৪ সেপ্টেম্বর, ১৯০২ তারিখে ডার্বিশায়ারের ক্রেসওয়েল এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। দলে মূলতঃ বোলার হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করেছেন। লেগ-ব্রেক গুগলি বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৩০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
১৯২৬ সালে সাধারণ ধর্মঘট চলাকালে ক্রেসওয়েল কয়লাখনিতে বোলিংকালে তিনি চিহ্নিত হন। ডার্বিশায়ার কর্তৃপক্ষের নজর কাড়েন। সকলকে বিমোহিত করে ১৯২৮ সালে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে প্রথমবারের মতো খেলেন। এরপর থেকে পরবর্তী ১১ বছর কাউন্টি দলের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গে পরিণত হন। ২০ গড়ে ১৪৮৩ উইকেট দখল করেন।
ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ডার্বিশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯২৮ থেকে ১৯৩৯ সময়কালে ডার্বিশায়ারের পক্ষে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলেন। তন্মধ্যে, ১৯৩৬ সালে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশীপের শিরোপা বিজয়ে দলে অমূল্য ভূমিকা পালন করেন। দলের প্রধান বোলিং চালিকাশক্তিতে পরিণত হন। এক হাজার চারশতের অধিক উইকেট পান। মসৃণ ভঙ্গীমার সাথে কব্জির জোড়ালো মোচরে অপূর্বতার সাথে বল ফেলতেন। বিস্ময়করভাবে স্নুকার টেবিল থেকে লেগ স্পিনের বিষয়টি রপ্ত করেন। পরবর্তীকালে ইংল্যান্ডের অন্যতম সেরা স্পিনার হিসেবে পরিগণিত হন।
১৯৩৩ থেকে ১৯৩৫ সময়কালে সব মিলিয়ে ইংল্যান্ডের পক্ষে মাত্র পাঁচবার টেস্টে অংশ নেয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯৩২-৩৩ মৌসুমে ডগলাস জার্ডিনের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সাথে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড গমন করেন। ১০ ফেব্রুয়ারি, ১৯৩৩ তারিখে ব্রিসবেনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বডিলাইন সিরিজের চতুর্থ টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন করেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে বিল ও’রিলি’র বলে শূন্য রানে বিদেয় নিয়েছিলেন। এছাড়াও, একটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। পাশাপাশি, বল হাতে নিয়ে ২/৪৯ ও ১/১১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। স্বাগতিকরা ৬ উইকেটে পরাজয়বরণ করলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৩-১ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।
এ সফরে দুইবার অনমনীয় বিল উডফুলকে টেস্টে বিদেয় করেন ও প্রস্তুতিমূলক খেলায় ডন ব্র্যাডম্যানকে গুগলিতে পরাস্ত করেছিলেন।
১৯৩২-৩৩ মৌসুমে বব ওয়াটের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সদস্যরূপে প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ড সফরে যান। ৩১ মার্চ, ১৯৩৩ তারিখে অকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১/৪৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, ব্যাটিংয়ে নামার সুযোগ পাননি। ‘ওয়ালি হ্যামন্ডের টেস্ট’ নামে পরিচিত খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে সিরিজটি ফলাফলবিহীন অবস্থায় শেষ হয়।
১৯৩৪ সালে নিজ দেশে বিল উডফুলের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ২০ জুলাই, ১৯৩৪ তারিখে লিডসে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ০/১২৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৯ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
১৯৩৫ সালে নিজ দেশে হার্বি ওয়েডের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ২৯ জুন, ১৯৩৫ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ৫* ও ১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/৭১ ও ২/৯৩ লাভ করেন। ১৫৭ রানে পরাজয়বরণ করলে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
দারুণ লেগ-স্পিনার হিসেবে বলকে বেশ বাঁক খাওয়াতে পারতেন। তবে, নিজেকে কখনো ইংল্যান্ডের পক্ষে মেলে ধরতে পারেননি।
প্রাণোচ্ছ্বাসে ভরপুর ছিল তাঁর জীবন। দলীয় সঙ্গীদের কাছেও তিনি বেশ জনপ্রিয় ছিলেন। খনি এলাকায় বড় হয়েছেন। চশমা পরিধান করতেন। আত্মবিশ্বাস ও গর্বিত জীবনের অধিকারী ছিলেন। প্রচলিত রয়েছে যে, তিনি জানতেন না যে তিনি কতটুকু ভালোমানের ছিলেন ও এক পর্যায়ে নিজেকে সেরা ক্রিকেটারে পরিণত করেছিলেন। ২৭ জানুয়ারি, ১৯৯৬ তারিখে ইয়র্কশায়ারের হিকলটন এলাকায় ৯৩ বছর ১৪৫ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে। মৃত্যুকালে তিনি ইংল্যান্ডের বয়োজ্যেষ্ঠ জীবিত টেস্ট খেলোয়াড় ছিলেন ও পরিচিতি পাওয়া ১৯৩২-৩৩ মৌসুমের বডিলাইন সিরিজে অংশগ্রহণকারী লিও ও’ব্রায়ান (৮৮) ও স্যার ডোনাল্ড ব্র্যাডম্যানের (৮৭) সাথে তিনজন জীবিত ক্রিকেটারের অন্যতম ছিলেন।
