|

ট্রেভর বারবার

২৩ জুন, ১৯২৫ তারিখে ওয়েলিংটনের ওতাকিতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রাখতেন। ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে মনোনিবেশ ঘটাতেন। ১৯৫০-এর দশকে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

মারকুটে ব্যাটসম্যান হিসেবে সুপরিচিত ছিলেন। প্রিয় শটগুলো খেলতে মোটেই অকৃপণ ছিলেন না। ১৯৪৫-৪৬ মৌসুম থেকে ১৯৫৯-৬০ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টস ও ওয়েলিংটনের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৪৫-৪৬ মৌসুমে ওয়েলিংটনের সদস্যরূপে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে যাত্রা শুরু করেন।

গবাদিপশুর খামারে বাবার সাথে ক্রিকেট খেলা শিখতে থাকেন। কভার-ড্রাইভ, পুল, গ্ল্যান্স, স্কয়ার-কাটসহ বৈচিত্র্যমূখী শট খেলতে পারতেন। এছাড়াও, একই ধরনের শটকে অনেক ধরনের শটে পরিণত করতে সহজাত দক্ষতার পরিচয় দিতেন। এক পর্যায়ে এটিই তাঁকে নিচেরদিকে নিয়ে যেতে থাকে।

১৯৫৬ সালে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে একটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯৫৫-৫৬ মৌসুমে নিজ দেশে ডেনিস অ্যাটকিনসনের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ৩০ বছর বয়সে ৩ মার্চ, ১৯৫৬ তারিখে ওয়েলিংটনের ব্যাসিন রিজার্ভে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় টেস্টে সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ১২ ও ৫ রান তুলে বাজে শট খেলে উভয় ইনিংসেই সনি রামাদিনের বলে বিদেয় নেন। এছাড়াও, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। জন রিডের বলে গ্যারি সোবার্সের ক্যাচ তালুবন্দী করে সবিশেষ খ্যাতি অর্জন করেন। খেলায় স্বাগতিকরা ৯ উইকেটে পরাজিত হলে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে। পরবর্তীতে এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে প্রত্যাখ্যাত হবার পর সাধারণমানের ২৩.০২ গড়ে রান তুলে ১৯৫৯-৬০ মৌসুমে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটকে বিদেয় জানান। বড় ধরনের ইনিংস খেলায় তাঁর মোটেই মনোযোগ ছিল না। বড় অঙ্কের রান সংগ্রহের চেয়ে মাঝামাঝি ধরনের রানেই তিনি সন্তুষ্ট থাকতেন। নব্বুই বছর বয়সেও ক্ষুদ্রতর সংস্করণের ক্রিকেটসহ বেশ খেলায় বেশ আগ্রহী ছিলেন।

খেলার জগৎকে বিদেয় জানানোর পর শেল অয়েল কোম্পানিতে চাকুরী করেন। ৭ আগস্ট, ২০১৫ তারিখে ৯০ বছর ৪৫ দিন বয়সে ক্রাইস্টচার্চে তাঁর দেহাবসান ঘটে। মৃত্যুর পূর্বে নিউজিল্যান্ডের প্রবীণতম টেস্ট ক্রিকেটারের মর্যাদাপ্রাপ্ত হয়েছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পর দলীয় অধিনায়ক জন রিড নিউজিল্যান্ডের প্রবীণতম টেস্ট ক্রিকেটারের মর্যাদা পান।

সম্পৃক্ত পোস্ট