১ অক্টোবর, ১৯৯৪ তারিখে নানাগড়হর এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। বামহাতে মিডিয়াম বোলিং করেন। এছাড়াও, নিচেরসারিতে ডানহাতে ব্যাটিংয়ে নেমে থাকেন। আফগানিস্তানের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
২০১৩-১৪ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ২০১১-১২ মৌসুম থেকে আফগান চিতা ও ২০১৮-১৯ মৌসুম থেকে কান্দাহার নাইটসের পক্ষে খেলেছেন। এছাড়াও, বুস্ট রিজিওনের প্রতিনিধিত্ব করছেন।
২০১১ সালে আয়ারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেটের বাছাইপর্বে আফগানিস্তানের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ৭ আগস্ট, ২০১১ তারিখে ব্রিডিতে অনুষ্ঠিত খেলায় ভানুয়াতু অনূর্ধ্ব-১৯ দলের বিপক্ষে পাঁচ-উইকেট লাভ করেন। ১৪ আগস্ট, ২০১২ তারিখে বাদেরিমে আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে শীর্ষসারির চার উইকেট লাভ করেন। ঐ খেলায় অবশ্য আফগানিস্তান দল ৮ রানের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছিল।
ফয়সাল ব্যাংক টি-২০ কাপ প্রতিযোগিতায় রাওয়ালপিন্ডি রামসের বিপক্ষে আফগান চিতার সদস্যরূপে টি২০ ক্রিকেটে অভিষেক হয়। ঐ খেলায় ব্যাট হাতে নেয়ার সুযোগ পাননি; তবে, বল হাতে নিয়ে দুই ওভার বোলিং করলেও কোন উইকেটের সন্ধান পাননি। আফগানিস্তান প্রিমিয়ার লীগের ২০১৮ সালের আসরে কান্দাহার নাইটসের সর্বোচ্চ উইকেট সংগ্রাহকে পরিণত হন।
৬ অক্টোবর, ২০১৩ তারিখে আইসিসি দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত আইসিসি ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপের ২০১৩ সালের আসরে কেনিয়ার বিপক্ষে অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান। প্রথম ইনিংসে ২ ও দ্বিতীয় ইনিংসে ৩ উইকেটের সন্ধান পান। আফগানিস্তান দল ৮ উইকেটে জয় পায় ও ছয়জন আফগান খেলোয়াড়ের অন্যতম হিসেবে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে তাঁর অভিষেক হয়।
১১ জুলাই, ২০১৮ তারিখে গাজী আমানুল্লাহ খান রিজিওন্যাল ওয়ান ডে টুর্নামেন্টে বুস্ট রিজিওনের পক্ষে লিস্ট-এ ক্রিকেটে প্রথম খেলেন। ১০ ওভারে ২/৩৯ লাভ করেন। তবে, স্পিন গড় রিজিওনের বিপক্ষে ঐ খেলায় তাঁর দল ৫৭ রানে পরাজিত হয়। ঐ প্রতিযোগিতায় দলের সর্বোচ্চ উইকেট সংগ্রাহকে পরিণত হন। সব মিলিয়ে ছয় খেলায় অংশ নিয়ে বারোটি উইকেট পান। ঐ বছরের শেষ দিকে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ সালে আফগানিস্তান প্রিমিয়ার লীগের উদ্বোধনী আসরে কান্দাহার নাইটস দলের সদস্যরূপে মনোনীত হন। ঐ প্রতিযোগিতায় কান্দাহার নাইটসের সর্বোচ্চ উইকেট সংগ্রহকারী ছিলেন। আট খেলায় ষোলো উইকেট পেয়েছেন।
২০১৫ সাল থেকে আফগানিস্তানের পক্ষে টেস্ট, ওডিআই ও টি২০আইয়ে অংশ নিচ্ছেন। ২৯ নভেম্বর, ২০১৫ তারিখে আবুধাবিতে ওমানের বিপক্ষে টি২০ আন্তর্জাতিকে আফগানিস্তানের সদস্যরূপে প্রথম খেলেন। এক রান তুলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১৬ রানের বিনিময়ে তিন উইকেট লাভ করেন ও ওভারপ্রতি ৬ রানের কম খরচ করে দলের ২৭ রানের বিজয়ে অংশ নেন। মে, ২০১৮ সালে স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে আফগানিস্তানের ক্রিকেটের ইতিহাসের উদ্বোধনী টেস্ট খেলার জন্যে মনোনীত হন। তবে, আসগর আফগানের অধিনায়কত্বে ঐ খেলায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাননি।
জুলাই, ২০১৮ সালে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ওডিআই সিরিজ খেলার উদ্দেশ্যে দলে অন্তর্ভুক্ত হন। সেপ্টেম্বর, ২০১৮ সালে এশিয়া কাপে আফগানিস্তানের ওডিআই দলে জায়গা পান। তবে, দ্বি-পক্ষীয় সিরিজ কিংবা এশিয়া কাপের কোন খেলায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাননি। ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ সালে ভারতের মাটিতে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ওডিআই দলে রাখা হয়। ২ মার্চ, ২০১৯ তারিখে দেরাদুনে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো ওডিআইয়ে অংশ নেন। খেলাটি অবশ্য পরিত্যক্ত ঘোষিত হয়। ওডিআই সিরিজের পর ১২ মার্চ, ২০১৯ তারিখে জহির খানের সাথে আফগানিস্তানের টেস্ট দলে যুক্ত হন। একই দলের বিপক্ষে আফগানিস্তানের একমাত্র টেস্টটিতে অবশ্য খেলার সুযোগ পাননি।
২৭ জুন, ২০১৯ তারিখে বিশ্বকাপ ক্রিকেটে আফগানিস্তান দলে যুক্ত হন। ঐ প্রতিযোগিতায় ভিন্নতর প্রেক্ষাপটে আফতাব আলমের অব্যহতির কারণে স্থলাভিষিক্ত হন। আইসিসি কর্তৃপক্ষ এ স্থলাভিষিক্তি অনুমোদন করে। আগস্ট, ২০১৯ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে আফগানিস্তানের একমাত্র টেস্টের জন্যে দলে ঠাঁই হয়। কিন্তু, খেলার সুযোগ পাননি।
ফেব্রুয়ারি, ২০২১ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে আফগানিস্তানের টেস্ট দলে জায়গা পান। ২০২০-২১ মৌসুমে আসগর আফগানের অধিনায়কত্বে সংযুক্ত আরব আমিরাত গমন করেন। ১০ মার্চ, ২০২১ তারিখে আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। শহীদুল্লাহ’র সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ২/৪৮ ও ১/৪৯ লাভ করে দলের সাফল্যে অগ্রসর হন। তবে, কোন ইনিংসেই তাঁকে ব্যাট হাতে নিয়ে মাঠে নামতে হয়নি। হাশমতউল্লাহ শাহীদি’র অপরাজিত দ্বি-শতকের কল্যাণে ঐ টেস্টে তাঁর দল ৬ উইকেটে জয় পেয়ে সিরিজটি ১-১ ব্যবধানে শেষ করতে সমর্থ হয়।
