২৪ জানুয়ারি, ১৮৯১ তারিখে স্কটল্যান্ডের এডিনবরায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে দক্ষ ছিলেন। ১৯২০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
মিডিয়াম পেস সহযোগে ইন-সুইঙ্গার ও আউট-সুইঙ্গার – উভয় ধরনের বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। অপরিসীম উদ্যম নিয়ে সারাদিনই বল করতে পারতেন। এছাড়াও, লেগ-সাইড থেকে বলকে কাট করাতে সক্ষম ছিলেন। নিশ্চল উইকেটেও উভয় দিক দিয়েই বলে স্পিন আনতে পারতেন। অনেক সময় তিনি অপ্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠতেন। অবশ্য, ভালোমানের পিচে ও মানসম্মত প্রতিপক্ষের বিপক্ষে পর্যাপ্ত পেস আনয়ণে সক্ষম ছিলেন না।
ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে হ্যাম্পশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯০৭ থেকে ১৯৩৬ সাল পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। শক্ত মজবুত গড়নের অধিকারী ও নির্ভরযোগ্য অল-রাউন্ডার ছিলেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের আগে-পিছে প্রায় তিন দশক বর্ণাঢ্যময় খেলোয়াড়ে পরিণত হন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অন্যতম শীর্ষ উইকেট সংগ্রাহক ছিলেন। ১৯২৭ সালে পোর্টসমাউথে ওয়ারউইকশায়ারের বিপক্ষে ৭/৮ বোলিং করেছিলেন। ১৯১৯ সালে ওভালে সারের বিপক্ষে ৭/৪৭ পান। এ পর্যায়ে ওভালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শেষে ও ১৯২৭ সালে তিনটি পরাজয়ের একটিতে সারে দল পরাজিত হয়েছিল।
১৬ বছর বয়সে ১৯০৭ সালে হ্যাম্পশায়ারের পক্ষে প্রথমবারের মতো খেলতে নামেন। ১৯১০ সাল পর্যন্ত দলে অনিয়মিতভাবে খেলার সুযোগ পেতেন। তবে, ১৯১২ সালে কাউন্টি ক্রিকেটে তৃতীয় সর্বোচ্চ উইকেট সংগ্রহকারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। ১৭ গড়ে ১১২ উইকেট দখল করেছিলেন। ১৯১৩ সালে আঘাতের কবলে পড়েন। ১৯১৪ সালে পুণরায় নিজেকে মেলে ধরতে সচেষ্ট হন। ২০ গড়ে ১৬৪ উইকেট সংগ্রহ করেন।
১৯২১ সালে অস্ট্রেলীয় একাদশের বিপক্ষে ব্যর্থতার পরিচয় দেন। অস্ট্রেলিয়ার শক্ত ও নিষ্প্রাণ পিচে অধিকাংশ ইংরেজ স্পিনারের ব্যর্থতার সাথে তিনিও এর ব্যতিক্রম ছিলেন না। এমনকি ইংরেজ বোলিংয়ের মান দূর্বলতর হওয়া সত্ত্বেও তাঁকে অ্যাশেজ সফরে রাখার জন্যে বিবেচনায় আনা হয়নি।
১৯২২ থেকে ১৯২৩ সময়কালে সব মিলিয়ে ইংল্যান্ডের পক্ষে মাত্র পাঁচ টেস্টে অংশ নেয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। সবগুলো টেস্টই দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে খেলেছিলেন। ১৯২২-২৩ মৌসুমে ফ্রাঙ্ক মানের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সাথে দক্ষিণ আফ্রিকা গমন করেন। ২৩ ডিসেম্বর, ১৯২২ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। আর্থার জিলিগান, আর্থার কার, ফ্রাঙ্ক মান ও গ্রিভিল স্টিভেন্সের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ৪১* ও ০ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। এছাড়াও, ৪/৩৭ ও ৪/১৩২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। সফরকারীরা ১৬৮ রানে পরাজিত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
একই সফরের ১৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯২৩ তারিখে ডারবানে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগতভাবে সফল ছিলেন। দক্ষিণ আফ্রিকার দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বেকার সেরা ছিল ৫/৮৮। খেলায় তিনি ২/৪৬ ও ৫/৭৬ লাভ করেন। এছাড়াও, ১৪ ও ১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। সফরকারীরা ১০৯ রানে জয়লাভ করলে ২-১ ব্যবধানে সিরিজে জয় পায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
১৫ নভেম্বর, ১৯৫৯ তারিখে হ্যাম্পশায়ারের ল্যাংডাউন হিদ এলাকায় ৬৮ বছর ২৯৫ দিন বয়সে তাঁর দেহত্যাগ ঘটে।
