| | |

আলফ্রেড শ’

২৯ আগস্ট, ১৮৪২ তারিখে নটিংহ্যামশায়ারের বার্টন জয়েস এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও আম্পায়ার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখতেন। ডানহাতে স্লো বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ইংল্যান্ড দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন।

সেপ্টেম্বর, ১৮৬৩ সালে নটস কর্তৃপক্ষ দ্বিতীয়বারের মতো কোল্টস বাছাইয়ের আয়োজন করলে তিনি কোল্টসের পক্ষে খেলে ৭/১৪ লাভ করেন। এরপর, লর্ডসে এমসিসি বনাম ইংল্যান্ড কোল্টসের মধ্যকার খেলায় অংশ নিয়ে ৫৫ রান খরচায় ১৩ উইকেট পান।

ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে নটিংহ্যামশায়ার ও সাসেক্স দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে দলের ১০৩তম খেলোয়াড় হিসেবে যুক্ত হন। ১৮৬৪ থেকে ১৮৯৭ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। সমসাময়িক বন্ধুরা তাঁকে ব্যঙ্গ করে ‘বোলারদের সম্রাটরূপে’ আখ্যায়িত করতেন। পিচে অত্যন্ত নিখুঁততার সাথে বল ফেলতেন। সহস্র উইকেটের সন্ধান পেয়েছেন।

১৮৬৪ সালে নটসের পক্ষে প্রথম-শ্রেণীর খেলায় প্রথমবারের মতো অংশ নেন। এরপর থেকে ১৮৮৮ সাল বাদে ও আঘাত ব্যতীত পরবর্তী ২২ বছর দলের নিয়মিত সদস্য হিসেবে কাউন্টি দলটিতে খেলতেন। নটসের বোলিং বিভাগ শক্তিশালী হবার ফলে কয়েক বছর অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলতেন। ব্যাটিংয়ে বেশ দক্ষ ছিলেন। তবে, ১৮৭১ সাল থেকে নটসের আক্রমণে প্রধান অনুষঙ্গ হয়ে পড়েন। ১৮৭৭ সালের গ্রীষ্মের অধিকাংশ সময় অসুস্থতার কবলে পড়েন। তবে, পরবর্তী মৌসুমে অসাধারণ খেলেছিলেন। বামহাতি ফ্রেড মর্লের সাথে বোলিং জুটি গড়েন। উভয়েই লর্ডসে এমসিসি’র সাথে যুক্ত ছিলেন। পাশাপাশি, নটসের পক্ষে খেলতেন। ঐ মৌসুমের সবগুলো প্রথম-শ্রেণীর খেলা থেকে ২৬৩০ ওভার বোলিং করে ১০.৯৫ গড়ে ২০১ উইকেট দখল করেন। নটসের পক্ষে পেয়েছিলেন ৯২ উইকেট।

১৮৭৭ থেকে ১৮৮২ সাল পর্যন্ত সব মিলিয়ে ইংল্যান্ডের পক্ষে সাতটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৮৭৬-৭৭ মৌসুমে জেমস লিলিহোয়াইট জুনিয়রের নেতৃত্বাধীন দলের সাথে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ঐ সফরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অনুষ্ঠিত ক্রিকেটের ইতিহাসের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেয়ার গৌরব অর্জন করেন। ১৫ মার্চ, ১৮৭৭ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অন্য সকলের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ঘটনাবহুল এ টেস্টে প্রথম শতকধারী চার্লস ব্যানারম্যানকে প্রথম বল করেন। খেলায় তিনি ৩/৫৮ ও ৫/৩৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ১০ ও ২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। স্বাগতিকরা ৪৫ রানে জয় পেলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

