|

আবিদ আলী

১৬ অক্টোবর, ১৯৮৭ তারিখে পাঞ্জাবের লাহোরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করেন। এছাড়াও, লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী। পাকিস্তানে পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

২০০৭ সাল থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে বালুচিস্তান, ফেডারেলি এডমিনিস্টার্ড ট্রাইবাল এরিয়াজ, হাবিব ব্যাংক লিমিটেড, ইসলামাবাদ, নর্থ ওয়েস্ট ফ্রন্টিয়ার প্রভিন্স-বালুচিস্তান, পাকিস্তান স্টেট ব্যাংক, ইউনাইটেড ব্যাংক লিমিটেড ও জারাই তারাকিয়াতি ব্যাংক লিমিটেডের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, বালুচিস্তান বিয়ার্স, বালুচিস্তান ওয়ারিয়র্স, লাহোর ঈগলস, লাহোর কালান্দার্স, লাহোর রবি, লাহোর রিজিওন হোয়াইটস, লাহোর শালিমারের পক্ষে খেলেছেন। ২৬ ডিসেম্বর, ২০০৭ তারিখে ফয়সালাবাদে অনুষ্ঠিত ফয়সালাবাদ বনাম লাহোর রবি’র মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান।

২০০৭ সালে কায়েদ-ই-আজম ট্রফিতে প্রথম খেলেন। এরপর থেকেই পাকিস্তানের ঘরোয়া আসরের ক্রিকেটে নিয়মিতভাবে খেলতে থাকেন। ছয় সহস্রাধিক রান পেয়েছেন। ২০১৭-১৮ মৌসুমে ইসলামাবাদের পক্ষে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ব্যাটিং করে ২৩১ রান তুলেন। ওডিআই অভিষেকে কয়েক মাস পর ব্যক্তিগত সংগ্রহকে আরও স্ফীততর করেন। ২৪৯ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছিলেন।

ডানহাতি ব্যাটসম্যান। সচরাচর পিছনের পায়ে ভর রেখে অফ-সাইডে বল খেলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে থাকেন। এছাড়াও, বল মোকাবেলায় নিশানা বরাবর খেলতে মাথা ঝোঁকার প্রবণতা রয়েছে। ফলশ্রুতিতে, এলবিডব্লিউ হওয়া থেকে অনেকাংশেই নিজেকে নিরাপদ দূরত্বে নিয়ে যান। পাকিস্তান দলে উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে তাঁর উত্থানকে দলের ভিত্তিকে মজবুত করেছে। ইমাম-উল-হকের ওডিআইয়ে খেলার মান লাল-বলের খেলায় হিমশিম খাবার ফলে তিনি নিজেকে এ অবস্থানের উপযোগী করে তুলেছেন। দীর্ঘদিন ঘরোয়া পর্যায়ের ক্রিকেটে ক্রমাগত রান সংগ্রহ করার পরও উপেক্ষার পাত্রে পরিণত হয়েছিলেন। তবে, একবার সুযোগ লাভ করে নিজের ক্ষতি পোষণে বেশ আগুয়ান।

২০১৯ সাল থেকে পাকিস্তানের পক্ষে টেস্ট ও ওডিআইয়ে অংশ নিচ্ছেন। ৩১ বছর বয়সের পূর্ব পর্যন্ত পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নেয়ার সুযোগ পাননি। ২৯ মার্চ, ২০১৯ তারিখে দুবাইয়ের ডিএসসিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওডিআইয়ে প্রথম খেলেন। অভিষেক খেলাতেই শতক দিয়ে যাত্রা শুরু করেন।

ঘরোয়া ক্রিকেটে দারুণ ইনিংসের কল্যাণে পাকিস্তানের টেস্ট দলের সদস্যরূপে যুক্ত হন। ২০১৯-২০ মৌসুমে নিজ দেশে ডিমুথ করুণারত্নে’র নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের মুখোমুখি হন ও এক দশক পর পাকিস্তানের মাটিতে প্রথম টেস্টে অংশ নেন। ১১ ডিসেম্বর, ২০১৯ তারিখে রাওয়ালপিন্ডিতে অনুষ্ঠিত সফররত শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে অংশ নেন। উসমান শিনওয়ারি’র সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ১০৯* রানের মনোরম শতক হাঁকিয়ে অভিষেক পর্বকে স্মরণীয় করে রাখেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

সহজাত প্রকৃতির ব্যাটিংয়ের ধরন অনুযায়ী খেলার সুযোগ পান। বৃষ্টির কারণে বিঘ্ন ঘটলেও ব্যক্তিগত মাইলফলকে নিজেকে যুক্ত করেন। ক্রিকেটের ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে টেস্ট ও ওডিআই অভিষেকে উভয় ধরনের ক্রিকেটে শতক হাঁকানোর গৌরব অর্জন করেন। এরফলে, পাকিস্তানের প্রধান উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানের অবস্থানের বিষয়টি পাকাপোক্ত করে ফেলেন।

