২৬ জুলাই, ১৮৫৮ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের ওলংগং এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও আম্পায়ার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

সংবাদপত্রের সত্ত্বাধিকারী ও রাজনীতিবিদ টমাস গারেট এবং মেরি অ্যান এলিজাবেথ দম্পতির দ্বিতীয় পুত্র সন্তান ছিলেন। নিউইংটন কলেজে অধ্যয়ন করেছেন। সেখানেই ক্রিকেটার ও স্প্রিন্টার হিসেবে নিজের পরিচিতি তুলে ধরেন। সহকারী শিক্ষক যোসেফ কোটসের অনুপ্রেরণায় নিজেকে গড়ে তুলেন।

দীর্ঘকায় গড়নের অধিকারী ছিলেন। ১৮৭৬-৭৭ মৌসুম থেকে ১৮৯৭-৯৮ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে নিউ সাউথ ওয়েলসের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

১৮৭৭ থেকে ১৮৮৮ সাল পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সর্বমোট ১৯ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। ১৮৭৬-৭৭ মৌসুমে নিজ দেশে জেমস লিলিহোয়াইট জুনিয়রের নেতৃত্বাধীন দলের মুখোমুখি হন। ১৫ মার্চ, ১৮৭৭ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ড দলের বিপক্ষে ক্রিকেটের ইতিহাসের উদ্বোধনী টেস্টে সফরকারী ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে খেলার গৌরব অর্জন করেন। খেলায় তিনি ২/২২ ও ০/৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ১৮* ও ০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। স্বাগতিকরা ৪৫ রানে জয়লাভ করলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। পরের বছর অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইংল্যান্ড সফরে যান।

১৮৭৮ সালে দলের সাথে ইংল্যান্ড গমন করেন।

১৮৭৮-৭৯ মৌসুমে নিজ দেশে লর্ড হ্যারিসের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের মুখোমুখি হন। ২ জানুয়ারি, ১৮৭৯ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের একমাত্র টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাট হাতে নিয়ে ২৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/১৮ ও ০/১৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। স্বাগতিকরা ১০ উইকেটে জয়লাভ করেছিল।

১৮৮১-৮২ মৌসুমে নিজ দেশে আলফ্রেড শ’য়ের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের মুখোমুখি হন। ১৭ ফেব্রুয়ারি, ১৮৮২ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ৪ ও ৩১* রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৪/৬২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ৫ উইকেটে জয় পেলে স্বাগতিকরা চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

এরপর, ১০ মার্চ, ১৮৮২ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ৫/৮০ ও ০/৬২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, দলের একমাত্র ইনিংসে ১০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে স্বাগতিকরা ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে নেয়। উল্লেখ্য, ১৯৪৬-৪৭ মৌসুম পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এটিই সর্বশেষ ড্র টেস্ট ছিল।

১৮৮৪-৮৫ মৌসুমে নিজ দেশে আর্থার শ্রিউসবারির নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। সমস্যাসঙ্কুল ঐ সিরিজে ২৮জন খেলোয়াড়কে খেলানো হয়েছিল। ২১ মার্চ, ১৮৮৫ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। রাবার নিষ্পত্তি খেলায় তিনি মাত্র ৬ ও ৫ রান তুলেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/১২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ঘটনাবহুল এ টেস্টের তৃতীয় দিন চাবিরতির পূর্বে ইংল্যান্ড দল নিয়মিত আম্পায়ার জর্জ হজেসের সিদ্ধান্তে মনক্ষুণ্ন হলে তিনি আম্পায়ারের দায়িত্ব পালনে অস্বীকৃতি জানান। খেলা চলমান রাখার স্বার্থে তিনি পরিবর্তিত আম্পায়ারের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। খেলায় তাঁর দল ইনিংস ও ৯৮ রানে পরাভূত হলে ৩-২ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

১৮৮৬ সালে টাপ স্কটের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড সফরে যান। ১২ আগস্ট, ১৮৮৬ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাটিংয়ে নেমে ২ ও ৪ রান সংগ্রহ করে উভয় ক্ষেত্রে জর্জ লোহমানের শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৩/৮৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। স্বাগতিকরা ইনিংস ও ২১৭ রানে জয় পেলে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।

১৮৮৬-৮৭ মৌসুমে নিজ দেশে আর্থার শ্রিউসবারি’র নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ২৮ জানুয়ারি, ১৮৮৭ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ২/৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ১২ ও ১০ রান সংগ্রহ উভয় ক্ষেত্রে জর্জ লোহমানের শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। সফরকারী দল ১৩ রানে জয় পেয়ে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

একই সফরের ২৫ ফেব্রুয়ারি, ১৮৮৭ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১ ও ২০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/১২ ও ১/৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। সফরকারীরা ৭১ রানে জয় পেলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।

১৮৮৭-৮৮ মৌসুমে নিজ দেশে আলফ্রেড শ’ ও আর্থার শ্রিউসবারি’র নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ১০ ফেব্রুয়ারি, ১৮৮৮ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের একমাত্র টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১০ ও ১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। স্বাগতিকরা ১২৬ রানে পরাভূত হয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

নিউ সাউথ ওয়েলসের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৮৯৭-৯৮ মৌসুম শেষে অবসর গ্রহণ করেন। তাঁর মাঝে উচ্চ মার্গীয় নেতৃত্বের গুণাবলী ছিল। দক্ষতার সাথে তরুণ বোলারদেরকে উজ্জ্বীবনী শক্তি প্রদান করতেন। প্রথম-শ্রেণীর খেলাগুলো থেকে দুই শতক সহযোগে ১৬.১৮ গড়ে রান তুলেছেন। ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ১৬৩ রান তুলেন। এছাড়াও, ১৮.৭২ গড়ে ৪৪৬ উইকেট দখল করেছিলেন। ব্যক্তিগত সেরা ৭/৩৮ লাভ করেন। ২৯বার পাঁচ-উইকেট ও চারবার দশ উইকেট পেয়েছিলেন।

ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর আম্পায়ার জগতের দিকে ধাবিত হন। একটি প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলা পরিচালনা করেছিলেন।

ক্রিকেটের বাইরে সরকারী চাকুরে ছিলেন। এছাড়াও, আইনজীবীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। হেলেন অ্যালাইস মডের সাথে পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হন। ২৫ মার্চ, ১৮৭৯ তারিখে সিডনিভিত্তিক সেন্ট জেমস চার্চে তাঁদের বিবাহ সম্পন্ন হয়। এ দম্পতির চার পুত্র ও তিন কন্যা ছিল। এইচএফ গারেট নামীয় সন্তানের জনক। তাঁদের বিবাহের হীরকজয়ন্তীতে এমসিসি থেকে ইংল্যান্ডের সকল ক্রিকেটারের পক্ষে শুভেচ্ছাবার্তা প্রেরণ করা হয়। ৬ আগস্ট, ১৯৪৩ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের ওয়ারাউই এলাকায় ৮৫ বছর ১১ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে। মৃত্যু পূর্ব সময়ে অস্ট্রেলিয়ার বয়োজ্যেষ্ঠ জীবিত টেস্ট ক্রিকেটারের সম্মাননাপ্রাপ্ত হয়েছিলেন। এছাড়াও, প্রথম টেস্টের সর্বশেষ জীবিত ক্রিকেটার ছিলেন।

সম্পৃক্ত পোস্ট