|

মোহাম্মদ ওয়াসিম

৮ আগস্ট, ১৯৭৭ তারিখে পাঞ্জাবের রাওয়ালপিন্ডিতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। লেগ-ব্রেক গুগলি বোলিংয়ে পারদর্শীতা প্রদর্শনসহ মাঝে-মধ্যে উইকেট-রক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতেন। পাকিস্তানের পক্ষে টেস্ট ও ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছেন।

১৯৯৪-৯৫ মৌসুম থেকে ২০১১-১২ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে পাকিস্তান এগ্রিকালচার ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক, খান রিসার্চ ল্যাবরেটরিজ ও রাওয়ালপিন্ডি এবং নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে ওতাগোর প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, নেদারল্যান্ডস, নর্থ হল্যান্ড হারিকেন্স ও রাওয়ালপিন্ডি র‌্যামসের পক্ষে খেলেছেন।

১৯৯৬ থেকে ২০০০ সময়কালে পাকিস্তানের পক্ষে সর্বমোট ১৮ টেস্ট ও ২৫টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৯৬-৯৭ মৌসুমে নিজ দেশে লি জার্মনের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। ২১ নভেম্বর, ১৯৯৬ তারিখে লাহোরে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে অংশ নেন। জহুর ইলাহী’র সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে ১৯ বছর বয়সে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ১০৯ রানের ইনিংস খেলে তুমুল জনপ্রিয়তা লাভ করেন। এরফলে, চতুর্থ পাকিস্তানী হিসেবে টেস্ট অভিষেকে শতক হাঁকানোর গৌরব অর্জন করেন। তবে, প্রথম ইনিংসে শূন্য রানে বিদেয় নিয়েছিলেন। সায়মন ডৌলের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে খেলায় তাঁর দল ৪৪ রানে পরাজয়বরণ করলে ১৯৬৯-৭০ মৌসুমের পর প্রথমবারের মতো পাকিস্তানকে হারায় ও দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে। একই সফরে ৮ ডিসেম্বর, ১৯৯৬ তারিখে করাচীতে ওডিআইয়ে প্রথমবারের মতো অংশ নেন।

১৯৯৭-৯৮ মৌসুমে নিজ দেশে কোর্টনি ওয়ালশের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ১৭ নভেম্বর, ১৯৯৭ তারিখে পেশাওয়ারে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে অংশ নেন। দলের একমাত্র ইনিংসে ২৮ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, তিনটি ক্যাচ তালুবন্দী করেন। তন্মধ্যে, দ্বিতীয় ইনিংসে উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালনে অগ্রসর হয়েছিলেন। তবে, মুশতাক আহমেদের অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে খেলায় স্বাগতিকরা ইনিংস ও ১৯ রানে জয় পেয়ে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

১৯৯৭-৯৮ মৌসুমে রশীদ লতিফের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের সদস্যরূপে জিম্বাবুয়ে গমন করেন। ২১ মার্চ, ১৯৯৮ তারিখে হারারেতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। অপূর্ব ক্রীড়াশৈলীর স্বাক্ষর রাখেন। ১৯২ ও ৮ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তাঁর অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ৩ উইকেটে জয় পেয়ে ১-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।

এক সময়ে সোজা হাতে ব্যাট চালাতেন ও কোন স্ট্রোক খেলার অধিকারী ছিলেন না বলে মনে করা হতো। কিন্তু, উইকেটে থিতু হবার পর তাঁকে থামানো বেশ দুষ্কর ছিল। অভিষেকেই শতক হাঁকানোর পর দলে নিয়মিত ছিলেন। তবে, এরপর কয়েকটি খেলায় তেমন সুবিধে করতে পারেননি। হারারেতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে নিম্নমুখী খেলায় ১৯২ রানের ইনিংস পুণরায় তাঁকে সংবাদ শিরোনামে পরিণত করে।

হোবার্ট ও ব্রিজটাউনে সুন্দর অর্ধ-শতরানের ইনিংস খেলেন। কিন্তু, দল নির্বাচকমণ্ডলীর নজর আকর্ষণ করতে না পারা ও ২০০০ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে উপর্যুপরী ব্যর্থতার পর দল থেকে বাদ পড়েন। একদিনের আন্তর্জাতিকের ক্ষেত্রেও একই ধারা অব্যাহত রাখেন। কিছু ভালোমানের ইনিংস উপহার দিলেও তা যথেষ্ট ছিল না। শুরুতে বেশ ধীরলয়ে খেলার প্রবণতা বিরাজমান ছিল।

অভিষেক ঘটার তিন বছরের মধ্যেই উদীয়মান প্রতিভার মুখ থুবড়ে পড়ে। তাঁকে বাদ দিয়ে পিসিবি কর্তৃপক্ষ প্রতিশ্রুতিশীল নবাগতদের প্রতি ধাবিত হয়। ২০০০ সালে মঈন খানের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের সদস্যরূপে শ্রীলঙ্কা গমন করেন। ২১ জুন, ২০০০ তারিখে গলেতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে দলের একমাত্র ইনিংসে ২৯ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। তবে, ওয়াসিম আকরামের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ১৬৩ রানে পরাভূত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

২০০২-০৩ মৌসুমে পাকিস্তান ত্যাগ করেন। নিউজিল্যান্ডে ওতাগোর পক্ষে খেলার জন্যে চুক্তিবদ্ধ হন। সেখানে ঘরোয়া ক্রিকেট খেলেন।

সম্পৃক্ত পোস্ট