| |

আলফ্রেড লিটলটন

৭ ফেব্রুয়ারি, ১৮৫৭ তারিখে লন্ডনের ওয়েস্টমিনস্টার এলাকায় জন্মগ্রহণকারী শৌখিন ক্রিকেটার, রাজনীতিবিদ ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষণ কর্মে মনোনিবেশ ঘটাতেন। এছাড়াও, ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে স্লো বোলিং করতেন। ১৮৮০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

ক্রীড়াপ্রেমী পরিবারের সন্তান তিনি। জর্জ উইলিয়াম লিটলটন ও মেরি গ্লিন দম্পতির বারো সন্তানের মধ্যে অষ্টম পুত্র ও সর্বকনিষ্ঠ ছিলেন। তবে, তিনি ক্রিকেটের প্রতিই অধিক অনুরক্ত ছিলেন। এটন কলেজে অধ্যয়ন শেষে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনো করেছেন। শুরুতে এটন ও পরবর্তীতে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় দলের নেতৃত্ব দেন।

১৮৭৬ থেকে ১৮৮৭ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে মিডলসেক্সের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে খেলেছেন। উইকেট-রক্ষণের বাইরে সাতটি প্রথম-শ্রেণীর শতক হাঁকান ও চার হাজারের অধিক রান পেয়েছেন।

১৮৮০ থেকে ১৮৮৪ সময়কালে সব মিলিয়ে ইংল্যান্ডের পক্ষে মাত্র চার টেস্ট খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন। টেস্ট ক্রিকেটের শুরুরদিকে বছরগুলোয় অংশগ্রহণ করেন। ইংল্যান্ডের সেরা শৌখিন উইকেট-রক্ষকের মর্যাদা পান। এছাড়াও, চমৎকার ব্যাটসম্যান ছিলেন। ১৮৮০ সালে নিজ দেশে বিলি মারডকের নেতৃত্বাধীন অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হন। ৬ সেপ্টেম্বর, ১৮৮০ তারিখে লন্ডনের ওভালে অভিষেকঘটা পনেরোজন খেলোয়াড়ের অন্যতম হিসেবে তাঁর টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ১১* ও ১৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তাসত্ত্বেও, ইংল্যান্ড দল প্রথমবারের মতো নিজ দেশে টেস্ট জয়ের সন্ধান পায়। সিরিজের একমাত্র টেস্টে স্বাগতিকরা ৫ উইকেটে জয়লাভ করে।

১৮৮২ সালে অ্যাশেজের উৎপত্তিতে অংশ নিয়েছিলেন। নিজের শেষ টেস্টে অধিনায়ক লর্ড হ্যারিসের নির্দেশক্রমে প্যাড রেখে আন্ডারআর্ম লব বোলিংয়ে অংশ নেন ও ৪/১৯ লাভ করেন।

১৮৮৪ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে স্মরণীয় ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনে অগ্রসর হন। ঐ বছর নিজ দেশে বিলি মারডকের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ১১ আগস্ট, ১৮৮৪ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ৮ ও ১৭ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৪/১৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ঘটনাবহুল এ টেস্টে প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসে এগারোজন খেলোয়াড়ের প্রত্যেকেই বোলিং করেছিলেন। এ পর্যায়ে তিনি বল হাতে নিলে ডব্লিউজি গ্রেস উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলেও স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজে জয়লাভ করে। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

ক্রিকেটের বাইরে নিজের সময়কালে সেরা শৌখিন টেনিস খেলোয়াড় হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। এছাড়াও, র‌্যাকেটসে দক্ষ ছিলেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে ফুটবল খেলায় অংশ নিয়েছেন।

ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর প্রশাসনের দিকে ঝুঁকে পড়েন। ১৮৯৮ সালে এমসিসি’র প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এছাড়াও, ১৮৮১ থেকে ১৮৮৫ ও ১৮৯৯ থেকে ১৯০৩ সময়কালে কমিটিতে যুক্ত ছিলেন।

ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। ১৮ এপ্রিল, ১৮৯২ তারিখে এডিথ সোফি বালফোর নাম্নী এক রমণীর পাণিগ্রহণ করেন। এ দম্পতির দুই পুত্র ও এক কন্যা ছিল। তন্মধ্যে, এক পুত্র নবজাতক অবস্থায় মারা যায়। অপর পুত্র চার্চিলের যুদ্ধকালীন মন্ত্রীসভার সদস্য ছিলেন। সংক্ষিপ্ত সময় অসুস্থ থাকার পর ৫ জুলাই, ১৯১৩ তারিখে লন্ডনের মেরিলেবোন এলাকায় অস্ত্রোপচার শেষে ৫৬ বছর ১৪৮ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে। ৯ অক্টোবর, ১৯১৩ তারিখে মৃত্যু পরবর্তীকালে তাঁর রক্ষিত সম্পদ £৪৯,০৯৯ পাউন্ড-স্টার্লিং ধার্য্য করা হয়।

Similar Posts

  • |

    ইজাজ আহমেদ, ১৯৬৯

    ২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৯ তারিখে পাঞ্জাবের লায়লপুর এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শীতা দেখিয়েছেন। ১৯৯০-এর দশকে পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ‘ইজাজ আহমেদ জুনিয়র’ নামে পরিচিতি লাভ করেন। ১৯৮৯-৯০ মৌসুম থেকে ২০১০-১১ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে অ্যালাইড ব্যাংক,…

  • | | | |

    ইনজামাম-উল-হক

    ৩ মার্চ, ১৯৭০ তারিখে পাঞ্জাবের মুলতানে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, কোচ ও প্রশাসক। মূখ্যতঃ ব্যাটসম্যান ছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। মাঝে-মধ্যে স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। পাকিস্তানের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। পাশাপাশি, পাকিস্তান দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। উইকেটের চতুস্পার্শ্বে শট খেলতেন। লেগ অঞ্চলে খেলতেই অধিক স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন। ভয়ঙ্কর প্রকৃতির পুল ও উঁচু হয়ে…

  • | | |

    সেম্যুর নার্স

    ১০ নভেম্বর, ১৯৩৩ তারিখে বার্বাডোসের জ্যাক-মাই-ন্যানি গ্যাপ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার, প্রশাসক ও কোচ ছিলেন। মূলতঃ মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। এছাড়াও, উইকেটের কাছাকাছি এলাকায় দূর্দান্ত ফিল্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ১৯৬০-এর দশকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। আক্রমণাত্মক ধাঁচে ব্যাটিং করতেন। খেলোয়াড়ী জীবনের শুরুতে…

  • | | |

    অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার

    ২৮ এপ্রিল, ১৯৬৮ তারিখে কেপ প্রদেশের কেপটাউন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যানের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। শীর্ষসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে বামহাতে ইনিংসে উদ্বোধনে নামতেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। জিম্বাবুয়ে দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন। ফ্লাওয়ার ভ্রাতৃদ্বয়ের মধ্যে তিনি জ্যেষ্ঠ। ‘পেটালস’ ডাকনামে পরিচিত অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার ৫ ফুট ১০ ইঞ্চি (১.৭৮ মিটার) উচ্চতার অধিকারী।…

  • | | |

    রাহুল দ্রাবিড়

    ১১ জানুয়ারি, ১৯৭৩ তারিখে মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরে জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ শীর্ষসারির ডানহাতি ব্যাটসম্যান খেলেছেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। মাঝে-মধ্যে উইকেট-রক্ষণ কর্মে অগ্রসর হয়ে থাকেন। ভারতের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন ও দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। সেন্ট যোসেফস বয়েজ হাই স্কুলে অধ্যয়ন করেছেন। খুব সম্ভবতঃ অন্যতম সর্বশেষ ধ্রুপদী মানসম্পন্ন…

  • |

    সায়মন কেরিগান

    ১০ মে, ১৯৮৯ তারিখে ল্যাঙ্কাশায়ারের প্রেস্টন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে খেলছেন। স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামেন। ২০১০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ৫ ফুট ৯ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী তিনি। ইংল্যান্ডের পরবর্তী স্পিনার হিসেবে বিবেচিত হয়েছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ল্যাঙ্কাশায়ার দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, ইংল্যান্ড…