২ জুলাই, ১৯৯৪ তারিখে পাঞ্জাবের মান্ডি বাহাউদ্দীন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। ডানহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিং করেন। এছাড়াও, নিচেরসারিতে ডানহাতে কার্যকর ব্যাটসম্যানের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। পাকিস্তানের পক্ষে সকল স্তরের ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
৫ ফুট ৭ ইঞ্চি (১.৭৪ মিটার) উচ্চতার অধিকারী। সাধারণমানের বোলিং ভঙ্গীমা প্রদর্শন করলেও বলের বৈচিত্র্যপূর্ণ ব্যবহার ঘটান। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে শিয়ালকোট রিজিওনের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, ইসলামাবাদ ইউনাইটেড, পেশাওয়ার জালমি এবং সেন্ট কিটস ও নেভিস প্যাট্রিয়টসের পক্ষে খেলেছেন।
১৯ বছর বয়সে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক হয়। লাহোর রবির বিপক্ষে অনুষ্ঠিত ঐ খেলার প্রথম ইনিংসে চার উইকেট লাভ করেছিলেন। ক্লাব ক্রিকেটে অংশগ্রহণের মাধ্যমে খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান ও দ্রুত আঞ্চলিক পর্যায়ের অনূর্ধ্ব-১৬ দলের পক্ষে খেলেন। তবে, জাতীয় পর্যায়ে যুবদের দলে খেলার সুযোগ পাননি।
২০১৫ সালের ন্যাশনাল টি২০ কাপেও স্বীয় প্রতিভার স্বাক্ষর রাখতে শুরু করেন। অধিনায়ক শোয়েব মালিকের নেতৃত্বাধীন দলে থেকে চার খেলা থেকে আট উইকেট দখল করেছিলেন। ২০১৬ সালের ন্যাশনাল ওয়ান-ডে কাপে ১৭.০৫ গড়ে ১৭ উইকেট নিয়ে পাকিস্তান দল নির্বাচকমণ্ডলীর নজর কাড়েন। পিএসএলের প্রথম আসরে পেশাওয়ার জালমির প্রধান কোচ মোহাম্মদ আকরাম উদীয়মান শ্রেণীতে খেলার জন্যে নিয়োজিত ছিলেন ও তাঁকে মনোনীত করেন। ১১ খেলা থেকে ১২ উইকেট নিয়ে দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেট সংগ্রাহক হন।
২০১৭ সালে ক্যারিবীয় প্রিমিয়ার লীগে সেন্ট কিটস ও নেভিস প্যাট্রিয়টসের পক্ষে খেলেন। কাইরেন পাওয়েলের স্থলাভিষিক্ত হয়েছিলেন তিনি। এছাড়াও, বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগে বিদেশী খেলোয়াড় হিসেবে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
২০১৬ সাল থেকে পাকিস্তানের পক্ষে টেস্ট, ওডিআই ও টি২০আইয়ে অংশ নিচ্ছেন। ২০১৬ সালে পাকিস্তানের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ১৮ আগস্ট, ২০১৬ তারিখে ডাবলিনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ওডিআইয়ে অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। একচেটিয়া খেলায় সফরকারীরা ২৫৫ রানের বিরাট ব্যবধানে জয়ী হলেও ৫ ওভার বোলিং করে তিনি কোন উইকেটের সন্ধান পাননি।
৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ তারিখে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টি২০আইয়ে প্রথম খেলেন। ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত ঐ খেলায় জো রুট ও বেন স্টোকস তাঁর শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। খেলায় তিনি ২/২৪ বোলিং পরিসংখ্যান গড়েন।