১৮৮১-৮২ মৌসুমে ইংরেজ দলকে নেতৃত্ব দিয়ে অস্ট্রেলিয়া সফরে যান। ১০ মার্চ, ১৮৮২ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/২৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে সফরকারীরা ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। উল্লেখ্য, ১৯৪৬-৪৭ মৌসুম পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এটিই সর্বশেষ ড্র টেস্ট ছিল। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর আম্পায়ারিংয়ের দিকে ধাবিত হন। দুইটি প্রথম-শ্রেণীর খেলা পরিচালনায় অগ্রসর হয়েছিলেন। দীর্ঘদিন অসুস্থ ছিলেন। অতঃপর, ১৬ জানুয়ারি, ১৯০৭ তারিখে নটিংহ্যামশায়ারের গেডলিং এলাকায় অবস্থিত নিজ গৃহে ৬৪ বছর ১৪০ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে। গেডলিং চার্চইয়ার্ডে তাঁকে সমাহিত করা হয়। মৃত্যুকালীন ২৪৬২ পাউন্ড ৯ সিলিং ৫ পেনি মূল্যমানের সম্পদ রেখে গেছেন। তাঁর ভ্রাতা উইলিয়াম ১৮৬৬ সালে নটসের পক্ষে একটি খেলায় অংশ নিয়েছিলেন।

Similar Posts

  • |

    ওয়াহাব রিয়াজ

    ২৮ জুন, ১৯৮৫ তারিখে পাঞ্জাবের লাহোরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। বামহাতে ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। পাকিস্তানের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ‘ভিকি’ ডাকনামে পরিচিতি লাভ করেন। দ্রুতগতিসম্পন্ন বামহাতি ফাস্ট-মিডিয়াম বোলার। প্রায়শঃই ভালো-মন্দ নিয়ে খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ফুরফুরে মেজাজে থাকলে তিনি দুর্নিবার, অন্যদিকে, ধারাবাহিকতার অভাবে…

  • | |

    বিজয় হাজারে

    ১১ মার্চ, ১৯১৫ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের মহারাষ্ট্রের সাংলী এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ভারত দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। ভারতের অন্যতম কিংবদন্তীতূল্য ব্যাটসম্যান। চীরপ্রতিদ্বন্দ্বী ও দলীয় সঙ্গী বিজয় মার্চেন্টকে সাথে নিয়ে বোম্বে স্কুলের অগ্রযাত্রায় অংশ নেন। ভারতীয় ক্রিকেটের শুরুর বছরগুলোয়…

  • | |

    বার্কলি গ্যাসকিন

    ২১ মার্চ, ১৯০৮ তারিখে ব্রিটিশ গায়ানার জর্জটাউনে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। দলে মূলতঃ বোলারের দায়িত্ব পালন করে গেছেন। ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিং করতেন। ১৯৪০-এর দশকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে ব্রিটিশ গায়ানার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯২৮-২৯ মৌসুম থেকে ১৯৫৩-৫৪ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী…

  • |

    মাইক ম্যাকাউলি

    ১৯ এপ্রিল, ১৯৩৯ তারিখে নাটালের ডারবানে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। বামহাতে মিডিয়াম কিংবা স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন করেছিলেন। ১৯৬০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ভ্রমণপ্রিয় ক্রিকেটার হিসেবে সম্যক পরিচিতি পান। পাঁচটি রাজ্য দলের পক্ষে খেলেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে…

  • |

    আল-আমিন হোসেন

    ২৭ ডিসেম্বর, ১৯৯২ তারিখে ঝিনাইদহে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। ডানহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিং করেন। এছাড়াও, নিচেরসারিতে ডানহাতি ব্যাটসম্যান হিসেবে মাঠে নেমে থাকেন। বাংলাদেশের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। বাংলাদেশের দক্ষিণে ঝিনাইদহে জন্ম ও শৈশবকাল সেখানেই অতিবাহিত করেন। লিকলিকে গড়নের মিডিয়াম পেসার। মঞ্জুরুল ইসলাম, মাশরাফি বিন মর্তুজা, সৈয়দ রাসেল, রুবেল হোসেন…

  • | |

    এল্টন চিগুম্বুরা

    ১৪ মার্চ, ১৯৮৬ তারিখে মিডল্যান্ডসের কেউইকেউই এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। জিম্বাবুয়ের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সকল স্তরে অংশ নিয়েছেন। জিম্বাবুয়ে দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন। মারকুটে অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলতেন। ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি মিডিয়াম-পেস বোলিং করতে পারেন ও স্ট্যাম্প বরাবর আক্রমণাত্মক ক্রীড়াশৈলী উপস্থাপন করেন। সীমানা…