|

অ্যাডাম হাকল

২১ সেপ্টেম্বর, ১৯৭১ তারিখে বুলাওয়েতে জন্মগ্রহণকারী পেশাদার ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। লেগ-ব্রেক গুগলি বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৯০-এর দশকে জিম্বাবুয়ের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

অধিকাংশ লেগ-স্পিনারের ন্যায় বোলিংয়ে নিখুঁততা আনয়ণে সমস্যার কবলে পড়তেন। তবে, ছন্দ ফিরে পেলে অন্যান্য রিস্ট-স্পিনারের ন্যায় বিস্ময়কর ভূমিকা রাখতেন। পিচে খুঁত খুঁজে নিয়ে চাতুর্যপূর্ণ ও আক্রমণাত্মক বোলিংয়ে অগ্রসর হতেন। সচরাচর লেগ-ব্রেক বোলিং ও গুগলি বোলিংয়ে পারদর্শী। বলকে শূন্যে ভাসিয়ে ও পর্যাপ্ত বাঁক খাওয়াতে পারতেন। সতীর্থ বোলারদের তুলনায় অধিক আলতো বল করতেন। তাসত্ত্বেও, ব্যাটকে ফাঁকি দিয়ে উইকেট পেতেন। কিন্তু, বলে বৈচিত্র্যতা আনয়ণে নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং নিখুঁত নিশানা বরাবরে ফেলতে ব্যর্থ হওয়ায় দক্ষতা থাকা স্বত্ত্বেও উইকেট লাভে তেমন সুবিধে করতে পারেননি।

পিতা মাইক হাকল ১৯৬৬-৬৭ মৌসুমে রোডেশিয়ার পক্ষে ও পরবর্তীতে মাতাবেলেল্যান্ডের পক্ষে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট ধীরগতিসম্পন্ন বামহাতি বোলার হিসেবে খেলেছেন। বিদ্যালয় জীবনে অল-রাউন্ডার হিসেবে বিবেচিত হতেন। বাড়ীতে অবস্থানকালে সন্তানকে খুব ছোটবেলা থেকে পারিবারিক খামারে ক্রিকেট খেলতে উৎসাহিত করেন ও অবসর সময়ে প্রায়শঃই সঙ্গ দিতেন। জিম্বাবুয়েতে শৈশবকাল অতিবাহিত করেন। শুরুতে হিলসাইডে এবং পরবর্তীতে বুলাওয়ের হোয়াইটস্টোন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে থাকাকালীন ক্রিকেটে প্রতিভার স্বাক্ষর রাখতে শুরু করেন। ফ্যালকন কলেজে ভর্তি হন। বেশ কিছুসংখ্যক উইকেট পেয়েছিলেন। এক পর্যায়ে এক বছরের বড় পল স্ট্র্যাংয়ের চেয়েও অধিক প্রতিশ্রুতিশীলরূপে পরিগণিত হন। এছাড়াও, পিটারহাউজের বিপক্ষে ১১৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন।

প্রাথমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণীতে অধ্যয়নকালীন জিম্বাবুয়ের বিদ্যালয় দলের পক্ষে খেলেছেন। জাতীয় পর্যায়ের বিদ্যালয় দলের সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ড গমন করেছিলেন। তবে, এ পর্যায়ে খুবই কম প্রভাব ফেলেছিলেন। মূলতঃ বিনোদনের উদ্দেশ্যে ক্রিকেট খেলতেন ও খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যানেও একই ধারা বহমান ছিল। খেলা সম্পর্কে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গী ছিল যে, ‘যদি আনন্দ না পাও, তাহলে খেলা ছেড়ে দাও।’

বিদ্যালয় জীবন শেষ করার পর গ্রাহামসটাউনের রোডস বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নের জন্যে দক্ষিণ আফ্রিকা গমন করেন। পাঁচ বছর মেয়াদী ফার্মেসি বিষয়ে অধ্যয়ন করেন। এ সময়ে গ্ল্যামারগন ও ওরচেস্টারশায়ার ক্লাবের বিপক্ষে খেলার জন্যে জিম্বাবুয়ে দলে প্রথমবারের মতো অন্তর্ভুক্ত হন। এছাড়াও, অস্ট্রেলিয়া ‘বি’ দলের বিপক্ষে একটি খেলায় অংশ নিয়েছিলেন। তবে, টেস্টের মর্যাদা লাভের পূর্বে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তিনটি প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অংশ নিয়ে মাত্র পাঁচটি উইকেট পেয়েছিলেন।

‘হাক’ ডাকনামে পরিচিতি লাভ করেন। ১৯৯০-৯১ মৌসুম থেকে ১৯৯৮-৯৯ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর জিম্বাবুয়ীয় ক্রিকেটে মাতাবেলেল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে ইস্টার্ন প্রভিন্সের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তন্মধ্যে, ১৯৯২-৯৩ মৌসুম থেকে ১৯৯৫-৯৬ মৌসুম পর্যন্ত ইস্টার্ন প্রভিন্স এবং ১৯৯৭-৯৮ মৌসুম থেকে মাতাবেলেল্যান্ডের পক্ষে খেলেন। এছাড়াও, কুইন্স স্পোর্টস ক্লাবের পক্ষে খেলেছেন। ২ এপ্রিল, ১৯৯০ তারিখে বুলাওয়ে অ্যাথলেটিক ক্লাবে অনুষ্ঠিত জিম্বাবুয়ে বনাম গ্ল্যামারগনের মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান।

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ভালোমানের ব্যাটসম্যান হিসেবে পরিচিতি ঘটাতে সচেষ্ট হন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিকেটে অনুপস্থিতি ও উদীয়মান পল স্ট্র্যাংয়ের উত্থানে জিম্বাবুয়ের ক্রিকেট থেকে দূরে চলে গেলেও পুরোপুরি খেলার জগৎ থেকে হারিয়ে যাননি। খুব দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয়ের সেরা খেলোয়াড়ে পরিণত হন। দলের সাথে শুরুরদিকের একটি খেলায় এক ইনিংসে আট-উইকেট লাভ করেন। সফররত ভারতীয় একাদশের বিপক্ষে দক্ষিণ আফ্রিকার ছাত্রদের নিয়ে গঠিত দলের সদস্যরূপে প্রথম-শেণীর ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে। পাশাপাশি, ইস্টার্ন প্রভিন্সের পক্ষে শুরুতে সফল হন। ১৯৯৩-৯৪ মৌসুমে দলের সাথে দূর্দান্ত খেলেন। ঐ মৌসুমে ৩৪ উইকেট দখল করেন। তন্মধ্যে, বোল্যান্ডের বিপক্ষে ৬/৯৯ বোলিং পরিসংখ্যান দাঁড় করান। ফলশ্রুতিতে, ভবিষ্যতের টেস্ট খেলোয়াড় হিসেবে আলোচনায় আসতে থাকেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশুনো শেষ হবার পর ইস্টার্ন প্রভিন্স ক্রিকেট ইউনিয়নের সাথে চুক্তিতে আবদ্ধ হন। শুরুতে খুচরা প্রতিষ্ঠান ও পরবর্তীতে কারখানায় কাজ করতে থাকেন। পরের মৌসুমে তেমন সফল না হলেও ইস্ট লন্ডনে অনুষ্ঠিত কারি কাপের খেলায় বর্ডারের বিপক্ষে দশ উইকেট পেয়েছিলেন।

এক পর্যায়ে ১৯৯৫ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার অনূর্ধ্ব-২৪ দলে খেলার জন্যে মনোনীত হন। তবে, উত্তরণের তুলনায় অবনমনের দিকেই তাঁর খেলার মান যেতে থাকে। ঐ সফরে তিনটি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিয়ে কোনটিতেই উইকেট পাননি। দক্ষিণ আফ্রিকায় ফিরে খুবই কম ভূমিকা রাখেন। এমনকি ক্যাসল বোল প্রতিযোগিতায় তাঁকে খেলানো হয়নি। দলের নজরের বাইরে চলে যেতে থাকেন। স্বল্প কয়েকটি ক্লাবের খেলায় অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৯৬-৯৭ মৌসুমে তাঁর খেলার মান আরও নিচে নেমে যায়। নিরাপত্তার অভাবসহ প্রাদেশিক দল থেকে প্রত্যাখ্যাত হলে ১৯৯৭ সালে জিম্বাবুয়েতে ফিরে আসেন।

দেশে ফিরে বোলিংয়ে ছন্দ ফিরিয়ে আনেন ও অনেক ঝুঁকি নিয়ে দল নির্বাচকমণ্ডলী টেস্ট দলে দুইজন লেগ-স্পিনারের অন্যতম হিসেবে পল স্ট্র্যাংয়ের সাথে তাঁকে খেলতে নামান। এভাবেই আন্তর্জাতিক খেলায় অংশগ্রহণের পথ সুগম হয়। নিজেকে টেস্ট উপযোগী লেগ-স্পিনার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সচেষ্ট ছিলেন।

১৯৯৭ থেকে ১৯৯৯ সময়কালে জিম্বাবুয়ের পক্ষে আটটিমাত্র টেস্ট ও ১৯টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৯৭-৯৮ মৌসুমে নিজ দেশে স্টিফেন ফ্লেমিংয়ের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। ১৮ সেপ্টেম্বর, ১৯৯৭ তারিখে হারারে স্পোর্টস ক্লাবে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে অংশ নেন। গেভিন রেনি’র সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। নিজস্ব প্রথম টেস্টে পাঁচ উইকেট দখল করেছিলেন। ২/৩২ ও ৩/৮৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, ঘটনাবহুল ঐ টেস্টে গ্র্যান্ট ফ্লাওয়ারের জোড়া শতকের কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

এরপর, ২৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৯৭ তারিখে বুলাওয়েতে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। কয়েকবার ব্যক্তিগত সফলতার সন্ধান পান। নিউজিল্যান্ডের প্রথম ইনিংসে এনজে অ্যাসলেকে বিদেয় করে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বেকার সেরা ছিল ৩/৮৪। এ পর্যায়ে টেস্টে নিজস্ব প্রথম পাঁচ-উইকেট লাভ করেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ৬/১০৯ ও ৫/১৪৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ০ ও ০* রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। গাই হুইটলের অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে ঐ টেস্টটি ড্রয়ে পরিণত হলে সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় শেষ হয়।

১৯৯৮-৯৯ মৌসুমে অ্যালিস্টার ক্যাম্পবেলের নেতৃত্বাধীন জিম্বাবুয়ে দলের সাথে পাকিস্তান সফরে যান। ১০ ডিসেম্বর, ১৯৯৮ তারিখে লাহোরে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ২/৪০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করাসহ ১৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও তাঁর দল ১-০ ব্যবধানে সিরিজে পরাজয়বরণ করে। পরবর্তীতে এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

এছাড়াও, ১৯৯৯ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ শেষে ১৯ জুন, ১৯৯৯ তারিখে হারারেতে কুচকাওয়াজ সহযোগে তাঁর দলকে স্বাগতঃ জানানো হয়। কিন্তু, পরবর্তীতে খেলায় ধারাবাহিকতা না থাকায় স্বল্পকালের মধ্যেই তাঁকে খেলোয়াড়ী জীবনের ইতি ঘটাতে হয়। গবাদিপশুর খামার পরিচালনা করেন।

সম্পৃক্ত পোস্ট