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ন রাখতে শুরু করেন। প্রথম পনেরোটি ওডিআই থেকে দুইবার পাঁচ-উইকেট লাভ করেছেন। ২০১৭ সালে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ গমনার্থে মিসবাহ-উল-হকের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান দলের সদস্য হন। ১০ মে, ২০১৭ তারিখে রোজিওতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দীর্ঘ সংস্করণের খেলায় অভিষেক ঘটে এবং একই খেলায় মিসবাহ-উল-হক ও ইউনুস খানের বিদায়ী খেলা ছিল। সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টটিতে বেশ আঁটোসাটো বোলিং করেন। প্রথম ইনিংসে কোন উইকেট না পেলেও দ্বিতীয় ইনিংসে তিন উইকেট লাভ করেছিলেন। ডোমিনিকায় অনুষ্ঠিত ঐ টেস্টে রোস্টন চেজের অসামান্য অল-রাউন্ড ক্রীড়া নৈপুণ্য প্রদর্শন স্বত্ত্বেও শেষ মুহূর্তে পাকিস্তান দল ১০১ রানে বিজয়ী হয়েছিল ও ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে নেয়।
ওডিআই দলে বেশ ভালোমানের ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন করার স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৭ সালের আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি প্রতিযোগিতায় ১৫-সদস্যবিশিষ্ট পাকিস্তান দলের সদস্য হন। ঐ প্রতিযোগিতায় তেরো উইকেট দখল করে যৌথভাবে সর্বোচ্চ উইকেট সংগ্রাহকের মর্যাদাপ্রাপ্ত হন। ১৪.৬৯ গড়ে ১৩ উইকেট দখল করেন ও ওভারপ্রতি মাত্র ৪.২৯ রান খরচ করেছিলেন। ফলশ্রুতিতে, গোল্ডেন বল পুরস্কার লাভ করেন। আইসিসি’র আসরে অভিষেক ঘটিয়ে প্লেয়ার অব দ্য টুর্নামেন্ট পুরস্কারে ভূষিত হন। দলের পাশাপাশি তিনিও ঐ প্রতিযোগিতার যাত্রা শুরু করেন বেশ শোচনীয়ভাবে। ভারতের বিপক্ষে প্রথম খেলায় নির্ধারিত ১০ ওভারে ৭০ রান খরচ করে দলের পরাজয়ের সাথে নিজের সম্পৃক্ততা রাখেন। এর পরপরই নাটকীয় ও অপ্রত্যাশিতভাবে খেলায় ছন্দ ফিরিয়ে আনেন। পরবতী চার খেলার প্রত্যেকটিতে তিনটি করে উইকেট পেয়েছিলেন। ১৯৯২ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতার পর পাকিস্তানের প্রথম বৈশ্বিক ওডিআই ট্রফি জয়ে মাঝামাঝি পর্যায়ে নিয়মিত বোলার হিসেবে তাঁর এ কৃতিত্ব দলের প্রধান চালিকাশক্তি ছিল।
১৮ অক্টোবর, ২০১৭ তারিখে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে অনুষ্ঠিত ওডিআইয়ে বৈশ্বিকভাবে পঞ্চম ও পাকিস্তানী খেলোয়াড়দের মধ্যে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে দ্রুততম ৫০ উইকেট লাভের মাইলফলক স্পর্শ করেন। এরজন্যে তিনি মাত্র ২৪ খেলায় অংশ নিয়েছিলেন। এরফলে, আইসিসি প্রণীত ওডিআই র্যাঙ্কিং প্রথায় এক নম্বর অবস্থানে চলে যান। এ অবস্থানের জন্যে তিনি মাত্র ৪২৬ দিন ব্যয় করেন ও সর্বকালের তৃতীয় দ্রুততম খেলোয়াড় হিসেবে এ কৃতিত্বের অধিকারী হন।
এক পঞ্জিকাবর্ষে সর্বোচ্চ ওডিআই উইকেট পান। ২০১৭ সালে ওডিআইয়ে সর্বোচ্চ উইকেট লাভের কৃতিত্ব অর্জন করেন। ১৮ খেলায় অংশ নিয়ে ৪৫ উইকেট পান। ফলশ্রুতিতে, আইসিসি’র বর্ষসেরা উদীয়মান ক্রিকেটারের পাশাপাশি পিসিবি’র বর্ষসেরা উদীয়মান খেলোয়াড় হিসেবে নামাঙ্কিত হন। ঐ বছর শেষে আইসিসি ওডিআই র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষ বোলার ছিলেন।
২০১৮-১৯ মৌসুমে সরফরাজ আহমেদের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে খেলার উদ্দেশ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত গমন করেন। ১৬ নভেম্বর, ২০১৮ তারিখে আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। কয়েকটি ব্যক্তিগত সফলতার স্বাক্ষর রাখেন। নিউজিল্যান্ডের দ্বিতীয় ইনিংসে টিএ বোল্টকে বিদেয় করে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বেকার সেরা ছিল ৪/৫১। এ পর্যায়ে টেস্টে প্রথমবারের মতো পাঁচ-উইকেট লাভ করেন। বল হাতে নিয়ে ২/৩৮ ও ৫/৪৫ পান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ৪ ও ০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এজাজ প্যাটেলের অসাধারণ বোলিং সাফল্যে পাকিস্তান দল ৪ রানে নাটকীয়ভাবে পরাজিত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
