২৫ ডিসেম্বর, ১৯৮৪ তারিখে গ্লুচেস্টারের জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ ইনিংস উদ্বোধনে অগ্রসর হতেন। বামহাতে ব্যাটিং কর্মে মনোনিবেশ ঘটানোর পাশাপাশি ডানহাতে স্লো বোলিংয়ে পারদর্শী তিনি। ইংল্যান্ডের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন ও দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন।
‘কুকি’ কিংবা ‘শেফ’ ডাকনামে পরিচিত অ্যালাস্টার কুক ৬ ফুট ২ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী। বেডফোর্ড স্কুলে অধ্যয়ন করেছেন। তাঁর ন্যায় খুব কমসংখ্যক ক্রিকেটারই সহজাত প্রকৃতির ধ্রুপদীশৈলীর অধিকারী বামহাতে উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানরূপে পরিচিতি ঘটাতে পেরেছেন। ১৪ ও ১৫ বছর বয়সে যথাক্রমে ক্লাব ও কাউন্টি ক্রিকেটের সাথে যুক্ত হয়েছেন। কব্জির মোচরে দৃষ্টিনন্দন ও প্রভূত্বসুলভ ভঙ্গীমায় দাঁড়িয়ে থেকে ক্রমাগত স্ট্রোক প্লের অপূর্ব প্রদর্শনীতে যুক্ত রয়েছেন। এরফলে, খুব দ্রুত নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে এগিয়ে আসেন ও ইংল্যান্ড দল নির্বাচকমণ্ডলীর দৃষ্টি আকর্ষণে সক্ষম হন।
২০০৩ সাল থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রেখেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে এসেক্স দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, মেরিলেবোন ক্রিকেট ক্লাব ও বেডফোর্ডশায়ারের পক্ষে খেলেছেন। ৩ সেপ্টেম্বর, ২০০৩ তারিখে চেমসফোর্ডে অনুষ্ঠিত নটস বনাম এসেক্সের মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান।
২০০৬ থেকে ২০১৮ সময়কালে ইংল্যান্ডের পক্ষে সর্বমোট ১৬১ টেস্ট, ৯২টি ওডিআই ও চারটিমাত্র টি২০আইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। টেস্ট ক্রিকেটে তাঁর অভিষেক পর্বটি অনেকটা আকস্মিকভাবে ঘটেছিল। ২০০৫-০৬ মৌসুমে অ্যান্ড্রু ফ্লিনটফের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দল ভারত গমন করে। সুদূর ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জে ইংল্যান্ড ‘এ’ দলের সদস্যরূপে অবস্থানকালীন দল নির্বাচকমণ্ডলী কর্তৃক আহুত হয়ে জরুরীভাবে দুইদিন পর নাগপুরে চলে আসেন। এ পর্যায়ে মার্কাস ট্রেসকোথিক ও মাইকেল ভন আঘাতের কবলে পড়েছিলেন। ২১ বছর বয়সে ১ মার্চ, ২০০৬ তারিখে নাগপুরে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ইয়ান ব্ল্যাকওয়েল ও মন্টি পানেসরের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। আঘাতে জর্জড়িত দলে খেলে ৬০ ও ১০৪ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছিলেন। এছাড়াও, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। ম্যাথু হগার্ডের দূর্দান্ত বোলিংশৈলী প্রদর্শন সত্ত্বেও খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ফলাফলবিহীন অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
পরিপক্কতা আসার পর ২০০৭-০৮ মৌসুমে মাইকেল ভনের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের সদস্যরূপে শ্রীলঙ্কা সফরে যান। এসএসসি ও ক্যান্ডিতে মুত্তিয়া মুরালিধরনের বল যথার্থভাবে মোকাবেলা করে স্বীয় দক্ষতার স্বাক্ষর রাখেন। ১৮ ডিসেম্বর, ২০০৭ তারিখে গলেতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ১৩ ও ১০৮ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, মাহেলা জয়াবর্ধনে’র অসাধারণ দ্বি-শতকের কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে নেয়।
২০০৮ সালে নিজ দেশে গ্রায়েম স্মিথের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ৭ আগস্ট, ২০০৮ তারিখে ওভালে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার সন্ধান পান। প্রথম ইনিংসে ৩৩ রানে পৌঁছানোকালে টেস্টে ২৫০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। খেলায় তিনি ৩৯ ও ৬৭ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে মাখায়া এনটিনি’র শিকারে পরিণত হন। এছাড়াও, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। দলীয় অধিনায়কের অসাধারণ শতকের কল্যাণে স্বাগতিকরা ৬ উইকেটে জয়লাভ করলেও ২-১ ব্যবধানে সিরিজে পরাজিত হয়।
২০০৯ সালে নিজ দেশে ক্রিস গেইলের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ১৪ মে, ২০০৯ তারিখে চেস্টার-লি-স্ট্রিটে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ১৬০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, জেমস অ্যান্ডারসনের অসাধারণ বোলিং দাপটে সফরকারীরা ইনিংস ও ৮৩ রানে পরাভূত হলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
এরপর, ডারবানের কিংসমিডে শতক হাঁকিয়ে ইংল্যান্ডকে সিরিজ ড্র করতে যথাযথ ভূমিকা রাখেন। ২০০৯-১০ মৌসুমে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে অ্যান্ড্রু স্ট্রসের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। ১৬ ডিসেম্বর, ২০০৯ তারিখে সেঞ্চুরিয়নে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১৫ ও ১২ রান সংগ্রহসহ তিনটি ক্যাচ তালুবন্দী করেন। তবে, গ্রায়েম সোয়ানের অসামান্য অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
একই সফরের ২৬ ডিসেম্বর, ২০০৯ তারিখে ডারবানে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ব্যাট হাতে নিয়ে ১১৮ রান সংগ্রহসহ একটি রান-আউটের সাথে নিজেকে জড়ান। তবে, গ্রায়েম সোয়ানের অসাধারণ ক্রীড়া নৈপুণ্যের কারণে সফরকারীরা ইনিংস ও ৯৮ রানের ব্যবধানে জয় পেয়ে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
২০১০-১১ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ইংল্যান্ডের অ্যাশেজ করায়ত্ত্বে অপূর্ব ক্রীড়া নৈপুণ্য প্রদর্শনে অগ্রসর হন। ঐ মৌসুমে অ্যান্ড্রু স্ট্রসের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের অন্যতম সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া সফর করেন। পুরো সিরিজে ব্যাটিং দাপটের স্বাক্ষর রাখেন। ৭৬৬ রান সংগ্রহ করে স্বর্ণালী মুহূর্ত অতিবাহিত করেন। সংখ্যার দিক দিয়ে এটি যে-কোন ইংরেজের দ্বিতীয় সেরার মর্যাদা পায়। পরবর্তী গ্রীষ্মে এজবাস্টনে ব্যক্তিগত সেরা ২৯৪ রানের ইনিংস খেলেন।
৩ জানুয়ারি, ২০১১ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। দূর্দান্ত ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনে অগ্রসর হন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ১৮৯ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তাঁর অসাধারণ ব্যাটিং সাফল্যে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ৮৩ রানে পরাভূত হলে ৩-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভসহ ম্যান অব দ্য সিরিজের পুরস্কার পান।
২০১১ সালে নিজ দেশে তিলকরত্নে দিলশানের নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের মুখোমুখি হন। ২৬ মে, ২০১১ তারিখে কার্ডিফে অনুষ্ঠিত সফররত শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। দলের একমাত্র ইনিংসে ১৩৩ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, জোনাথন ট্রটের অসাধারণ দ্বি-শতকের কল্যাণে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ১৪ রানে জয় পেলে সিরিজে এগিয়ে যায়।
এরপর, ৩ জুন, ২০১১ তারিখে লর্ডসে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ৯৬ ও ১০৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, প্রতিপক্ষীয় দলনেতার অনবদ্য ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
বাংলাদেশে সংক্ষিপ্ত সময় অবস্থানের পর ২০১২-১৩ মৌসুমে ইংল্যান্ড দলের পূর্ণাঙ্গকালীন অধিনায়ক হিসেবে মনোনীত হন। অধিনায়ক হিসেবে তিন দশক পর ভারতের মাটিতে টেস্ট সিরিজ জয়ে অগ্রসর হন। নিজ দেশে অ্যাশেজ অক্ষত রাখেন। ডাউন আন্ডারের কাছে ধবল ধোলাইয়ের শিকার হলে অ্যাশেজ হাতছাড়া হয় ও তাঁর অধিনায়কত্ব কেড়ে নেয়া হয়। ৫৯ টেস্টে দলকে নেতৃত্ব দিয়ে ২৪টিতে জয় পায় তাঁর দল। এরফলে, মাইকেল ভনের (২৬) পর যৌথভাবে ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় সফলতম অধিনায়কের মর্যাদা পান। এছাড়াও, ২২ টেস্টে পরাজিত হলে অমর্যাদাকর রেকর্ডের সাথে নিজেকে যুক্ত করেন।
২০১২-১৩ মৌসুমে ইংরেজ দলকে নেতৃত্ব দিয়ে নিউজিল্যান্ড সফরে যান। ৬ মার্চ, ২০১৩ তারিখে ডুনেডিনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে ব্যাট হাতে নিয়ে ১০ ও ১১৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
