|

ট্রেভর গ্রিপার

২৮ ডিসেম্বর, ১৯৭৫ তারিখে সলসবারিতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ ইনিংস উদ্বোধনে নামতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। জিম্বাবুয়ের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

রোডেশীয় ক্রিকেটার ও পরবর্তীতে প্রশাসক রে গ্রিপারের সন্তান। পিতার ন্যায় বিভিন্ন কারণে খেলোয়াড়ী জীবনের সমাপ্তি ঘটে। নিজের সেরা দিনগুলো নিখুঁতমানের ব্যাটসম্যান ছিলেন। পরবর্তীতে প্রশাসনের কট্টর সমালোচকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। খাঁটিমানের উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ১৯৯৬-৯৭ মৌসুম থেকে ২০০৫ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর জিম্বাবুয়ীয় ক্রিকেটে ম্যাশোনাল্যান্ড ও মাতাবেলেল্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

ব্যাটসম্যান হিসেবে তেমন সুন্দর ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন করতে না পারলেও বেশ কার্যকরী ইনিংস খেলতে অগ্রসর হতেন। লেগ-সাইডে স্ট্রোক খেলতে অধিক স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন। অন-সাইডে খেলার দিকে নজর রাখলেও পরবর্তীতে অফ-সাইডেও শট মারতে দক্ষতা দেখান। বিদ্যালয়ে অবস্থানকালে সফররত ইংল্যান্ড ‘এ’ দলের বিপক্ষে ২৬৩ মিনিট ক্রিজে অবস্থান করে ২৮ রান তুলেছিলেন। বেশ বয়স নিয়ে জাতীয় দলে অন্তর্ভুক্ত হন। ১৯৯৯-২০০০ মৌসুমে জিম্বাবুয়ে সফররত অস্ট্রেলীয় একাদশের বিপক্ষে জেডসিইউ সভাপতি একাদশের সদস্যরূপে অর্ধ-শতক হাঁকিয়ে দল নির্বাচকমণ্ডলীকে মুগ্ধ করেন। বিস্ময়করভাবে পরের সপ্তাহেই জাতীয় দলে খেলার জন্যে আমন্ত্রিত হন।

১৯৯৯ থেকে ২০০৪ সময়কালে জিম্বাবুয়ের পক্ষে সর্বমোট ২০ টেস্ট ও আটটিমাত্র ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৯৯-২০০০ মৌসুমে নিজ দেশে স্টিভ ওয়াহ’র নেতৃত্বাধীন অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হন। নিজের অভিষেক টেস্টে অর্ধ-শতরানের ইনিংস খেলেন। ১৪ অক্টোবর, ১৯৯৯ তারিখে হারারেতে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের একমাত্র টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ঐ টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে মনোমুগ্ধকর ৬০ রান তুলেন। প্রথম ইনিংসে ৪ রান তুলতে পেরেছিলেন। সফরকারীরা ১০ উইকেটে জয় পায়। পরবর্তীতে বিদেশের মাটিতে একমাত্র শতক হাঁকান। এরপর আরও একবার শতকের দোঁড়গোড়ায় পৌছলেও ব্যর্থ হন। খেলায় ছন্দহীনতায় ভুগেন। ফলে সর্বদাই দলে আসা-যাবার পালায় থাকতেন।

দলের বাইরে চলে যাবার পর পুণরায় ২০০১ সালে বাংলাদেশ গমনার্থে মনোনীত হন। চট্টগ্রামে শতরানের সন্ধান পেয়েছিলেন। এরপর, শ্রীলঙ্কা ও ভারত সফরে ব্যর্থ হলে পুণরায় বাদ পড়েন। তবে, ঘরোয়া ক্রিকেটে ম্যাশোনাল্যান্ডের সদস্যরূপে মনিকাল্যান্ডের বিপক্ষে ২৩৪ রান তুললে পুণরায় জাতীয় দলে জায়গা পান।

২০০৩-০৪ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। কিন্তু এর পরপরই আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়ী জীবনে চূড়ান্ত আঘাত আসে। ২০০৪ সালে হিথ স্ট্রিকের সমর্থনে বিদ্রোহী খেলোয়াড়দের অন্যতম হিসেবে ধর্মঘটে যুক্ত হন ও খেলোয়াড়ী জীবনের সমাপণ ঘটান। প্রায় সকল খেলোয়াড়কেই পরবর্তীতে দলে ফিরিয়ে আনা হলেও তাঁকে এর আওতায় রাখা হয়নি। ইংল্যান্ডে চলে যান ও ক্লাব ক্রিকেটে অংশ নেন। সেখানেও তিনি উপেক্ষার শিকার হন।

২০০৩-০৪ মৌসুমে নিজ দেশে হাবিবুল বাশারের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ দলের মুখোমুখি হন। ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০০৪ তারিখে বুলাওয়েতে অনুষ্ঠিত সফররত বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। একমাত্র ইনিংসে ৬৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। বৃষ্টিবিঘ্নিত খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

সম্পৃক্ত পোস্ট