|

সনথ কালুপেরুমা

২২ অক্টোবর, ১৯৬১ তারিখে কলম্বোয় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ শীর্ষসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে দক্ষ ছিলেন। ১৯৮০-এর দশকে শ্রীলঙ্কার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

১৯৮৩-৮৪ মৌসুম থেকে ১৯৮৮-৮৯ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটে ব্লুমফিল্ড ক্রিকেট ও অ্যাথলেটিক ক্লাবের পক্ষে খেলেছেন। রক্তাক্ত গৃহযুদ্ধকালীন শ্রীলঙ্কা দল উচ্চ পর্যায়ের ক্রিকেটে যোগ্যতাসম্পন্ন ও উপযুক্ত খেলোয়াড়ের সন্ধানে নামলে অনূর্ধ্ব-২৩ দলে তাঁর সুন্দর ক্রীড়াশৈলী দল নির্বাচকমণ্ডলীর দৃষ্টি আকর্ষণে সক্ষম হয়।

১৯৮৪ থেকে ১৯৮৮ সময়কালে শ্রীলঙ্কার পক্ষে চারটিমাত্র টেস্ট ও দুইটিমাত্র ওডিআইয়ে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯৮৩-৮৪ মৌসুমে নিজ দেশে জিওফ হাওয়ার্থের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। ৯ মার্চ, ১৯৮৪ তারিখে ক্যান্ডিতে সফররত নিউজিল্যান্ড দলের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। জয়ন্ত অমরাসিংহে’র সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। তিন নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে সফল হননি। ১৮ ও ৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, অফ-স্পিন বোলিংয়ে ২/১৭ বোলিং পরিসংখ্যান গড়ে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। পাশাপাশি, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, প্রথম ইনিংসে ০/৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। সফরকারীরা ১৬৫ রানে জয় পেয়ে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

একই সফরের ২৪ মার্চ, ১৯৮৪ তারিখে কলম্বো (সিসিসি)-তে অনু্ষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ১৬ ও ১৮ রান সংগ্রহ করেছিলেন। উভয় ইনিংসেই রিচার্ড হ্যাডলি’র বলে বিদেয় নিয়েছিলেন। পাশাপাশি, দুইটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। এছাড়াও, ০/২৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। রিচার্ড হ্যাডলি’র অনবদ্য বোলিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ৬১ রানে পরাভূত হলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

ঐ সিরিজের তিন টেস্টের প্রত্যেকটিতেই অংশ নেন। অংশগ্রহণকৃত ছয় ইনিংসের কোনটিতেই ৩০-এর কোটা স্পর্শ করতে ব্যর্থ হন ও দল থেকে বাদ পড়েন।

প্রায় চার বছর দলের বাইরে ছিলেন। অতঃপর, ১৯৮৭-৮৮ মৌসুমে রঞ্জন মাদুগালে’র নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের সাথে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ১২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮৮ তারিখে পার্থে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শ্রীলঙ্কার একমাত্র টেস্ট খেলার সুযোগ পান। এবারও তিনি হিমশিম খান। ০/৬২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ০ ও ৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ডিন জোন্সের শতকের কল্যাণে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ১০৮ রানে জয় পায়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে অংশগ্রহণ ছিল। একই সফরের ১৯ জানুয়ারি, ১৯৮৮ তারিখে সিডনিতে প্রথমবারের মতো ওডিআইয়ে অংশ নেন।

ঘরোয়া ক্রিকেটের সাফল্য স্বল্পকালীন আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়ী জীবনে তুলে ধরতে পারেননি।

সম্পৃক্ত পোস্ট