৫ আগস্ট, ১৯৯২ তারিখে সিলেটের ছোট্ট শহর কুলাউড়ায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলিংয়ের দিকেই অধিক মনোনিবেশ ঘটান। ডানহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিং করেন। এছাড়াও, নিচেরসারিতে বামহাতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শনে স্বীয় সক্ষমতার পরিচয় দিয়েছেন। ২০১০-এর দশকে বাংলাদেশের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
‘রাজু’ ডাকনামে পরিচিতি পান। ২০০৮-০৯ মৌসুম থেকে ২০১৭-১৮ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর বাংলাদেশী ক্রিকেটে পূর্বাঞ্চল ও সিলেট বিভাগের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, দূরন্ত রাজশাহী, সিলেট রয়্যালস ও সিলেট সিক্সার্সের পক্ষে খেলেছেন। ১৬ বছর বয়সে ২০ অক্টোবর, ২০০৮ তারিখে সিলেট বিভাগের পক্ষে তাঁর প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটে। খুলনায় অনুষ্ঠিত ঐ খেলায় প্রতিপক্ষ ছিল খুলনা বিভাগীয় দল। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগে রাজশাহী কিংসের পক্ষে ২০১৬ সালের আসরে অংশ নেন। ঐ প্রতিযোগিতায় তাঁর দল রানার্স-আপ হয়েছিল।
অনূর্ধ্ব-১৫ দলে প্রথম খেলেন। চমৎকার বোলিং নৈপুণ্য প্রদর্শনের কারণে বাংলাদেশ দলের সাবেক অধিনায়ক মিনহাজুল আবেদিনের সুনজরে পড়েন ও ফাস্ট বোলার হিসেবে খেলতে থাকেন। কয়েক বছর পর ঢাকা প্রিমিয়ার লীগে এগারোটি একদিনের খেলায় অংশ নিয়ে ৩৪ উইকেট দখল করেন। একাডেমি ও বাংলাদেশ ‘এ’ দলের পক্ষে নিয়মিতভাবে খেলেন। দলের সদস্য হলেও জুলাই, ২০১২ সালে আয়ারল্যান্ড গমনার্থে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ দলে খেলার জন্যে আমন্ত্রণ বার্তা পান। ৯ নভেম্বর, ২০১৬ তারিখে টি২০ ক্রিকেটে নিজস্ব প্রথম পাঁচ-উইকেট লাভ করেন। মিরপুরে অনুষ্ঠিত ২০১৬-১৭ মৌসুমের বিপিএল আসরে খুলনা টাইটান্স বনাম রাজশাহী কিংসের মধ্যকার খেলায় এ সাফল্য পান।
২০১২ থেকে ২০১৮ সময়কালে বাংলাদেশের পক্ষে তিনটিমাত্র টেস্ট, সাতটিমাত্র ওডিআই ও পাঁচটিমাত্র টি২০আইয়ে অংশ নিয়েছেন। ২০১২ সালে তিনটি-টি২০আই নিয়ে গড়া সিরিজ খেলার উদ্দেশ্যে আয়ারল্যান্ড গমন করেন। এরপর, ১৮ জুলাই, ২০১২ তারিখে বেলফাস্টে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে টি২০আইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট জগতে প্রবেশ করেন।
২০১২ সালে শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত আইসিসি বিশ্ব টি২০ দলের সদস্যরূপে যুক্ত হন। ঐ প্রতিযোগিতায় কেবলমাত্র একটি খেলায় অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। পাকিস্তানের বিপক্ষে ঐ খেলায় দুই উইকেট লাভ করলেও তাঁর দল পরাজিত হয়েছিল। ঐ বছরের শেষদিকে নিজ দেশে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ দলে তাঁকে ঠাঁই দেয়া হয়।
অনেকটা আকস্মিকভাবেই খ্যাতির শিখরে আরোহণ করেছেন। বাংলাদেশ দলে নতুন বল নিয়ে বোলিং আক্রমণ পরিচালনায় অন্তর্ভুক্ত হন। ২০১২-১৩ মৌসুমে নিজ দেশে ড্যারেন স্যামি’র নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ২১ নভেম্বর, ২০১২ তারিখে খুলনায় অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে বাংলাদেশের সদস্যরূপে ৬৫তম টেস্ট ক্রিকেটার হিসেবে অভিষেক ঘটে তাঁর। বল হাতে নেয়ার পূর্বেই নভেম্বর, ২০১২ সালে দশ নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে শতক হাঁকানোর বিরল কৃতিত্বের সাথে নিজেকে জড়ান। এরফলে, ১১০ বছরে পূর্বে রেজি ডাফের পর টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে এ অবস্থানে থেকে অভিষেকে শতরান করার গৌরব অর্জন করেন। তবে, বল হাতে নিয়ে মোটেও সুবিধে করতে পারেননি। শতাধিক রান খরচ করেও কোন উইকেটের সন্ধান পাননি। দশ উইকেটে পরাজয়বরণ করে তাঁর দল। একই সফরের ৩০ নভেম্বর, ২০১২ তারিখে খুলনায় প্রথমবারের মতো ওডিআইয়ে অংশ নেন।
মার্চ, ২০১৩ সালে নিজস্ব প্রথম টেস্ট উইকেট লাভ করেন। গল টেস্টে অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজকে বিদেয় করেন। বল হাতে তেমন কার্যকর ভূমিকা রাখতে না পারায় শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ঐ সিরিজের পর তাঁকে বাদ দেয়া হয়। এছাড়াও, ওডিআইয়েও তেমন সুবিধে করতে পারেননি। ৩০ মে, ২০১৮ তারিখে আফগানিস্তানের বিপক্ষে টি২০আইয়ে অংশগ্রহণের লক্ষ্যে আঘাতের কবলে পড়া মুস্তাফিজুর রহমানের স্থলাভিষিক্ত হন।
২০১২-১৩ মৌসুমে মুশফিকুর রহিমের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশী দলের সদস্যরূপে শ্রীলঙ্কা গমন করেন। ১৬ মার্চ, ২০১৩ তারিখে কলম্বোর আরপিএসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ৪ ও ২৫* রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ২/৮০ ও ০/২১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। রঙ্গনা হেরাথের সুন্দর বোলিংশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ৭ উইকেটে পরাজয়বরণ করলে ১-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
