৬ ডিসেম্বর, ১৯৮২ তারিখে হারারেতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। বামহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম কিংবা ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলার হিসেবেও দারুণ সুনাম কুড়িয়েছেন। ২০০০-এর দশকে জিম্বাবুয়ের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
চমৎকার অল-রাউন্ডার ছিলেন। ক্ষীপ্রগতিসম্পন্ন ঘূর্ণায়মান ভঙ্গীমায় বোলিংয়ে অগ্রসর হতেন। তবে, ব্যাটিংয়ের দিকে মনোনিবেশ ঘটানোর ফলে বোলিংয়ে বিরূপ প্রভাব ফেলে। ক্রিকেটপ্রেমী পরিবারের সন্তান। পিতা রোরি আরভিন ও কাকা নীল আরভিন ঘরোয়া পর্যায়ে পেশাদারী ক্রিকেটার ছিলেন। শৈশবকাল থেকেই ক্রিকেটের সাথে জড়িত হয়ে পড়েন। পরবর্তীতে, পিতার ছত্রচ্ছায়ায় নিজেকে গড়ে তুলতে থাকেন। ব্রাইডেন প্রাইমারি স্কুলে অধ্যয়নকালীন খেলোয়াড় হিসেবে পরিচিতি পান। ২০০১ সালে সিএফএক্স একাডেমিতে যুক্ত হন। তবে, ২০০২ সালে মিডল্যান্ডসের পক্ষেই মূলতঃ ঘরোয়া ক্রিকেটে প্রথম খেলায় অংশ নেন। ঐ একই বছরে অনেকটা আকস্মিকভাবেই দূর্বলমানের জিম্বাবুয়ীয় দলের পক্ষে খেলার জন্যে মনোনীত হন।
১.৮৭ মিটার উচ্চতার অধিকারী। ‘সিয়াক’ কিংবা ‘স্লাগ’ ডাকনামে ভূষিত হয়েছিলেন। ২০০০-০১ মৌসুম থেকে ২০১৮-১৯ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর জিম্বাবুয়ীয় ক্রিকেটে মিডল্যান্ডস ও সাউদার্ন রক্স, ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে হ্যাম্পশায়ার এবং অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, ব্রাদার্স ইউনিয়ন, দূরন্ত রাজশাহী ও কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটর্সের পক্ষে খেলেছেন।
২০০১ থেকে ২০০৪ সময়কালে সবমিলিয়ে জিম্বাবুয়ের পক্ষে পাঁচটিমাত্র টেস্ট ও ৪২টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। মাত্র আঠারো বছর বয়সে অক্টোবর, ২০০১ সালে ইংল্যান্ড গমন করেন। চার-ওডিআই নিয়ে গড়া সিরিজে অংশগ্রহণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন। ১০ অক্টোবর, ২০০১ তারিখে বুলাওয়েতে অনুষ্ঠিত ঐ খেলায় সাত ওভার বোলিং করে ৫৪ রান খরচায় কোন উইকেট লাভে ব্যর্থ হন। তবে, নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নেমে ৭৬ স্ট্রাইক রেটে ১৯ রান তুলেছিলেন। নিজস্ব দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক খেলায় অনেকটা দূর্ভাগ্যজনকভাবে রান-আউটের শিকার হন। তবে, মিতব্যয়ী বোলিং করে সকলের নজর কাড়েন। ৭ ওভারে মাত্র ২৭ রান দিয়েছিলেন।
২০০৩ সালে হিথ স্ট্রিকের নেতৃত্বাধীন জিম্বাবুয়ে দলের সাথে ইংল্যান্ড গমন করেন। ২২ মে, ২০০৩ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত সিরিজের প্রথম টেস্টে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। মার্ক বুচারের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ইনিংস ও ৯২ রানে পরাভূত হলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে। খেলায় তিনি ২/৯৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড়ান। এছাড়াও, উভয় ইনিংসে ৪ রান করে সংগ্রহ করেছিলেন। পাশাপাশি, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন।
২০০৩ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলেন। তবে, জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট ইউনিয়নে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের প্রতিবাদে ১৫জন বিদ্রোহী খেলোয়াড়ের অন্যতম ছিলেন। এরফলে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অধিক খেলায় অংশগ্রহণ থেকে বঞ্চিত হয়েছিলেন। তাসত্ত্বেও, নিজের সর্বশেষ তিন টেস্ট থেকে তিনটি অর্ধ-শতরানের ইনিংস খেলেছিলেন। পার্থে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৫৩ এবং পরবর্তীতে হারারেতে বাংলাদেশের বিপক্ষে ৮৬ ও ৭৪ রান তুলে নিজের পরিপক্কতার কথা জানান দেন।
