| |

গ্রাহাম অনিয়ন্স

৯ সেপ্টেম্বর, ১৯৮২ তারিখে গেটসহেড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে খেলতেন। ডানহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

৬ ফুট ২ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী গ্রাহাম অনিয়ন্স ব্লেডনভিত্তিক সেন্ট টমাস মুর আরসি স্কুলে অধ্যয়ন করেছেন। বোলিংয়ে ক্রমাগত সফলতা ও যোগ্যতার পরিচয় দিয়েছিলেন। ২০০৪ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ডারহাম ও ল্যাঙ্কাশায়ার এবং দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে ডলফিন্সের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, ডারহাম ক্রিকেট বোর্ড, ইংল্যান্ড লায়ন্স, ইউনিকর্নস ও মেরিলেবোন ক্রিকেট ক্লাবের পক্ষে খেলেছেন। ১০ এপ্রিল, ২০০৪ তারিখে চেস্টার-লি-স্ট্রিটে ডারহাম বনাম ডারহাম ইউসিসিই’র মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূচনা ঘটান।

নিখুঁত মানসম্পন্ন পেসার হিসেবে ডারহামের পক্ষে দূর্দান্ত ভূমিকা রেখেছিলেন। এর স্বীকৃতিস্বরূপ ইংল্যান্ড দলে খেলার জন্যে আমন্ত্রণ বার্তা লাভ করেন। ২০০৬ সালে প্রথমবারের মতো মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হন। ড্যারেন গফের আঘাতের কারণে পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলার জন্যে তাঁকে দল নির্বাচকমণ্ডলী মনোনীত করে। তবে, প্রথম একাদশে খেলার সুযোগ পাননি।

২০০৯ থেকে ২০১২ সময়কালে নয়টিমাত্র টেস্ট ও চারটিমাত্র ওডিআইয়ে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ২০০৯ সালে নিজ দেশে ক্রিস গেইলের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ৬ মে, ২০০৯ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। টিম ব্রেসনানের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। স্বপ্নিল এ টেস্টে স্বাগতিক দল চার বছরের মধ্যে দ্বিতীয়বার ক্রিকেটের স্বর্গভূমিতে জয়লাভ করে। প্রথম ইনিংসে মাত্র ৯.৩ ওভারে ৫/৩৮ লাভ করেন। তন্মধ্যে, এক ওভার থেকেই তিনি তিন উইকেটের সন্ধান পেয়েছিলেন। দ্বিতীয় ইনিংসে ৬৪ রান খরচায় দুই উইকেট পান। তবে, ব্যাট হাতে নিয়ে একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ফিডেল এডওয়ার্ডসের বলে শূন্য রানে বিদেয় নিয়েছিলেন। গ্রায়েম সোয়ানের অনবদ্য অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ১০ উইকেটে জয় পেলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

পাঁচ-উইকেট নিয়ে টেস্টে প্রতিশ্রুতিশীলতার স্বাক্ষর রাখলেও আঘাত ও স্বাস্থ্যজনিত সমস্যার কারণে এ ধারাবাহিকতা রাখতে পারেননি। তবে, কাউন্টি পর্যায়ে ঠিকই নিয়মিতভাবে উইকেট সংগ্রাহকে পরিণত করেছিলেন।

এরপর, ১৪ মে, ২০০৯ তারিখে চেস্টার-লি-স্ট্রিটে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ১/৫২ ও ২/৪৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, দলের একমাত্র ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নামার সুযোগ পাননি। জেমস অ্যান্ডারসনের অসাধারণ বোলিং দাপটে সফরকারীরা ইনিংস ও ৮৩ রানে পরাভূত হলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

একই বছর নিজ দেশে রিকি পন্টিংয়ের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ৩০ জুলাই, ২০০৯ তারিখে বার্মিংহামের এজবাস্টনে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ৪/৫৮ ও ১/৭৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, দলের একমাত্র ইনিংসে ২* রান সংগ্রহ করেন। তবে, মাইকেল ক্লার্কের অনবদ্য ব্যাটিং দৃঢ়তায় খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকে।

২০০৯-১০ মৌসুমে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে অ্যান্ড্রু স্ট্রসের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। ১৬ ডিসেম্বর, ২০০৯ তারিখে সেঞ্চুরিয়নে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ৩/৮৬ ও ১/৫০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ৪* ও ১* রান সংগ্রহ করেন। তবে, গ্রায়েম সোয়ানের অসামান্য অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

২০১২ সালে নিজ দেশে ড্যারেন স্যামি’র নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ৭ জুন, ২০১২ তারিখে বার্মিংহামে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নামার সুযোগ না পেলেও বল হাতে নিয়ে ৪/৮৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। বৃষ্টিবিঘ্নিত খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে সফরকারীরা ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে অংশগ্রহণ ছিল।

খেলোয়াড়ী জীবনে ব্যাঘাতের কারণে ২০২০ সালের গ্রীষ্মে অনেকটা জোরপূর্বক ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পরও ল্যাঙ্কাশায়ারের কোচ হিসেবে খেলার জগতে ফিরে আসেন। ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২০ তারিখে চিকিৎসকের পরামর্শমাফিক পিঠের আঘাতের কারণে তিনি অবসর নিতে বাধ্য হন। ১১ জানুয়ারি, ২০২১ তারিখে ল্যাঙ্কাশায়ারের বোলিং কোচ হিসেবে তাঁকে মনোনীত করা হয়।

সম্পৃক্ত পোস্ট