অজয় রাত্রা

১৩ ডিসেম্বর, ১৯৮১ তারিখে হরিয়াণার ফরিদাবাদে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও, ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংশৈলী প্রদর্শন করতেন। ২০০০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

‘বান্টি’ ডাকনামে পরিচিতি পান। হরিয়াণা থেকে এসেছেন। ক্রিকেটে অংশ নিতে তাঁকে বেশ কাঠখড় পুড়াতে হয়েছে। ১৯৯৮-৯৯ মৌসুম থেকে ২০১২-১৩ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে উত্তরাঞ্চল, হরিয়াণা, হিমাচলপ্রদেশ, গোয়া ও ত্রিপুরার প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

স্ট্যাম্পের উভয় পার্শ্বে খেলার উপযোগী উইকেট-রক্ষকের সন্ধানকালে ভারতীয় দল নির্বাচকমণ্ডলীর দৃষ্টি আকর্ষণে সক্ষম হন। ১২ মাসের জন্যে ছয়জন উইকেট-রক্ষকের অন্যতম হিসেবে পরীক্ষামূলকভাবে তাঁক রাখা হয়। ২০০০ সালে আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতার শিরোপা বিজয়ী দলের সদস্য ছিলেন। ব্যাঙ্গালোরভিত্তিক ন্যাশনাল ক্রিকেট একাডেমির প্রথম পর্যায়ের শিক্ষার্থী ছিলেন। রড মার্শসৈয়দ কিরমানি’র ছত্রচ্ছায়ায় নিজেকে গড়ে তুলেন।

২০০২ সালে ভারতের পক্ষে ছয়টিমাত্র টেস্ট ও ১২টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছেন। ২০০১-০২ মৌসুমে সৌরভ গাঙ্গুলী’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের সাথে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে যান। ১৯ এপ্রিল, ২০০২ তারিখে পোর্ট অব স্পেনের কুইন্স পার্ক ওভালে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। তবে, প্রথম ইনিংসে শূন্য রানে তাঁকে মাঠ ত্যাগ করতে হয়েছিল। দীপ দাসগুপ্তা’র স্থলাভিষিক্ত হয়েছিলেন তিনি। দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ২ রান সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন। তবে, ভিভিএস লক্ষ্মণের অসামান্য ব্যাটিং নৈপুণ্যে স্বাগতিকরা ৩৭ রানে পরাজিত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে। এরফলে, ২৬ বছর পর ঐ মাঠে ভারত দল জয়লাভে সক্ষম হয়। প্রথম দুই টেস্ট থেকে তিনি মাত্র ১৬ রান সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন।

নিজস্ব তৃতীয় টেস্টে শতক হাঁকালেও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেননি। ২০ বছর বয়সে ২০০২ সালে ভারতের সর্বকনিষ্ঠ উইকেট-রক্ষক হিসেবে টেস্টে শতক হাঁকানোর গৌরব অর্জন করেন। এছাড়াও, বিদেশের মাটিতে দ্বিতীয় ভারতীয় উইকেট-রক্ষক হিসেবে এ সফলতা পান। অ্যান্টিগুয়ায় স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ভারতের ব্যাপক রান সংগ্রহকালীন ভিভিএস লক্ষ্মণের সাথে বড় ধরনের জুটি গড়েন। এতে তাঁর অপরিসীম ধৈর্য্যশক্তির পরিচয় পাওয়া যায়। প্রথম ইনিংসে ১১৫ রানের অপরাজিত ইনিংস উপহার দিয়েছিলেন তিনি। পাশাপাশি, রিডলি জ্যাকবসের সাথে একই টেস্টে উইকেট-রক্ষক হিসেবে শতরানের কৃতিত্বের অধিকারী হন। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হয়। তাসত্ত্বেও অনবদ্য ক্রীড়া নৈপুণ্য প্রদর্শনের কারণে ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেছিলেন তিনি।

কিন্তু, পরবর্তী পাঁচ ইনিংসে ব্যর্থতার পরিচয় দেন। এক পর্যায়ে টেস্টে সর্বকনিষ্ঠ উইকেট-রক্ষক হিসেবে পার্থিব প্যাটেলের কাছে তাঁর স্থানচ্যূতি ঘটে। ২০০২ সালে সৌরভ গাঙ্গুলী’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের সাথে ইংল্যান্ড গমন করেন। ৫ সেপ্টেম্বর, ২০০২ তারিখে ওভালে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। ৮ রান সংগ্রহ করেন ও দুইটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেছিলেন। রাহুল দ্রাবিড়ের অসাধারণ ব্যাটিংয়ের কারণে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায় ও চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ১-১ ব্যবধানে শেষ হয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

গ্লাভস হাতে রাহুল দ্রাবিড় দায়িত্ব নিলে ভারত দল অতিরিক্ত ব্যাটসম্যানের সন্ধান পায়। ২০০২ সালে ইংল্যান্ড সফরে তাঁকে টেস্ট দলে রাখা হলেও পার্থিব প্যাটলকে খেলানো হয়। এরপর, এ সফরের পর আর হরিয়াণা-স্ট্যাম্পারকে ভারতের পক্ষে খেলতে দেখা যায়নি।

টেস্টের তুলনায় ওডিআইয়েই অধিক সফলতার স্বাক্ষর রেখেছিলেন। ১৯ জানুয়ারি, ২০০২ তারিখে কলকাতায় অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন। স্ট্যাম্পের পিছনে আত্মবিশ্বাসের সাথে দূর্দান্ত ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনের ফলে দলের স্থায়ী সদস্যের মর্যাদা পান। তবে, ৮টি ওডিআই থেকে ১২.৮৫ গড়ে রান সংগ্রহের কারণে দীর্ঘদিন ওডিআই দলে খেলার সুযোগ পাননি। ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ করেন ৩০ রান। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ৯৯ খেলা থেকে ৩০.২৯ গড়ে ৪০২৯ রান পেয়েছেন। ৮৯টি লিস্ট-এ খেলায় অংশ নিয়ে ২২.৬৩ গড়ে ১৩৮১ রান তুলেছেন। জুলাই, ২০১৫ সালে ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণের কথা ঘোষণা করেন। এরপর কোচিং জগতের দিকে ধাবিত হন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *