৩০ ডিসেম্বর, ১৯৬৮ তারিখে ভিক্টোরিয়ার ইভানহো এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিংয়ের পাশাপাশি বামহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
ছন্দোবদ্ধ বোলার হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছিলেন। দক্ষতার সাথে সুইংসহ সিম বোলিং করতেন। শূন্যে বলকে ঘুরানোর পাশাপাশি অফের দিকে বল ফেলতেন ও প্রতিপক্ষীয় ব্যাটসম্যানদের সমীহের পাত্রে পরিণত হন। স্ট্রাইকবিহীন প্রান্তে খুব কাছাকাছি অবস্থানে থেকে বল হাত থেকে ফেলতেন। এছাড়াও, ফিল্ডিংকালে বিশ্বস্ততার পরিচয় দিতেন।
দুইবার ব্রিসবেন ফোরএক্স ফার্স্ট গ্রেড সেরা ও পরিচ্ছন্ন খেলোয়াড় হিসেবে পিটার বার্জ পদক লাভ করেন।
১৯৯৬-৯৭ মৌসুম থেকে ২০০২-০৩ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে কুইন্সল্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৯৮-৯৯ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়া ‘এ’ দলের সদস্যরূপে আয়ারল্যান্ড ও স্কটল্যান্ড গমন করেছিলেন। ‘এ’ দলের পক্ষে ১৫টি খেলা থেকে ১৫.৬৯ গড়ে ৩৫ উইকেট পেয়েছিলেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে কুইন্সল্যান্ডের পক্ষে ৪৮ খেলা থেকে ২০২ উইকেট লাভ করে অ্যান্ডি বিকেলের ৪৪ খেলার পর দ্বিতীয় দ্রুততম বোলার হিসেবে এ মাইলফলক স্পর্শ করেন।
১৯৯৬-৯৭ মৌসুমের শেফিল্ড শীল্ডের শিরোপা বিজয়ী বুলস দলের সদস্য ছিলেন। এছাড়াও, ১৯৯৯-২০০০ ও ২০০০-০১ মৌসুমের পুরা কাপ ও ১৯৯৯৫-৯৬ মৌসুমে মার্কেন্টাইল মিউচুয়াল কাপ চ্যাম্পিয়নশীপের শিরোপা বিজয়ে ভূমিকা রাখেন। পাশাপাশি, ১৯৯৪-৯৫ মৌসুমে শেফিল্ড শীল্ডে কুইন্সল্যান্ডের প্রথম শিরোপা বিজয়ের সাথে নিজেকে জড়ান। ২০০০-০১ মৌসুমে কুইন্সল্যান্ডের পক্ষে সেরা সময় অতিবাহিত করেন। ২৩.৩৯ গড়ে ৩৬ উইকেট পান।
১৯৯৭ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত সময়কালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে দুইটিমাত্র টেস্ট ও ৩০টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ২৯ মার্চ, ১৯৯৭ তারিখে ইস্ট লন্ডনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
১৯৯৭-৯৮ মৌসুমে মার্ক টেলরের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সাথে ভারত গমন করেন। ২৫ মার্চ, ১৯৯৮ তারিখে বেঙ্গালুরুতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ড্যারেন লেহম্যানের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ৩/৭১ ও ০/২১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাট হাতে নিয়ে ৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, মাইকেল কাসপ্রোভিচের অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ৮ উইকেটে পরাজিত হলেও ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে নেয়।
১৯৯৮-৯৯ মৌসুমে স্টিভ ওয়াহ’র নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে যান। ৩ এপ্রিল, ১৯৯৯ তারিখে সেন্ট জোন্সে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ২/৬৭ ও ১/২৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ১ ও ০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। জাস্টিন ল্যাঙ্গারের অসামান্য ব্যাটিং নৈপুণ্যে সফরকারীরা ১৭৬ রানে জয় পেলে ২-২ ব্যবধানে সিরিজটি ড্র করতে সমর্থ হয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
এছাড়াও, নিউজিল্যান্ড, ভারত, শারজাহ, শ্রীলঙ্কা ও জিম্বাবুয়ে গমন করেছিলেন। টেস্টগুলো থেকে ছয় উইকেট দখল করেছিলেন। ১৯৯৯ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। বিশ্বকাপের শিরোপা বিজয়ের সাথে জড়িত একমাত্র কুইন্সল্যান্ডীয় ছিলেন। দুই বছর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করলেও অধিকাংশই ছিল একদিনের আন্তর্জাতিক। ওডিআইগুলো থেকে ৩০.৫৯ গড়ে ৩২ উইকেট পেয়েছিলেন।
সবগুলো প্রথম-শ্রেণীর খেলা থেকে ২০.৭৬ গড়ে ২৪৫ উইকেট দখল করেছিলেন। তন্মধ্যে, ১৩বার পাঁচ-উইকেট ও একবার দশ উইকেট লাভ করেছিলেন। ৭ এপ্রিল, ২০০৩ তারিখে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন থেকে অবসর গ্রহণের কথা ঘোষণা করেন।
