৯ নভেম্বর, ১৮৮৫ তারিখে গ্লুচেস্টারশায়ারের অ্যাপার্লি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও আম্পায়ার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে অগ্রসর হতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯২০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে গ্লুচেস্টারশায়ার দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯০৮ থেকে ১৯৩২ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেন। নয় নম্বর অবস্থানে থেকে গ্লুচেস্টারশায়ার দলের পক্ষে ব্যাটিংয়ের মাধ্যমে খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান। জুনে টনব্রিজে কেন্টের বিপক্ষে খেলায় দলের শূন্যতা পূরণে স্থানীয় ক্লাবের খেলোয়াড় হিসেবে তাঁর অন্তর্ভুক্তি ঘটে। ৩০ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে দলের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হন ও দ্বিতীয় ইনিংসে দলের বিপর্যয়ে অগ্রসর হয়েছিলেন। এরপর, সমারসেটের বিপক্ষে দলের ছয় উইকেটের বিজয়ে অংশ নেন।
ব্যাটিংয়ের অবস্থানের উত্তরণ ঘটিয়ে অনেকবার দলের সঙ্কট মোচনে ভূমিকা রাখলেও জি. এল. জেসপের নেতৃত্বাধীন দলে থেকে নিয়মিত সদস্যের মর্যাদা পাননি। কিন্তু, ১৯১১ সালে চার অঙ্কের কোটা স্পর্শ করলে নিয়মিতভাবে খেলেন ও উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানে পরিণত হন। প্রায় দেড় দশকে দূর্বলতর গ্লুচেস্টাশায়ার দলের প্রধান চালিকাশক্তি ছিলেন।
১৯১১ থেকে ১৯৩২ সাল পর্যন্ত কাউন্টি দলটিতে নিয়মিতভাবে খেলতে থাকেন। ১৯২৫ সালে ল্যাঙ্কাশায়ারের বিপক্ষে ৩৩০ রানের ইনিংস খেলেন। ১৯২৮ সালে সালে নিজের স্বর্ণালী মৌসুম অতিবাহিত করেন। ৪১ বছর বয়সে এসে ৫৫ গড়ে ২৩৬৫ রান তুলেন। ১৫ মৌসুম সহস্র রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। তন্মধ্যে, পাঁচবার দুই হাজার রান তুলেন। সব মিলিয়ে ৫৩ শতক সহযোগে ২৮০৭৫ রান পেয়েছেন। এছাড়াও, মাঝে-মধ্যে মিডিয়াম-পেস বোলিং করে ১৬১ উইকেট দখল করেছেন।
১৯২১ সালে ইংল্যান্ডের পক্ষে একটিমাত্র টেস্টে অংশ নেয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। ঐ বছরের গ্রীষ্মে নিজ দেশে ওয়ারউইক আর্মস্ট্রংয়ের নেতৃত্বাধীন অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হন। ১১ জুন, ১৯২১ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। জ্যাক ডারস্টন, জন ইভান্স ও নাইজেল হেগের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। উভয় ইনিংসেই টেড ম্যাকডোনাল্ডের বল তাঁর উইকেটে আঘাত হানে। তাসত্ত্বেও, দ্বিতীয় ইনিংসে ৪০ রানের কার্যকর ইনিংস খেলেছিলেন। এ পর্যায়ে ফ্রাঙ্ক ওলি’র সাথে ৯৪ রানের জুটি গড়েছিলেন। এছাড়াও, প্রথম ইনিংসে ১১ রান তুলেছিলেন। স্বাগতিকরা ৮ উইকেটে জয় পেলে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়। এরপর আর তাঁকে কোন টেস্টে খেলানো হয়নি। অবশ্য তাঁর ধীরলয়ে ফিল্ডিংও এর জন্যে দায়ী ছিল। অনেকাংশেই বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী ইংল্যান্ড দলে তাঁকে পরীক্ষামূলকভাবে খেলানো হয়।
ক্রিকেটের পাশাপাশি বোলস ও বিলিয়ার্ডে দক্ষতার স্বাক্ষর রাখেন। ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর আম্পায়ারিং জগতে প্রবেশ করেন। দুইটি প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলা পরিচালনা করেছিলেন। ৭ নভেম্বর, ১৯৪৫ তারিখে লন্ডনের ল্যাম্বেথ এলাকার সেন্ট টমাস হাসপাতালে ৬০তম জন্মদিন উদযাপনের দুই দিন পূর্বে ৫৯ বছর ৩৬৩ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে। লন্ডনভিত্তিক ম্যানর পার্ক সিমেট্রিতে তাঁকে সমাহিত করা হয়।
