২৩ জুলাই, ১৯৫০ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের ক্যাম্পারডাউন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। বামহাতে ব্যাটিং কর্মে অগ্রসর হতেন। ১৯৭০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
১৯৬৮-৬৯ মৌসুম থেকে ১৯৭৭-৭৮ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে নিউ সাউথ ওয়েলসের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
১৯৭৫ থেকে ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত সময়কালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সব মিলিয়ে ১৪ টেস্ট ও ছয়টিমাত্র ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৭৫ সালের অ্যাশেজ সিরিজ খেলতে ইয়ান চ্যাপেলের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ১০ জুলাই, ১৯৭৫ তারিখে বার্মিংহামের এজবাস্টনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে প্রতিপক্ষীয় গ্রাহাম গুচের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ব্যাট হাতে নিয়ে ৩৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ঐ টেস্টে তাঁর দল ইনিংস ও ৮৫ রানের ব্যবধানে জয়লাভ করে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
এরপর, ৩১ জুলাই, ১৯৭৫ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৯ ও ২১ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে স্বাগতিকরা সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।
একই সফরের ২৮ আগস্ট, ১৯৭৫ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ২ ও ৮ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে সফরকারীরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে নেয়।
কেন্টের বিপক্ষে প্রস্তুতিমূলক খেলায় প্রথম ইনিংসে ১৫৬ রান তুলেছিলেন। তবে, কলিন কাউড্রে’র ১৫১ রানের বদৌলতে তাঁর দল চার উইকেটে পরাজিত হয়েছিল। ১৯৭৫ সালের প্রথম ইংল্যান্ড সফরে অন্তরঙ্গ বন্ধু গ্যারি গিলমোরের সাথে একই কক্ষে অবস্থানের বিষয়টি চিন্তা করেছিলেন। তবে, ইয়ান চ্যাপেল বলেছিলেন, ‘কোন সুযোগ নেই। ম্যাক্স ওয়াকারের সাথে নিজে থাকবেন ও তুমি রস এডওয়ার্ডসের সাথে অবস্থান করবে। তাহলে, কিছু শিখতে পারবে।’
ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ১৯৭৫ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী আসরে খেলেন। ৭ জুন, ১৯৭৫ তারিখে লিডসে পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম খেলেন। ৪৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ওভালে মধ্যাহ্নভোজনের পূর্বেই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে শতক হাঁকান। এটিই ওডিআইয়ে যে-কোন অস্ট্রেলীয় ব্যাটসম্যানের প্রথম শতরানের ইনিংস ছিল। চূড়ান্ত খেলায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের মুখোমুখি হন ও ভিভ রিচার্ডসের তিনটি রান-আউটের প্রথমটিতে শিকারে পরিণত হন।
১৯৭৫-৭৬ মৌসুমে নিজ দেশে ক্লাইভ লয়েডের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ৩ জানুয়ারি, ১৯৭৬ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৫৩ ও ১৫ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। দলনায়ক গ্রেগ চ্যাপেলের অনবদ্য ব্যাটিং কৃতিত্বে সফরকারীরা ৭ উইকেটে পরাভূত হলে ছয়-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৩-১ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।
একই সফরের ৩১ জানুয়ারি, ১৯৭৬ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত সিরিজের ষষ্ঠ ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ৩০ ও ২১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। স্বাগতিকরা ১৬৫ রানে জয় পেলে ৫-১ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে নেয়।
১৯৭৭ সালের ইংল্যান্ড সফরের জন্যে মনোনীত হননি। ১৯৭৬-৭৭ মৌসুমে গ্রেগ চ্যাপেলের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ড সফরে যান। ২৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৭ তারিখে অকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৩০ রান ও ২০* সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। স্বাগতিকরা প্রায় দুইদিন বাকী থাকতেই ১০ উইকেটে পরাজিত হলে ১-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়। শতবার্ষিকী টেস্ট থেকে বাদ পড়েন।
ক্যারি প্যাকারের ব্যবস্থাপনায় বিশ্ব সিরিজ ক্রিকেট খেলতে অস্বীকৃতি জানান। ১৯৬৯ সাল থেকে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো কোম্পানিতে চাকুরী করতেন। অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট বোর্ডের খেলাগুলোয় ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো কোম্পানীর ব্যবসায়িক চুক্তি ছিল ও বিশ্ব সিরিজ ক্রিকেট প্রতিযোগিতাটি সাংঘর্ষিক ছিল। প্রতিষ্ঠানটির সাথে ৪৩ বছর যুক্ত ছিলেন। ব্যবস্থাপকের দায়িত্বে থেকে অর্থ ও হিসাব, বিক্রয়, বিপণন কর্মকাণ্ড তদারকী করতেন।
ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত তিনি। ড্যানিয়েল নাম্নী কন্যা রয়েছে।
