৭ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭২ তারিখে বার্কশায়ারের রিডিং এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে পারদর্শী ছিলেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিং করতেন। ১৯৯০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
‘অ্যাফি’, ‘ট্যাবি’, ‘ইঞ্জি’ কিংবা ‘হাবিবি’ ডাকনামে ভূষিত আফতাব হাবিব ৫ ফুট ৯ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী। টানটন স্কুলে অধ্যয়ন করেছেন। সময়ের সাথে তাল মিলানোর ন্যায় সহজাত প্রতিভার অধিকারী ছিলেন ও দীর্ঘ ইনিংস খেলতে পারতেন। ড্রাইভ ও কাটে দর্শনীয় ও প্রাণবন্তঃ খেলোয়াড়ে পরিণত হন।
ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে এসেক্স, লিচেস্টারশায়ার ও মিডলসেক্স এবং নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে ক্যান্টারবারির প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, বার্কশায়ারের পক্ষে খেলেছেন। ১৯৯২ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ১৯৯৯ সালে নিজস্ব স্বর্ণালী মৌসুম অতিবাহিত করেন। আক্রমণাত্মক ব্যাটিংশৈলী উপহার দিয়ে সহস্র রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন।
মিডলসেক্স দল তাঁর প্রতিভার মূল্যায়ণ করতে পারেনি। তবে, লিচেস্টারশায়ার দল তাঁকে লুফে নেয়। দলটির পক্ষে পাঁচ সহস্রাধিক রান তুলেন। এসেক্সে সর্বশেষবারের মতো দল পরিবর্তন করেন। তবে, এবারে তিনি ফলপ্রসূতার স্বাক্ষর রাখেননি। ৪২ খেলা থেকে ৫ শতক হাঁকান ও ৩৮ গড়ে রান তুলেন। পরবর্তীতে লিচেস্টারশায়ারে ফিরে গেলেও দলে স্থানলাভের প্রশ্নে বেশ হিমশিম খান।
১৯৯৯ সালে ইংল্যান্ডের পক্ষে দুইটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। উভয় টেস্টই নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেছিলেন। ১৯৯৯ সালে নিজ দেশে স্টিফেন ফ্লেমিংয়ের নেতৃত্বাধীন সফররত কিউই দলের বিপক্ষে অংশগ্রহণকৃত টেস্টগুলো খেলেন। ১ জুলাই, ১৯৯৯ সালে বার্মিংহামে অনুষ্ঠিত সিরিজে উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ক্রিস রিডের সাথে তাঁর একযোগে অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ১ রান সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন। অ্যালেক্স টিউডরের অসাধারণ ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ৭ উইকেটে জয় পেলে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
এরপর, ২২ জুলাই, ১৯৯৯ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ৬ ও ১৯ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, ম্যাট হর্নের অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ৯ উইকেটে পরাজিত হলে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়। ব্যাটিং কৌশলের সীমাবদ্ধতার কারণে তাঁর খেলোয়াড়ী জীবনের দূর্ভাগ্যজনক সমাপ্তি ঘটে। ব্ল্যাক ক্যাপসদের বিপক্ষে সর্বসাকুল্যে মাত্র ২৬ রান তুলতে পেরেছিলেন।
তবে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে প্রত্যাখ্যাত হলেও লিচেস্টারশায়ারের পক্ষে রানের ফুলঝুড়ি ছুটিয়েছিলেন। তন্মধ্যে, অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খেলায় কয়েকটি দারুণ ইনিংস খেলেছিলেন। সবমিলিয়ে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট থেকে ২১ শতক সহযোগে ৪১.৮৫ গড়ে ৮৮৭৩ রান সংগ্রহ করেছেন। দৃশ্যতঃ ২০০৬ সালে তাঁর খেলোয়াড়ী জীবনের ইতি ঘটে। বার্কশায়ারের পক্ষে মাইনর কাউন্টিজ ক্রিকেটে অংশ নিতে থাকেন।
২০০৬ সালে ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর কোচিং জগতের দিকে ধাবিত হন। আইসিসি বিশ্ব ক্রিকেট লীগের চতুর্থ বিভাগকে ঘিরে অক্টোবর, ২০০৭ সালে তিন বছর মেয়াদে হংকং দলের কোচের দায়িত্ব পালন করেন।
