৯ এপ্রিল, ১৯৪৬ তারিখে কেন্টের বেলভেডেরে এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার। মূলতঃ উইকেট-রক্ষণ কর্মে নিযুক্ত থাকতেন। উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ডানহাতে ব্যাটিং ও ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করতে পারতেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
সন্দেহাতীতভাবে ইংল্যান্ডের সর্বশ্রেষ্ঠ উইকেট-রক্ষকের মর্যাদা পেয়েছেন; এমনকি বিশ্বের সেরাদের কাতারে রয়েছেন। শার্টের কলার উঠিয়ে রাখতেন। ক্রিকেট বিশ্লেষকদের অনেকেরই অভিমত, ইংল্যান্ডের সেরা ক্রিকেটার তিনি। শারীরিক সচেতনতার পরিচয় দিতেন ও খুব কমই আঘাতের কারণে খেলায় অনুপস্থিত থাকতেন। স্পিনার ও পেসার – উভয় ধরনের বোলারদের বিপক্ষেই সমান ভূমিকা রাখতেন। ব্যাটসম্যান হিসেবে তিনি দারুণ খেলতেন। পাঁচটি টেস্ট শতক হাঁকিয়েছেন। পরিস্থিতিমাফিক আক্রমণাত্মক কিংবা রক্ষণাত্মক – উভয় ধরনের খেলায় অগ্রসর হতেন। সর্বাপেক্ষা অনুপযোগী পিচে উইকেটের পিছনে অবস্থান করেও বেশ দক্ষতা সহকারে সামাল দিতেন। উইকেট-রক্ষণে অংশ নেয়ার পূর্বে দুই হাত গরম জলে পরিস্কার করার ন্যায় অদ্ভূত বাতিক ছিল।
‘নটি’ কিংবা ‘ফ্লিয়া’ ডাকনামে ভূষিত অ্যালান নট ৫ ফুট ৮ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী। কেন্টভিত্তিক নর্দাম্বারল্যান্ড হিদ সেকেন্ডারি মডার্ন স্কুলে অধ্যয়ন করেছেন। ১৯৬৪ থেকে ১৯৮৫ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে কেন্ট ও অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে তাসমানিয়ার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, ইন্টারন্যাশনাল ক্যাভালিয়ার্স, এইআর জিলিগান একাদশ, এমসিসি সভাপতি একাদশ, এমসিসি ট্যুরিং টিম ও সাউথ আফ্রিকান ব্রিউয়ারিস ইংলিশ একাদশের পক্ষে খেলেছেন।
১৯৬৭ থেকে ১৯৮১ সময়কালে ইংল্যান্ডের পক্ষে ৯৫ টেস্ট ও ২০টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৬৭ সালে নিজ দেশে হানিফ মোহাম্মদের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের মুখোমুখি হন। ১০ আগস্ট, ১৯৬৭ তারিখে নটিংহামে অনুষ্ঠিত সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। জিওফ আর্নল্ডের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। একবার ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেলেও শূন্য রানে বিদেয় নিয়েছিলেন। তবে, সাতটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেছিলেন। স্বাগতিকরা ১০ উইকেটে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
১৯৭০-৭১ মৌসুমে রে ইলিংওয়ার্থের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সদস্যরূপে প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ড গমন করেন। ৫ মার্চ, ১৯৭১ তারিখে অকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। কয়েকটি ব্যক্তিগত সাফল্যের সাথে নিজেকে জড়ান। প্রথম ইনিংসে ৯৭ রানে পৌঁছানোকালে টেস্টে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ সংগ্রহ অতিক্রম করেন। এ পর্যায়ে টেস্টে নিজস্ব প্রথম শতক হাঁকান। এছাড়াও, দ্বিতীয় ইনিংসে ১১ রানে পৌঁছানোকালে টেস্টে ১০০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। ১০১ ও ৯৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে সফরকারীরা বিজয়ী হয়।
১৯৭৭ সালে নিজ দেশে গ্রেগ চ্যাপেলের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ২৫ আগস্ট, ১৯৭৭ তারিখে লন্ডনের কেনসিংটন ওভালে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। স্মর্তব্য যে, বিশ্ব সিরিজ ক্রিকেট প্রতিযোগিতা শুরুর পূর্বে এটি সর্বশেষ টেস্ট ছিল। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে একটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলেও সফরকারীরা ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
১৯৮১ সালে নিজ দেশে কিম হিউজের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত অ্যাশেজ টেস্টে নিজের সর্বশেষ ইনিংস থেকেও অর্ধ-শতক হাঁকিয়েছিলেন। ২৭ আগস্ট, ১৯৮১ তারিখে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের ষষ্ঠ ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ৩৬ ও ৭০* রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে একটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেছিলেন। তবে, ডেনিস লিলি’র আপ্রাণ বোলিং প্রয়াস সত্ত্বেও খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে স্বাগতিকরা ৩-১ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়। পাশাপাশি, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
অবসর গ্রহণকালীন টেস্টগুলো থেকে ২৫০ ক্যাচ ও ১৯টি স্ট্যাম্পিং করে বিশ্বরেকর্ডের অধিকারী ছিলেন। ব্যাট হাতে নিয়েও বেশ সাহসী চিত্তে, অপ্রচলিত ধাঁচে দলের সঙ্কটকালে রুখে দাঁড়াতেন। প্রায়শঃই বলকে স্লিপ অঞ্চল দিয়ে ঠেলে দিতেন। পাঁচটি টেস্ট শতক হাঁকান। তন্মধ্যে, অ্যাডিলেডে ডেনিস লিলি ও জেফ থমসনের বল থেকেও এ সাফল্য পেয়েছেন।
বিশ্ব সিরিজ ক্রিকেটে অংশ নেয়ার ফলে তাঁর খেলোয়াড়ী জীবনে বিরূপ প্রভাব ফেলে। ১৯৮১ সালের শীতকালে তৎকালীন নিষিদ্ধ ঘোষিত দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে বিদ্রোহী দলের সাথে গমনের ফলে তাঁর টেস্ট খেলোয়াড়ী জীবনের সমাপ্তি ঘটে।
১৯৭০ সালে উইজডেন কর্তৃক অন্যতম বর্ষসেরা ক্রিকেটারের সম্মাননা লাভ করেন। ২০০৯ সালে আইসিসি ক্রিকেট হল অব ফেমে অন্তর্ভূক্ত হন। ২০১৯ সালে নববর্ষের সম্মাননা হিসেবে এমবিই উপাধীতে ভূষিত হন। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। জেএ নট নামীয় সন্তানের জনক।
