১৮ মে, ১৯৫৯ তারিখে কেন্টের ডার্টফোর্ড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, বামহাতে ব্যাটিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছিলেন।
‘ডিল’ কিংবা ‘পিক্কা’ ডাকনামে ভূষিত গ্রাহাম ডিলি ৬ ফুট ৪ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী। ব্যাটিংয়ের তুলনায় বোলিং করেই অধিক পরিচিতি পান। ডার্টফোর্ড ওয়েস্ট সেকেন্ডারি স্কুলে অধ্যয়ন করেছেন। ঘরোয়া আসরের ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে কেন্ট ও ওরচেস্টারশায়ার এবং দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে নাটাল দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, এমসিসি’র পক্ষে খেলেছেন। ১৯৭৭ থেকে ১৯৯২ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ১৮ বছর বয়সে কেন্টের সদস্যরূপে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অংশ নেন। খুব দ্রুত নিজেকে উচ্চ মানসম্পন্ন ফাস্ট বোলারে পরিণত করেন।
১৯৭৯ থেকে ১৯৮৯ সময়কালে ইংল্যান্ডের পক্ষে সর্বমোট ৪১ টেস্ট ও ৩৬টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৭৯-৮০ মৌসুমে মাইক ব্রিয়ার্লি’র নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের সাথে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ২৮ নভেম্বর, ১৯৭৯ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত বিশ্ব সিরিজ কাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান। নতুন বল নিয়ে ডেসমন্ড হেইন্সের উইকেট লাভ করেন ও ইংল্যান্ড দলের বিজয়ে অবদান রাখেন।
পরের মাসে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট খেলার জন্যে মনোনীত হন। ১৪ ডিসেম্বর, ১৯৭৯ তারিখে পার্থে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিন উইকেট লাভ করেন। ২/৪৭ ও ১/৫০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ৩৮* ও ১৫ রান সংগ্রহ করেন। ইয়ান বোথামের অসাধারণ বোলিংশৈলী প্রদর্শন সত্ত্বেও সফরকারীরা ১৩৮ রানে পরাভূত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
১৯৮০ সালে নিজ দেশে ভিভ রিচার্ডসের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ৭ আগস্ট, ১৯৮০ তারিখে লিডসে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে জোয়েল গার্নারের বলে শূন্য রানে বিদেয় নেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৪/৭৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও সফরকারীরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজে জয়লাভ করে।
১৯৮০-৮১ মৌসুমে ইয়ান বোথামের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের সদস্যরূপে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে যান। ১৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮১ তারিখে পোর্ট অব স্পেনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ০/৭৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ০ ও ১* রান সংগ্রহ করেছিলেন। এ কলিন ক্রফ্টের সুন্দর বোলিং নৈপুণ্যে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ৭৯ রানে জয় পেলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
১৯৮১ সালে হেডিংলি টেস্টে সফরকারী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দারুণ খেলে নিজেকে স্মরণীয় করে রাখেন। ফলো-অনের কবলে পড়ে ৫০০-১ বাজীতে জয়ী হবার সম্ভাবনা থেকে ব্যাটিং কর্মে মনোনিবেশ ঘটান। অন্তরঙ্গ বন্ধু ইয়ান বোথামের সাথে ১১৭ রানের জুটি গড়ে অপ্রত্যাশিতভাবে দলকে জয়লাভ করতে বিরাট ভূমিকার স্বাক্ষর রাখেন। ৫৬ রান তুলে টেরি অল্ডারম্যানের শিকারে পরিণত হন।
১৯৮১ সালে নিজ দেশে কিম হিউজের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ২ জুলাই, ১৯৮১ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ৭* ও ২৭* রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৩/১০৬ ও ২/১৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে ছয়-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।
এরপর, ১৯৮৩ সালে বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় ইংল্যান্ডের পক্ষে খেলার সুযোগ পান। তবে, ঘাড়ে ব্যথার কারণে প্রায় এক বছর দলের বাইরে অবস্থান করতে বাধ্য হন। ১৯৮৫ সালে কেন্টের পক্ষে কাউন্টি ক্রিকেটে অংশ নেয়ার মাধ্যমে খেলার জগতে ফিরে আসেন। পরের মৌসুমে ৬৩টি প্রথম-শ্রেণীর উইকেট লাভ করেন। এরফলে, ইংল্যান্ড দলে খেলার জন্যে আমন্ত্রণ পান।
১৯৮৬-৮৭ মৌসুমে মাইক গ্যাটিংয়ের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ১৪ নভেম্বর, ১৯৮৬ তারিখে ব্রিসবেনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে স্টিভ ওয়াহ’র বলে শূন্য রানে বিদেয় নিয়েছিলেন। তবে, বল হাতে নিয়ে ৫/৬৮ ও ১/৪৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। কিন্তু, ইয়ান বোথামের দূর্দান্ত অল-রাউন্ড ক্রীড়া নৈপুণ্যের কল্যাণে সফরকারীরা ৭ উইকেটে জয় পেলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
একই সফরের ১২ ডিসেম্বর, ১৯৮৬ তারিখে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১/১১১ ও ১/৩৮ লাভ করেন। এছাড়াও, একবার ব্যাট হাতে নিয়ে ব্রুস রিডের বলে শূন্য রানে বিদেয় হন। প্রতিপক্ষীয় অধিনায়ক অ্যালান বর্ডারের ব্যাটিং দৃঢ়তায় খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলেও পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটিতে সফরকারীরা ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
১৯৮৯ সালে নিজ দেশে অ্যালান বর্ডারের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ৬ জুলাই, ১৯৮৯ তারিখে বার্মিংহামে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ২/১২৩ ও ০/২৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, দলের একমাত্র ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে ১১* রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে ছয়-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে স্বাগতিকরা ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
১৯৯২ সালে সকল স্তরের ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণের পর কোচিং জগতে প্রবেশ করেন। ইংল্যান্ডের সহকারী কোচ ও মহিলা দলের বোলিং কোচের দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে, লাফবোরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ক্রিকেট কোচ হিসেবে নিযুক্তি পান। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। জেজে ডিলি নামীয় সন্তানের জনক। ৫ অক্টোবর, ২০১১ তারিখে ৫২ বছর ১৪০ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।
তাঁর সম্পর্কে ইয়ান বোথাম মন্তব্য করেন যে, ‘তাঁর সাথে অনেক মজার স্মৃতি জড়িয়ে আছে। অসীম প্রতিভাবান ও দারুণ ক্রিকেটার ছিলেন। তিনি ঘাড় ও হাঁটুর আঘাতে জর্জড়িত ছিলেন। এরফলেই সম্ভবতঃ ইংল্যান্ড দলে অধিক খেলায় অংশ নিতে পারেননি। তবে, নিজের দিনে সেরাদের কাতারে ছিলেন।’
