়ে তিনি ওয়েস্ট ইন্ডিজের চতুর্থ সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড়ের সম্মাননাপ্রাপ্ত হন। খেলায় তিনি ২৮ ও ০ রান তুলেন। তবে, হ্যারি ক্যাভ খেলায় ৪৩ রান খরচায় ৮ উইকেট পেলে ২৬ বছর ও ৪৫ টেস্টে অংশ নেয়ার পর নিউজিল্যান্ড দল তাদের ইতিহাসের প্রথম টেস্ট বিজয়ে অংশ নেয়। খেলায় তাঁর দল ১৯০ রানে পরাজিত হলেও ৩-১ ব্যবধানে সিরিজে জয়লাভ করে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

অংশগ্রহণকৃত ৩০টি প্রথম-শ্রেণীর খেলা থেকে ২১ গড়ে একটি শতক সহযোগে ৯৬১ রান তুলেছিলেন। চার বছর সেন্ট লুসিয়ায় সরকারী চাকুরীজীবী ছিলেন। এরপর, উচ্চতর শিক্ষার্থে মন্ট্রিলে চলে যান। পরবর্তীতে, ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান কনফারেন্স কমিটি গঠনে ভূমিকা রাখেন। এছাড়াও, মন্ট্রিলে সেন্ট ভিনসেন্ট ও গ্রেনাডাইন্স অ্যাসোসিয়েশন প্রতিষ্ঠা করেন। মন্ট্রিলে ক্রিকেট ও নেটবল সম্প্রসারণে অংশ নেন।

২৪ জুলাই, ১৯৯৬ তারিখে কানাডার মন্ট্রিলে গল-ব্লাডার ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ৫৮ বছর ৩১০ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে। আফ্রিকা ও ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জের গুরুত্বপূর্ণ সংগ্রহশালা হিসেবে পরিচিত বেসরকারী সংগঠন আলফি রবার্টস ইনস্টিটিউট তাঁর নামানুসরণে রাখা হয়।

Similar Posts

  • | |

    তামিম ইকবাল

    ২০ মার্চ, ১৯৮৯ তারিখে চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার। মূলতঃ ইনিংস উদ্বোধনে নেমে থাকেন। বামহাতে ব্যাটিং করেন। বাংলাদেশের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। এছাড়াও, বাংলাদেশ দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০০৪-০৫ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর বাংলাদেশী ক্রিকেটে চট্টগ্রাম বিভাগ ও ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে নটিংহ্যামশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৬ ফেব্রুয়ারি,…

  • | |

    দীপক প্যাটেল

    ২৫ অক্টোবর, ১৯৫৮ তারিখে কেনিয়ার নাইরোবিতে জন্মগ্রহণকারী নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটার ও কোচ। দলে মূলতঃ মাঝারিসারির ব্যাটসম্যানের দায়িত্ব পালন করেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। পাশাপাশি ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করতেন। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯৭৬ সাল থেকে ১৯৯৬-৯৭ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে অকল্যান্ড ও ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ওরচেস্টারশায়ারের…

  • |

    স্যাম মরিস

    ২২ জুন, ১৮৫৫ তারিখে তাসমানিয়ার হোবার্টে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৮৮০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। আইজাক মরিস ও এলিজাবেথ অ্যান দম্পতির সন্তান ছিলেন। তাঁর জনপ্রিয়তা বেশ তুঙ্গে অবস্থান করে ও দি অস্ট্রালাসিয়ানের প্রতিবেদক ফেলিক্স মন্তব্য করেন যে, স্যামকে…

  • | | |

    জন রাইট

    ৫ জুলাই, ১৯৫৪ তারিখে ক্যান্টারবারির ডারফিল্ড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। দলে তিনি মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানরূপে খেলতেন। বামহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। নিউজিল্যান্ডের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। সকল ধরনের স্ট্রোক খেলায় পারদর্শী ছিলেন। মানসিক দৃঢ়তা ও আপোষহীনতার কারণে সর্বোচ্চ স্তরের ক্রিকেটে সফলতার সন্ধান পেয়েছেন। যে-কোন ধরনের বল মোকাবেলায় ভারসাম্য রক্ষার কৌশল…

  • | | |

    লিন্ডসে হ্যাসেট

    ২৮ আগস্ট, ১৯১৩ তারিখে ভিক্টোরিয়ার জিলং এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। অস্ট্রেলিয়া দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। ১.৬৯ মিটার উচ্চতার অধিকারী ছিলেন। অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান হিসেবে বিবেচিত হয়েছিলেন। ১৯৩২-৩৩ মৌসুম থেকে ১৯৫২-৫৩ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন…

  • |

    চামারা সিলভা

    ১৪ ডিসেম্বর, ১৯৭৯ তারিখে পানাদুরায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী। শ্রীলঙ্কার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯৯৬-৯৭ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটে বাসনাহীরা সাউথ, ব্লোমফিল্ড ক্রিকেট ও অ্যাথলেটিক ক্লাব এবং সিংহলীজ স্পোর্টস ক্লাবের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও,…