২০১৩ সালে নিজ দেশে ব্রেন্ডন ম্যাককালামের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। ২৪ মে, ২০১৩ তারিখে লিডসে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে ব্যক্তিগত সফলতার সন্ধান পান। দ্বিতীয় ইনিংসে ১০৬ রানে পৌঁছানোকালে টেস্টে ৭৫০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। খেলায় তিনি ৩৪ ও ১৩০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, গ্রায়েম সোয়ানের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়া নৈপুণ্যে স্বাগতিকরা ২৪৭ রানে জয়লাভ করলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।
একই বছর নিজ দেশে মাইকেল ক্লার্কের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ১৮ জুলাই, ২০১৩ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে খেলায় তিনি ১২ ও ৮ রান করে সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, জো রুটের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ৩৪৭ রানের বিশাল ব্যবধানে পরাভূত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।
একই সফরের ২১ আগস্ট, ২০১৩ তারিখে ওভালে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে খেলায় তিনি ২৫ ও ৩৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। শেন ওয়াটসনের দূর্দান্ত ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন সত্ত্বেও খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে স্বাগতিকরা ৩-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।
২০১৩-১৪ মৌসুমে ইংরেজ দলকে নেতৃত্ব দিয়ে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ২৬ ডিসেম্বর, ২০১৩ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে খেলায় তিনি ২৭ ও ৫১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, মিচেল জনসনের অসাধারণ বোলিং সাফল্যে ঐ টেস্টে সফরকারীরা ৮ উইকেটে পরাজয়বরণ করলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৪-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।
২০১৫ সালে ইংরেজ দলকে নেতৃত্ব দিয়ে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে যান। ১ মে, ২০১৫ তারিখে ব্রিজটাউনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে খেলায় তিনি ১০৫ ও ৪ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। তবে, জার্মেইন ব্ল্যাকউডের ব্যাটিং দৃঢ়তায় স্বাগতিকরা ৫ উইকেটে জয় পেলে সিরিজ ড্র করতে সক্ষম হয়।
এরপর, নিজ দেশে ব্রেন্ডন ম্যাককালামের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। পুরো সিরিজে অসাধারণত্বের পরিচয় দেন। ২১ মে, ২০১৫ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে খেলায় তিনি ১৬ ও ১৬২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, বেন স্টোকসের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়া নৈপুণ্যে স্বাগতিকরা ১২৪ রানে জয়লাভ করলে সিরিজে এগিয়ে যায়।
একই সফরের ২৯ মে, ২০১৫ তারিখে লিডসের হেডিংলিতে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে ব্যক্তিগত সফলতার ছাঁপ রাখেন। দ্বিতীয় ইনিংসে ৫৬ রানে পৌঁছানোকালে টেস্টে ৯০০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। ব্যাট হাতে নিয়ে ৭৫ ও ৫৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। বিজে ওয়াটলিংয়ের অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ১৯৯ রানে পরাজয়বরণ করলে সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় শেষ হয়। এ সিরিজে ৩০৯ রান সংগ্রহ করে ট্রেন্ট বোল্টের সাথে যৌথভাবে ম্যান অব দ্য সিরিজের পুরস্কার লাভ করেন।
২০১৮ সালে নিজ দেশে বিরাট কোহলি’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। অসাধারণ ক্রীড়া নৈপুণ্যের স্বাক্ষর রাখেন। খেলায় তিনি ৭১ ও ১৪৭ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। ১১৮ রানে জয়লাভ করলে স্বাগতিকরা ৪-১ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার পান। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