২০২০-২১ মৌসুমে নিজ দেশে কুইন্টন ডি ককের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ তারিখে রাওয়ালপিন্ডিতে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। চমৎকার ক্রীড়া নৈপুণ্যের স্বাক্ষর রাখেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ৫/৫৪ ও ৫/৬০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ৮ ও ৫ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে কেশব মহারাজের শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। তাঁর অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ৯৫ রানে জয়লাভ করলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন। একই সফরের ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ তারিখে লাহোরে সিরিজের তৃতীয় টি২০আইয়ে জয়সূচক রান সংগ্রহ করেছিলেন।
২০২১ সালে বাবর আজমের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের সদস্যরূপে জিম্বাবুয়ে সফরে যান। পুরো সিরিজে দূর্দান্ত ক্রীড়া নৈপুণ্যের স্বাক্ষর রাখেন। ২৯ এপ্রিল, ২০২১ তারিখে হারারেতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে অংশ নেন। ৪/৫৩ ও ৫/৩৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, দলের একমাত্র ইনিংসে ৩০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তাঁর অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ইনিংস ও ১১৬ রানে জয় পেলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।
এরপর, একই সফরের ৭ মে, ২০২১ তারিখে হারারেতে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ৫/২৭ ও ০/৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, দলের একমাত্র ইনিংসে লুক জংউই’র বলে রেজিস চাকাভা’র কটে শূন্য রানে বিদেয় নিয়েছিলেন। তবে, আবিদ আলী’র দ্বি-শতকের কল্যাণে সফরকারীরা ইনিংস ও ১৪৭ রানে জয় পেয়ে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে বিজয়ী হয়। ৩০ রান সংগ্রহসহ ১৪ উইকেট দখল করে তিনি ম্যান অব দ্য সিরিজের পুরস্কার লাভ করেন।
২০২৩-২৪ মৌসুমে শান মাসুদের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ৩ জানুয়ারি, ২০২৪ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। ০/৫৩ ও ০/১৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ০ ও ৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, আমির জামালের অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন স্বত্ত্বেও স্বাগতিক দল ৮ উইকেটে জয় পেলে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।
২০২৬ সালে শান মাসুদের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের সদস্যরূপে বাংলাদেশ সফরে যান। ১৬ মে, ২০২৬ তারিখে সিলেটে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১৮ ও ০ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে তাইজুল ইসলামের বলে বিদেয় নিয়েছিলেন। এছাড়াও, দুইটি ক্যাচ তালুবন্দীসহ ২/৪৯ ও ২/৮৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, লিটন দাসের অসাধারণ ক্রীড়া নৈপুণ্যের কল্যাণে সফরকারীরা ৭৮ রানে পরাভূত হলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