২০২০ সালে ইংল্যান্ড গমনার্থে তাঁকে দলে রাখা হয়। বড় ধরনের রান সংগ্রহে সিদ্ধহস্তের অধিকারী হলেও একটি অর্ধ-শতরান করতে পেরেছিলেন। এছাড়াও, চূড়ান্ত টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে ৫০ ওভার খেলে পাকিস্তান দলকে ড্রয়ের দিকে নিয়ে যেতে সহায়তা করেন। ২৪ আগস্ট, ২০২০ তারিখে এক স্বাক্ষাৎকারে তিনি মন্তব্য করেছেন যে, ‘আমার লক্ষ্য হচ্ছে ব্যাটিংয়ে সময় দেয়া। এরফলে, অন্যান্য ব্যাটসম্যানের রান সংগ্রহকে সহজ করে তুলে।’

২০২১ সালে বাবর আজমের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের সদস্যরূপে জিম্বাবুয়ে সফরে যান। ৭ মে, ২০২১ তারিখে হারারেতে অনুষ্ঠিত জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। অসাধারণ ক্রীড়াশৈলীর স্বাক্ষর রাখেন। দলের একমাত্র ইনিংসে ২১৫ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। তাঁর দ্বি-শতকের কল্যাণে সফরকারীরা ইনিংস ও ১৪৭ রানে জয় পেয়ে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে বিজয়ী হয়। তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার পান।

২০২১-২২ মৌসুমে বাবর আজমের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের সদস্যরূপে বাংলাদেশ সফরে যান। পুরো সিরিজে অসাধারণ ক্রীড়াশৈলীর স্বাক্ষর রাখেন। ২৬ নভেম্বর, ২০২১ তারিখে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ১৩৩ ও ৯১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তাঁর অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ৮ উইকেটে জয় পেয়ে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।

এরপর, একই সফরের ৪ ডিসেম্বর, ২০২১ তারিখে ঢাকায় অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ৩৯ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, সাজিদ খানের অসামান্য বোলিং নৈপুণ্যে সফরকারীরা ইনিংস ও ৮ রানে জয় পেয়ে ২-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়। এ সিরিজে ২৬৩ রান সংগ্রহ করে প্লেয়ার অব দ্য সিরিজের পুরস্কার পান। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

Similar Posts

  • |

    প্রভাত জয়সুরিয়া

    ৫ নভেম্বর, ১৯৯১ তারিখে মাতালে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামেন। শ্রীলঙ্কার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। মাতালেভিত্তিক ক্রাইস্টচার্চ কলেজ ও কলম্বোভিত্তিক লাম্বিনি কলেজে অধ্যয়ন করেছেন। ২০১১-১২ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটে কোল্টস ক্রিকেট ক্লাব ও…

  • | |

    ফ্রাঙ্ক ওরেল

    ১ আগস্ট, ১৯২৪ তারিখে বার্বাডোসের ব্যাংক হল এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও সাংবাদিক ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, বামহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম কিংবা বামহাতে স্লো বোলিংয়ে পারদর্শীতা দেখিয়েছেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাঝারিসারিতে তিনজন অসাধারণ ব্যাটসম্যানের অন্যতম ছিলেন। যেখানে ক্লাইড ওয়ালকট ও এভারটন উইকস শক্তিপ্রয়োগে খেলতেন;…

  • | |

    মার্ক বার্জেস

    ১৭ জুলাই, ১৯৪৪ তারিখে অকল্যান্ডে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ শীর্ষসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। নিউজিল্যান্ড দলের অধিনায়কের দায়িত্বে ছিলেন। নিউজিল্যান্ড দলের শৌখিন খেলা থেকে পেশাদারী পর্যায়ে নিয়ে আসার ক্রান্তিলগ্নে খেলার সুযোগ পান। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নিউজিল্যান্ড দলের টেস্ট জয়ে নেতৃত্ব দেন ও দলকে ১৯৭৯ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট…

  • | |

    আকাশ চোপড়া

    ১৯ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৭ তারিখে উত্তরপ্রদেশের আগ্রায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, লেখক ও ধারাভাষ্যকার। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম কিংবা ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংশৈলী প্রদর্শন করতেন। ২০০০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। শিশু অবস্থাতেই পরিবারের সাথে দিল্লি চলে যান। শৈশবকাল থেকেই ক্রিকেটের প্রতি অনুরক্ত হয়ে পড়েন। ভ্যাটস হট শট…

  • | |

    আল্ফ গোভার

    ২৯ ফেব্রুয়ারি, ১৯০৮ তারিখে সারের এপসোমের উডকোট এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অংশগ্রহণ করেছিলেন। ১৯২৮ সালে ভবিষ্যতের শ্বশুর বিল ব্রুক অপর দুই সারে ও ইংল্যান্ডের ক্রিকেটার অ্যান্ডি স্যান্ডহাম এবং হার্বার্ট স্ট্রাডউইকের কাছ থেকে আর্থিক…

  • |

    বাপু নদকর্ণী

    ৪ এপ্রিল, ১৯৩৩ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের মহারাষ্ট্রের নাশিকে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিং করতেন। এছাড়াও, বামহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। আন্ডারওয়্যারের পরিবর্তে কটিবস্ত্র পরিধান করতেন। ফলশ্রুতিতে, মহাত্মা গান্ধী’র ব্যবহৃত বস্ত্রের অনুসরণে ‘বাপু’ ডাকনামে পরিচিতি লাভ করেন। ভারত দলে অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলতেন।…