২৪ আগস্ট, ১৯৫৯ তারিখে ট্রান্সভালের জোহানেসবার্গে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম কিংবা অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৯০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
ওয়েস্টার্ন কেপের এলগিনে তাঁদের ফলমূল ও পোল্ট্রি খামার রয়েছে। ক্রিকেটপ্রিয় পরিবারের সন্তান তিনি। জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা জেন কুইপার প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটার ও ভ্রাতৃষ্পুত্র জেমস কুইপার ওয়েস্টার্ন প্রভিন্সের প্রতিনিধিত্ব করেছে। দলের অপরিহার্য্য খেলোয়াড় হিসেবে ব্যাটের পাশাপাশি বল হাতে দারুণ ভূমিকা রাখতেন। মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে পঞ্চম বোলার হিসেবে ব্যবহৃত হতেন।
১৯৭৭-৭৮ মৌসুম থেকে ১৯৯৭-৯৮ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে বোল্যান্ড ও ওয়েস্টার্ন প্রভিন্স এবং ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ডার্বিশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
১৯৭৮ থেকে ১৯৯৫ সময়কালে ওয়েস্টার্ন প্রভিন্সের পক্ষে খেলেন। তন্মধ্যে, ১৯৮৪ সালে দলের অধিনায়কের দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়েছিলেন। ১৯৯০ সালে ডার্বিশায়ারের পক্ষে খেলেছেন। ঐ মৌসুমে এসেক্সের বিপক্ষে জয়ের লক্ষ্যমাত্রায় নেমে ৩৬ বল থেকে ৫৬ রান তুলে ডার্বিশায়ারের চ্যাম্পিয়নশীপের শিরোপা বিজয় নিশ্চিত করেন।
১৯৮১ থেকে ১৯৯০ সময়কালে পাঁচটি অনানুষ্ঠানিক টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পান। ১৯৮৯ তারিখে শ্রীলঙ্কা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ডের বিদ্রোহী দলের বিপক্ষে খেলার জন্যে দক্ষিণ আফ্রিকা একাদশের সদস্যরূপে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিলেন। ১৯৮৯ সালে ব্লোমফন্তেইনে ইংরেজ বিদ্রোহী দলের বিপক্ষে ৪৯ বলের রোমাঞ্চকর শতক হাঁকান। ৬৭ বল থেকে ১১৭ রান তুলেছিলেন।
১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত সময়কালে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে একটিমাত্র টেস্ট ও ২৫টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্যে দলের সহঃঅধিনায়কের মর্যাদা পেয়েছিলেন। ১৯৯১-৯২ মৌসুমে দলের সাথে ভারত গমন করেন। ১০ নভেম্বর, ১৯৯১ তারিখে কলকাতায় অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন। ১৯৯২ সালে কেপলার ওয়েসেলসের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের সাথে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে যান। ১৮ এপ্রিল, ১৯৯২ তারিখে বার্বাডোসের ব্রিজটাউনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের একমাত্র টেস্টে অংশ নেন। পিটার কার্স্টেন, অ্যান্ড্রু হাডসন, ডেভিড রিচার্ডসন, মেরিক প্রিঙ্গল, মার্ক রাশমেয়ার, অ্যালান ডোনাল্ড, রিচার্ড স্নেল, টারটিয়াস বস ও হান্সি ক্রোনিয়ে’র সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ৩৪ ও ০ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। অ্যান্ড্রু হাডসনের অসাধারণ শতক সত্ত্বেও খেলায় সফরকারীরা ৫২ রানে পরাজিত হয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
১৯৯৫-৯৬ মৌসুমে নিজ দেশে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হন। ২১ জানুয়ারি, ১৯৯৬ তারিখে জিকিবার্হায় অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সর্বশেষ ওডিআইয়ে অংশ নেন। ৬৬ বল থেকে ৬১ রান তুলে অপরাজিত অবস্থায় মাঠ ছাড়েন। প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদেয় জানান।
