|

আলফ্রেড বিন্স

২৪ জুলাই, ১৯২৯ তারিখে জ্যামাইকার কিংস্টনে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষণের দায়িত্ব পালনে অগ্রসর হয়েছিলেন। উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ১৯৫০-এর দশকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

১৯৪৯-৫০ মৌসুম থেকে ১৯৫৬-৫৭ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে জ্যামাইকার প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

১৯৫৩ থেকে ১৯৫৬ সাল পর্যন্ত সময়কালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে পাঁচটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯৫০-এর দশকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলে অনেক উইকেট-রক্ষকের অন্যতম হিসেবে খেলার জন্য বিবেচিত হলেও বাদ পড়েন। অংশগ্রহণকৃত পাঁচ টেস্টের কোনটিতেই তেমন ভূমিকা রাখতে পারেননি।

১৯৫২-৫৩ মৌসুমে নিজ দেশে বিজয় হাজারে’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ২১ জানুয়ারি, ১৯৫৩ তারিখে পোর্ট অব স্পেনে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ফ্রাঙ্ক কিং ও ব্রুস পেয়ারডু’র সাথে তাঁর একযোগে অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে চারটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। তবে, পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় এগুতে থাকে।

১৯৫৫-৫৬ মৌসুমে প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে ডেনিস অ্যাটকিনসনের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ড গমন করেন। ৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫৬ তারিখে ডুনেডিনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ১০ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, চারটি ক্যাচ ও একটি স্ট্যাম্পিংয়ের সাথে নিজেকে জড়ান। সফরকারীরা ইনিংস ও ৭১ রানে জয় পেলে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

এরপর, ৩ মার্চ, ১৯৫৬ তারিখে ওয়েলিংটনের ব্যাসিন রিজার্ভে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার সন্ধান পান। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ১০ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি ২৭ ও ৫* রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, তিনটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেছিলেন। স্বাগতিকরা ৯ উইকেটে পরাজিত হলে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।

একই সফরের ৯ মার্চ, ১৯৫৬ তারিখে অকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ০ ও ২০ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, তিনটি ক্যাচ ও একটি স্ট্যাম্পিংয়ের সাথে নিজেকে জড়ালেও ২৬ বছর ও ৪৫ টেস্টে অংশ নেয়ার পর নিউজিল্যান্ডের প্রথম টেস্ট বিজয়কে আটকাতে পারেননি। খেলায় তাঁর দল ১৯০ রানে পরাজিত হলেও ৩-১ ব্যবধানে সিরিজে জয়লাভ করে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

২৯ ডিসেম্বর, ২০১৭ তারিখে ফ্লোরিডার ওয়েস্টন এলাকায় ৮৮ বছর ১৫৮ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

Similar Posts

  • |

    ডিক মোৎজ

    ১২ জানুয়ারি, ১৯৪০ তারিখে ক্যান্টারবারির ক্রাইস্টচার্চে জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৬০-এর দশকে নিউজিল্যান্ড দলের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। লিনউড হাই স্কুলে অধ্যয়ন করেছেন। তবে, বেশীদূর পড়াশুনো করতে পারেননি। উদীয়মান ফাস্ট বোলার হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন। এছাড়াও, মারকুটে ভঙ্গীমায় ছক্কা…

  • |

    রেজিনাল্ড অ্যালেন

    ২ জুলাই, ১৮৫৮ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের গ্লেব এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। পাশাপাশি, ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৮৮০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে নিউ সাউথ ওয়েলসের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৮৭৮-৭৯ মৌসুম থেকে ১৮৮৭-৮৮ মৌসুম পর্যন্ত দলটির পক্ষে খেলেন। সমগ্র খেলোয়াড়ী…

  • |

    নেভিল টাফনেল

    ১৩ জুন, ১৮৮৭ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের পাঞ্জাবের সিমলায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে স্লো বোলিং করতে পারতেন। ১৯১০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। কার্লটন ও লরা টাফনেল দম্পতির চার পুত্র ও এক কন্যার মধ্যে তিনি দ্বিতীয় পুত্র সন্তান ছিলেন। পরবর্তীতে, ভ্রাতাদের সাথে তিনিও…

  • |

    উদারা জয়সুন্দারা

    ৩ জানুয়ারি, ১৯৯১ তারিখে মিনুওয়াঙ্গোদায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ শীর্ষসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলছেন। বামহাতে ব্যাটিং করেন। এছাড়াও, লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী। ২০১০-এর দশকে শ্রীলঙ্কার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। অনূর্ধ্ব-১৯ বয়সভিত্তিক খেলার আওতায় চিহ্নিত হন। ২০১০ সালে নিউজিল্যান্ডে অনুষ্ঠিত আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় ক্রমাগত রান সংগ্রহ করে সকলের কাছে পরিচিতি লাভ করেন। ঐ প্রতিযোগিতায় সর্বাধিক রান…

  • | | |

    লেন হাটন

    ২৩ জুন, ১৯১৬ তারিখে ইয়র্কশায়ারের ফালনেক এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ও পেশাদার ক্রিকেটার এবং প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ইংল্যান্ড দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। ইংল্যান্ডের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছেন। ধ্রুপদীশৈলীর ব্যাটসম্যান হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন। ১৯৩৪ থেকে ১৯৫৫ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর…

  • | |

    আল্ফ গোভার

    ২৯ ফেব্রুয়ারি, ১৯০৮ তারিখে সারের এপসোমের উডকোট এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অংশগ্রহণ করেছিলেন। ১৯২৮ সালে ভবিষ্যতের শ্বশুর বিল ব্রুক অপর দুই সারে ও ইংল্যান্ডের ক্রিকেটার অ্যান্ডি স্যান্ডহাম এবং হার্বার্ট স্ট্রাডউইকের কাছ থেকে আর্থিক…