|

অভিনব মুকুন্দ

৬ জানুয়ারি, ১৯৯০ তারিখে তামিলনাড়ুর মাদ্রাজে জন্মগ্রহণকারী উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান। মূলতঃ শীর্ষসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। বামহাতে ব্যাটিং করেন। এছাড়াও, লেগ-ব্রেক গুগলি বোলিংয়ে পারদর্শী। ২০১০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

কিশোর অবস্থাতেই তাঁর প্রতিভার স্ফূরণ ঘটে। ২০০৭ সাল থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে দক্ষিণাঞ্চল ও তামিলনাড়ুর প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, আলবার্ট টুটি প্যাট্রিয়টস, চেন্নাই সুপার কিংস, লিকা কোভাই কিংস ও রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরের পক্ষে খেলেছেন। রঞ্জী ট্রফিতে তাঁর অভিষেক ঘটে। রঞ্জী ট্রফি ও ইরানী ট্রফিতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে শতরানের ফুলঝুঁড়ি ছোটানোর সুবাদে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ পর্যায়ে খেলার জন্যে আমন্ত্রণ পান।

বেপরোয়া গতিতে রান সংগ্রহ ও বড় ধরনের সংগ্রহের সাথে নিজেকে যুক্ত করেছেন। ঘরোয়া আসরের ক্রিকেটে দুইবার ত্রি-শতক হাঁকানোর বিরল কৃতিত্ব প্রদর্শন করেন। তন্মধ্যে, একটি কিশোর অবস্থাতেই করেছিলেন। এছাড়াও, ২০০৮ সালে ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ দলে বিরাট কোহলি’র অধিনায়কত্বে খেলেছেন। কিন্তু, ঐ সময়ে ব্যাট হাতে তিনি হিমশিম খান ও কোন খেলায় তাঁকে রাখা হয়নি। তাসত্ত্বেও, ঘরোয়া ক্রিকেটে ঠিকই রান সংগ্রহের দিকে নজর রেখেছিলেন। এক পর্যায়ে নিজেকে দীর্ঘ সংস্করণের খেলার উপযোগী করে তুলেন। পরবর্তীতে রঞ্জী ট্রফি ও অন্যান্য ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলার পর টেস্ট ক্রিকেটে অংশ নেয়ার সুযোগ পান।

টেস্ট দলের উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান মুরালী বিজয়ের সাথে জুটি গড়ে তামিলনাড়ুর চতুর্শতক রান তুলে আলোচনায় চলে আসেন। অন-সাইডে দূর্বলতা থাকলেও ক্রিজে টিকে থাকার পাশাপাশি বড় ধরনের ইনিংস গড়ার কারণে দল নির্বাচকমণ্ডলীর দৃষ্টিগোচরে পড়েন। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে নিষ্প্রভ থাকলেও রঞ্জী ট্রফিতে ত্রি-শতক গড়ে স্বীয় সক্ষমতার কথা জানান দেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে চার মৌসুম অভিজ্ঞতা লাভকালে তাঁর গড় ছিল ৬০। এক পর্যায়ে তাঁকে টেস্ট দলে ঠাঁই দেয়া হয়।

২০১১ থেকে ২০১৭ সময়কালে ভারতের পক্ষে সাতটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। বিশ্বকাপ ক্রিকেটের শিরোপা বিজয়ী ভারত দলের নিয়মিত উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানদ্বয় – বীরেন্দ্র শেহবাগগৌতম গম্ভীরের বিশ্রামের কারণে ২০১১ সালে এমএস ধোনি’র অধিনায়কত্বে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে যাবার সুযোগ পান। ২০ জুন, ২০১১ তারিখে কিংস্টনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে অংশগ্রহণ করেন। প্রবীণ কুমার ও বিরাট কোহলি’র সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ৩/৩৮ ও ৩/৪২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, রাহুল দ্রাবিড়ের অনবদ্য ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে তাঁর দল তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

ঐ সফরে তিন টেস্ট থেকে একবার অর্ধ-শতকের সন্ধান পান। তবে, বয়সের সাথে তাঁর ফুরফুরে মেজাজ ও ক্রিজে স্বাচ্ছন্দ্যবোধের বিষয়টি লক্ষ্যণীয় ছিল। এরফলে, ঐ বছরের শেষদিকে ইংল্যান্ড গমনার্থে তাঁকে দলে রাখা হয়। লর্ডস টেস্টে ৪৯ রান তুলেন। তবে, এরপর তিন ইনিংসে দেরীতে বাঁক খাওয়া বলে বেশ বিব্রতকর থাকতে দেখা যায়। ফলশ্রুতিতে, পুরোপুরি কাঁধের আঘাত থেকে সেড়ে না উঠেই বীরেন্দ্র শেহবাগকে তৃতীয় টেস্ট খেলতে দলে ফিরিয়ে আনা হয়।

এ সফর শেষে খেলার মানের প্রভূতঃ উন্নতি ঘটাতে সচেষ্ট হন। দল নির্বাচকমণ্ডলীর দৃষ্টির অগোচরে চলে যান। প্রায়শঃই ভারত ‘এ’ দলের পক্ষে খেলতে থাকেন। ২০১৬-১৭ মৌসুমের রঞ্জী ট্রফিতে অসাধারণ খেলেন। চার শতক সহযোগে ৮৪৯ রান তুলেছেন। ফলশ্রুতিতে, বাংলাদেশ দলের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে অংশ নেয়ার জন্যে চারজন উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানের অন্যতম হিসেবে তাঁকে দলে রাখা হয়।

২০১৭ সালে বিরাট কোহলি’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের সদস্যরূপে শ্রীলঙ্কা গমন করেন। ২৬ জুন, ২০১৭ তারিখে গলেতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে অংশ নেন। ১২ ও ৮১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করাসহ একটি রান-আউটের সাথে নিজেকে জড়ান। তবে, শিখর ধবনের অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ৩০৪ রানে জয়লাভ করে ও তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

Similar Posts

  • |

    তাসকিন আহমেদ

    ৩ এপ্রিল, ১৯৯৫ তারিখে ঢাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিং করেন। এছাড়াও, বামহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নেমে থাকেন। বাংলাদেশের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। দীর্ঘকায় গড়নের অধিকারী। কিশোর অবস্থাতেই সংবাদ শিরোনামে চলে আসেন মূলতঃ পেসের কারণে। এক পর্যায়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলায় ঘণ্টায় ১৪৮ কিলোমিটার গতিবেগে বোলিং করে…

  • | | |

    অতুল বাসন

    ২৩ মার্চ, ১৯৬৮ তারিখে দিল্লিতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, ধারাভাষ্যকার ও প্রশাসক। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৯০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। দীর্ঘকায় গড়নের অধিকারী। ঘরোয়া আসরের ক্রিকেটে বেশ সাড়া জাগান। কঠোর পরিশ্রমী মিডিয়াম-পেস বোলার হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। রজার বিনি ও মদন লালের…

  • | | |

    ডেভিড সিনকক

    ১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৪২ তারিখে সাউথ অস্ট্রেলিয়ার নর্থ অ্যাডিলেড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, কোচ ও প্রশাসক। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। বামহাতে রিস্ট-স্পিন বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৬০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়া দলের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। গ্রেড ক্রিকেটে দূর্দান্ত খেলেছেন। প্রতিযোগিতার অসাধারণ খেলোয়াড় হিসেবে ব্র্যাডম্যান পদক জয় করেন। ১৯৭৩-৭৪ মৌসুমে টিচার্স কলেজ ও ১৯৮৩-৮৪…

  • |

    প্রসন্ন জয়াবর্ধনে

    ১০ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৯ তারিখে কলম্বোয় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। শ্রীলঙ্কার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। বিশ্বের অন্যতম সেরা উইকেট-রক্ষকের গুণাবলী নিয়ে অগ্রসর হয়েছিলেন। উইকেট-রক্ষণের পাশাপাশি ব্যাটিংয়ের সমান যোগ্যতার অধিকারী ছিলেন। ১৯৯৮ সালের আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় সেরা উইকেট-রক্ষকের মর্যাদা লাভ করেন। সেন্ট সেবাস্টিয়ান্স কলেজ একাদশের পক্ষে তিন…

  • | |

    ফিল সিমন্স

    ১৮ এপ্রিল, ১৯৬৩ তারিখে ত্রিনিদাদের অ্যারিমা এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শীতা প্রদর্শন করেছেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ৬ ফুট ৪ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী। কৈশোরে সকল ধরনের খেলায় পারদর্শী ছিলেন। তবে, পরবর্তীতে ক্রিকেটের দিকেই অধিক ঝুঁকে পড়েন। গর্ডন গ্রীনিজকে…

  • |

    ম্যান্ডি মিচেল-ইন্স

    ৭ সেপ্টেম্বর, ১৯১৪ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের কলকাতায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রাখতেন। ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে অগ্রসর হতেন। এছাড়াও, মিডিয়াম পেস বোলিং করতেন। ১৯৩০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। সেডবার্গে অধ্যয়ন শেষে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনো করেন। সেডবার্গে থাকাকালীন অসাধারণ বিদ্যালয় বালকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। একবার তিনি অভ্যন্তরীণ খেলায় ৩০২…