|

নীতিশ কুমার রেড্ডি

২৬ মে, ২০০৩ তারিখে অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনমে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিংয়ে পারদর্শী। ভারতের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

২০১৯-২০ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে অন্ধ্রের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ ও ভারত ‘ব’ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের পক্ষে খেলেছেন। ২৭ জানুয়ারি, ২০২০ তারিখে অঙ্গোলে অনুষ্ঠিত কেরালা বনাম অন্ধ্রের মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান।

২০১৭-১৮ মৌসুমের বিজয় মার্চেন্ট ট্রফিতে অন্ধ্রের সদস্যরূপে ত্রি-শতক হাঁকিয়ে প্রথমবারের মতো সংবাদ শিরোনামে পরিণত হন। পরের খেলায় নাগাল্যান্ডের বিপক্ষে ৪৪১ বল মোকাবেলায় ৩৪৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ঐ আসরে ১৭৬.৪১ গড়ে ১২৩৭ রান সংগ্রহ করে প্রতিযোগিতার ইতিহাসে সর্বাধিক রান সংগ্রাহকে পরিণত হন। ফলশ্রুতিতে, ঐ মৌসুমে সেরা অনূর্ধ্ব-১৬ ক্রিকেটারের বিসিসিআইয়ের পুরস্কার লাভ করেন। সিমার হিসেবে নিজেকে গড়ে তুললেও বড়দের ঘরোয়া ক্রিকেটে অন্ধ্রের পক্ষে নতুন বল নিয়ে বোলিং আক্রমণে অগ্রসর হন। তাঁর অল-রাউন্ড দক্ষতার কল্যাণে আইপিএলে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের দৃষ্টি আকর্ষণে সক্ষম হন।

২০২৩ সালের আইপিএল আসরের পূর্বে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের সাথে ২০ লক্ষ রূপীর বিনিময়ে খেলার জন্যে চুক্তিবদ্ধ হন। তবে, দুই খেলায় অংশ নিয়ে উইকেটবিহীন পাঁচ ওভার বোলিং করেন। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়েও তেমন সুবিধে করতে পারেননি। কিন্তু, ২০২৪ সালের আসরের চূড়ান্ত খেলায় সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের গুরুত্বপূর্ণ বিজয়ে তাঁর বিধ্বংসী ব্যাটিং বিরাট ভূমিকা রাখে। তাঁর ৬৪ রানের কল্যাণে পাঞ্জাব কিংসের বিপক্ষে দলটি এক রানের নাটকীয় জয় পায়। তবে, হার না মানা ৭৬ রানের কল্যাণে রাজস্থান রয়্যালসের বিপক্ষে দুই রানের জয় পায় তাঁর দল। এ আসরে ১৪২.৯২ স্ট্রাইক-রেটে ৩০৩ রান তুলেন। আইপিএলের ২০২৫ সালের আসরকে ঘিরে ভারতীয় রূপী ৬ কোটির বড় অঙ্কে ঐ দলটিতে থেকে যান।

২০২৪ সালে ভারতের টি২০আই ও টেস্ট দলে তাঁকে যুক্ত করা হয়। এমসিজিতে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বক্সিং ডে টেস্টে শতরানের ইনিংস খেলে ঐ বছরটি শেষ করেন।

২০২৪-২৫ মৌসুমে রোহিত শর্মা’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া সফরে যান। ২২ নভেম্বর, ২০২৪ তারিখে পার্থে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। হর্ষিত রাণা’র সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নেমে ৪১ ও ৩৮* রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৪ ও ১/২১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, জসপ্রীত বুমরা’র অসাধারণ বোলিং কৃতিত্বে স্বাগতিকরা ২৯৫ রানে পরাজয়বরণ করলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে। টেস্ট অভিষেকের পূর্বেই অবশ্য ৬ অক্টোবর, ২০২৪ তারিখে গোয়ালিয়রে অনুষ্ঠিত সফররত বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো টি২০আইয়ে অংশ নেয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন।

এরপর, ২৬ ডিসেম্বর, ২০২৪ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগতভাবে বেশ সফল ছিলেন। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ৪২ রান অতিক্রম করেন। এ পর্যায়ে টেস্টে নিজস্ব প্রথম শতক হাঁকান। খেলায় তিনি ১১৪ ও ১ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে নাথান লায়নের শিকারে পরিণত হন। পাশাপাশি, দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/২১ ও ০/৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, প্রতিপক্ষীয় অধিনায়ক প্যাট কামিন্সের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়া নৈপুণ্যের কল্যাণে সফরকারীরা ১৮৪ রানে পরাজিত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-১ ব্যবধানে পিছিয়ে যায়।

২০২৫-২৬ মৌসুমে নিজ দেশে তেম্বা বাভুমা’র নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ২২ নভেম্বর, ২০২৫ তারিখে গুয়াহাটিতে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১০ ও ০ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/২৫ ও ০/২৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। মার্কো জানসেনের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ৪০৮ রানের বিশাল ব্যবধানে পরাভূত হলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

২৭ জানুয়ারি, ২০২৫ তারিখে ইএসপিএনক্রিকইনফো’র ২০২৪ সালের সেরা সাতজন পুরুষ তরুণ অভিষেকধারীর পুরস্কারের জন্যে মনোনীত সংক্ষিপ্ত তালিকায় আল্লাহ গজনফর, ধ্রুব জুরেল, জ্যাকব বেথেল, নাহিদ রানা, অটনিল বার্টম্যান ও শামার যোসেফের সাথে তাঁকে রাখা হয়।

সম্পৃক্ত পোস্ট