৪ সেপ্টেম্বর, ১৯৮১ তারিখে চাঁপাইনবাবগঞ্জে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। দলে মূলতঃ বোলারের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ডানহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ২০০০-এর দশকে বাংলাদেশের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
প্রতিষ্ঠিত প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটারের মর্যাদাপ্রাপ্ত হন। ২০০০-০১ মৌসুম থেকে ২০০৮-০৯ মৌসুম পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর বাংলাদেশী ক্রিকেটে রাজশাহী বিভাগের প্রতিনিধিত্ব করতেন। ৫৪ খেলায় অংশ নিয়ে ১৮২ উইকেট দখল করেন।
২০০২ থেকে ২০০৪ সময়কালে বাংলাদেশের পক্ষে তিনটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। তবে, অংশগ্রহণকৃত টেস্টগুলোর কোনটিতেই উইকেট লাভে সক্ষমতা দেখাতে পারেননি। এরফলে, স্বল্পকালীন টেস্ট খেলোয়াড়ী জীবনে অমর্যাদাকর রেকর্ডের সাথে নিজেকে জড়ান। ২৬১ বল ডেলিভারি করে ২২১ রান খরচ করেও কোন উইকেটের সন্ধান পাননি। এছাড়াও, টেস্ট ক্রিকেট অভিষেকে অগৌরবজনক অধ্যায় রচনা করেন। বাংলাদেশের একমাত্র ক্রিকেটার হিসেবে অভিষেক টেস্টের উভয় ইনিংসে জোড়া শূন্য লাভ করেন।
২০০২ সালে খালেদ মাসুদের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশী দলের সাথে শ্রীলঙ্কা গমন করেন। ২১ জুলাই, ২০০২ তারিখে কলম্বোর পিএসএসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক শ্রীলঙ্কা দলের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। এহসানুল হক, হান্নান সরকার ও তালহা জুবায়ের এবং শ্রীলঙ্কার ডব্লিউআরএস ডি সিলভা’র সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক ঘটে। কলম্বোর পি. সারাভানামুত্তু স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ঐ টেস্টের দুই ইনিংসেই যথাক্রমে মুত্তিয়া মুরালিধরন ও ডব্লিউআরএস ডি সিলভা’র বলে বোল্ড হন। মুত্তিয়া মুরালিধরনের অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে ঐ খেলায় স্বাগতিকরা ইনিংস ও ১৯৬ রানের ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
২০০৪ সালে জাতীয় দল থেকে বাদ পড়ার পর ওডিআইয়ে খেলার সুযোগ পাননি। ঘরোয়া ক্রিকেটে বেশ ভালো করলেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে একই ধারা অব্যাহত রাখতে পারেননি। ২০০৩-০৪ মৌসুমে হাবিবুল বাশারের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশী দলের সদস্যরূপে জিম্বাবুয়ে গমন করেন। ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০০৪ তারিখে বুলাওয়েতে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে স্বাগতিক জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্ট খেলেন। এ টেস্টেও ০/৩০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ে গড়ালেও সফরকারীরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজে পরাজয়বরণ করে।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে প্রত্যাখ্যাত হলেও রাজশাহীর পক্ষে ঘরোয়া প্রতিযোগিতাসমূহে সুন্দর খেলা উপহার দেন। ক্লাব ক্রিকেটে সর্বদাই ভালোমানের পেস বোলাররূপে বিবেচিত হতেন। ৫৪টি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিয়ে ২৫.৭১ গড়ে ১৮২ উইকেট দখল করেছিলেন। ২০০৯ সালে খেলা থেকে অবসর নেয়ার পূর্ব-পর্যন্ত রাজশাহী বিভাগের পক্ষে খেলা চালিয়ে যান। এরপর কোচিং জগতের দিকে ধাবিত হন।
