৩১ ডিসেম্বর, ১৯৩৯ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের উত্তরপ্রদেশের লখনউয়ে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন করেছেন। ১৯৬০-এর দশকে পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
১৯৫৭-৫৮ মৌসুম থেকে ১৯৭৩-৭৪ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে করাচী, করাচী বিশ্ববিদ্যালয়, পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্স ও পাবলিক ওয়ার্কস ডিপার্টমেন্টের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, পাকিস্তানের বিশ্ববিদ্যালয় দলের পক্ষে খেলেছেন।
প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে দারুণ ও দ্রুতগতিসম্পন্ন অফ-স্পিন বোলিং করতেন। পরিসংখ্যানগতভাবে দুইয়ের অধিক টেস্ট খেলার উপযোগী ছিলেন, কিন্তু তা আর হয়ে উঠেনি। সব মিলিয়ে ৬৭টি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিয়েছেন। পাঁচবার খেলায় দশ-উইকেট লাভের কৃতিত্বের সাথে নিজেকে জড়িয়েছেন। এ পর্যায়ে পাকিস্তানী ক্রিকেটে ফাস্ট বোলারেরা সমানতালে ভাগীদার হতে থাকেন।
১৯৬১ থেকে ১৯৬৪ সময়কালে পাকিস্তানের পক্ষে দুইটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। লায়ালপুরে এমসিসি’র বিপক্ষে গভর্নর একাদশের সদস্যরূপে ৬/৮৯ বোলিং পরিসংখ্যান গড়ার মাধ্যমে টেস্ট দলে ঠাঁই করে নেন। ১৯৬১-৬২ মৌসুমে নিজ দেশে টেড ডেক্সটারের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ২১ অক্টোবর, ১৯৬১ তারিখে লাহোরে অনুষ্ঠিত সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ইংরেজ অধিনায়ককে হিট উইকেটের মাধ্যমে বিদেয় করে প্রথম উইকেট লাভের সন্ধান পান। ব্যাট হাতেও দক্ষ ছিলেন। ঐ টেস্টে ৩৩ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছিলেন। সফরকারীরা ৫ উইকেটে জয়লাভ করে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
১৯৬২ সালে ইংল্যান্ড সফরে গেলেও কোন খেলায় অংশ নেয়ার সুযোগ পাননি। ২৯ খেলার মধ্যে ছয়টি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় তাঁকে খেলানো হয়। ৪৩.৬১ গড়ে মাত্র ১৩ উইকেট দখল করেন। ১৯৬৪-৬৫ মৌসুমে হানিফ মোহাম্মদের নেতৃত্বাধীন অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড সফরে ১৪ খেলার ৫টিতে তাঁকে রাখা হয়। তন্মধ্যে, মেলবোর্ন টেস্ট অন্তর্ভুক্ত ছিল। এ পর্যায়ে তিনি কোন উইকেট লাভে ব্যর্থতার পরিচয় দেন। ৪ ডিসেম্বর, ১৯৬৪ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের একমাত্র টেস্টে অংশ নেন। ৮* ও ১৩* রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ০/৪৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
পরের মৌসুমের কায়েদ-ই-আজম ট্রফি প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত খেলায় দারুণ খেলেন। করাচী ‘এ’ দলের সদস্যরূপে করাচী ‘বি’ দলের বিপক্ষে ১১ নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে ৮৭ রানের দূর্দান্ত ইনিংস খেলেন। এ পর্যায়ে ওয়ালিস ম্যাথিয়াসের সাথে শেষ উইকেট জুটিতে প্রথমবারের মতো তিন অঙ্কের রান তোলার কৃতিত্বের সাথে নিজেকে জড়ান।
১৯৬৩ সালে পিআইএ’র সৌজন্যে পাকিস্তান ঈগলেটসের সদস্যরূপে পুণরায় ইংল্যান্ড গমনের সুযোগ পান। প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের শেষদিকের অধিকাংশ খেলাই পিআইএ’র পক্ষে খেলেছিলেন। সবমিলিয়ে ১৯.৪২ গড়ে ২১৪ উইকেট দখল করেন। তন্মধ্যে, ১৯৬০-৬১ মৌসুমে করাচী বিশ্ববিদ্যালয়ের সদস্যরূপে রেলওয়েজ-কোয়েটার বিপক্ষে ব্যক্তিগত সেরা ৮/১০৮ বোলিং পরিসংখ্যান গড়েছিলেন। এছাড়াও, ২৪.৫৪ গড়ে ১,৪৪৮ রান সংগ্রহ করেছেন। ১৯৬৯-৭০ মৌসুমে বাগ-ই-জিন্নায় পিআইএ’র সদস্যরূপে লাহোর ব্লুজের বিপক্ষে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ অপরাজিত ১২২ রানের ইনিংস খেলেছিলেন। এছাড়াও, ৫২ ক্যাচ তালুবন্দী করেছেন।
২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০০২ তারিখে সিন্ধু প্রদেশের করাচীতে ৬২ বছর ৫৬ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।