২০০৩-০৪ মৌসুমে নিজ দেশে হাবিবুল বাশারের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশী দলের মুখোমুখি হন। ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০০৪ তারিখে বুলাওয়েতে অনুষ্ঠিত সফররত বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টটি বৃষ্টির কবলে পড়ে। ঐ খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হয়েছিল। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নামার সুযোগ না পেলেও একটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৩/৪৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। পরবর্তীতে, এ টেস্টই তাঁর সর্বশেষ ছিল।
১৫ মে, ২০০৪ তারিখে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণের কথা ঘোষণা করেন। ৩২.৬২ গড়ে ২৬১ রান সংগ্রহের পাশাপাশি টেস্টগুলো থেকে ৯ উইকেট লাভ করেছিলেন। এছাড়াও, ওডিআইগুলো থেকে ৬৯৮ রান ও ৪১ উইকেট নিজ নামের পার্শ্বে যুক্ত করেন।
মে, ২০০৪ সালে নতুন জীবনের সন্ধানে দেশ ছেড়ে অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমান। দল ছেড়ে চলে আসার ফলে জিম্বাবুয়ীয় ক্রিকেটের প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের ঘাটতিকে আরও প্রকট করে তুলেন। ২০০৬ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। পরবর্তীতে, ইংল্যান্ডের হ্যাম্পশায়ারের সাথে চুক্তিবদ্ধ হন। সেখানে খুবই সফলতম কাউন্টি খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেন। ১৪ বছর কাউন্টি ক্রিকেটে অংশ নেন। এছাড়াও, ডার্বিশায়ারের পক্ষে কর্জকৃত খেলোয়াড় হিসেবে দুই খেলায় অংশ নিয়েছিলেন। ২০১৮ মৌসুম শেষে অবসর গ্রহণের কথা ঘোষণা করেন। হ্যাম্পশায়ারের ইতিহাসের অন্যতম সফলতম সময়কালে সাতটি শিরোপা লাভের সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছিলেন।
শেন ওয়ার্নের অধিনায়কত্বে হ্যাম্পশায়ার দলে যুক্ত হবার পর থেকে তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলতে শুরু করেন। ক্রমাগত রান সংগ্রহ করতেন থাকেন ও চ্যাম্পিয়নশীপে দলকে রার্নার্স-আপে নিয়ে যান। ২০০৫ সালের সিএন্ডজি কাপের সেমি-ফাইনাল ও ফাইনালে উপর্যুপরী শতক হাঁকান। ওয়ারউইকশায়ারের বিপক্ষে দলের নতুন সাফল্যে নেতৃত্ব দেন। তবে, ঐ মৌসুমের শেষ খেলায় বোলিংয়ের বিরূপ প্রভাবে দল ক্ষতিগ্রস্ততার কবলে পড়ে।
২০০৯, ২০১০ ও ২০১২ সালের ট্রফি বিজয়েও প্রভূতঃ ভূমিকা রাখেন। তন্মধ্যে, ২০০৯ সালে ৪১.৬০ গড়ে ৮৩২ রান তুলে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশীপের শিরোপা বিজয়ে নেতৃত্ব দেন। ২০১০ সালে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশীপের খেলায় সমারসেটের বিপক্ষে ২৩৭ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। এ সংগ্রহটি হ্যাম্পশায়ারের ছয় নম্বরের নিচেরসারির ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সর্বোচ্চ ছিল। ২০১৪ সালেও নিজের সক্ষমতা চলমান রাখেন। ৪৫.০৫ গড়ে রান তুলে চ্যাম্পিয়নশীপে দলের উত্তরণে ভূমিকা রাখেন। ২০১৫ ও ২০১৬ সালে দলকে অবনমনের হাত থেকে রক্ষা করেন। শেষের ঘটনায় অবশ্য ইসিবি হস্তক্ষেপ করে ডারহামকে অবনমন ঘটায়। ২০০৮ সালে ব্যাসিংস্টকে অসম্ভব জয়ের লক্ষ্যমাত্রায় অগ্রসর হয়ে অপরাজিত ৮৪ রানের ইনিংস খেলে ডারহামের বিপক্ষে দলের জয়ে বিরাট অবদান রাখেন।
২০০৯-১০ মৌসুমে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্যে জিম্বাবুয়ের ক্রিকেটে অংশ নেন। নিয়মিত খেলোয়াড় ও সহোদর ক্রেগ আরভিনের সাথে সাউদার্ন রক্সের সাথে খেলার জন্যে চুক্তিবদ্ধ হন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে প্রথমবারের মতো দ্বি-শতক হাঁকান। স্বীয় ভ্রাতার সাথে ১৭৮ রান তুলে দলকে রক্ষা করেন। এরফলে, ২০১১ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় জিম্বাবুয়ে দলের সদস্য হিসেবে মনোনীত হন। কিন্তু, ভারত গমনের কয়েক সপ্তাহ পূর্বে সিদ্ধান্ত পুণর্বিবেচনায় অগ্রসর হন ও ঐ প্রতিযোগিতায় অংশ নেননি। নিজ দেশের পক্ষে খেলার চেয়ে কাউন্টি ক্রিকেটের চুক্তিকেই অগ্রাধিকার দেন।
২০১২ সালের বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগে দূরন্ত রাজশাহী দলের পক্ষে খেলেছিলেন। এছাড়াও, ২০১৭ সালে পাকিস্তান সুপার লীগে কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটর্সের পক্ষাবলম্বন করেছেন।
