| |

কেভিন পিটারসন

২৭ জুন, ১৯৮০ তারিখে নাটালের পিটারমারিৎজবার্গে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ শীর্ষসারির ব্যাটসম্যান ছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ইংল্যান্ডের অধিনায়কের দায়িত্বে ছিলেন।

‘কেপি’, ‘কেল্ভস’, ‘কেপস’ কিংবা ‘কেভ’ ডাকনামে ভূষিত কেভিন পিটারসন ৬ ফুট ৪ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী। মারিৎজবার্গ কলেজে অধ্যয়ন শেষে দক্ষিণ আফ্রিকান বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনো করেছেন। হতাশাচ্ছন্ন অবস্থায় স্বীয় জন্মভূমি ত্যাগ করলে দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাপক ক্ষতি হয় ও ইংল্যান্ড দল বিরাটভাবে লাভবান হয়। ড্রাইভের দিকেই অধিক মনোনিবেশ ঘটাতেন। হুক ও পুলে সিদ্ধহস্তের পরিচয় দেন। দৃষ্টিনন্দন ফ্ল্যামিঙ্গো শট ও সুইচ-হিট দর্শকদের নির্মল আনন্দের খোড়াক জোগায়।

১৯৯৭-৯৮ মৌসুম থেকে ২০১৫ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে হ্যাম্পশায়ার, সারে ও নটিংহ্যামশায়ার এবং দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে কোয়াজুলু-নাটাল ও ডলফিন্সের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, আইসিসি বিশ্ব একাদশ, ডেকান চার্জার্স, দিল্লি ডেয়ারডেভিলস, রাইজিং পুনে সুপারজায়ান্টস, রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর, সেন্ট লুসিয়া জুকস, মেলবোর্ন স্টার্স, সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ, কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটর্সের পক্ষে খেলেছেন। কোটা পদ্ধতির কারণে নাটাল থেকে হ্যাম্পশায়ারে চলে যান। ঐ কাউন্টিতে চার বছর বাধ্যতামূলকভাবে অবসর গ্রহণের পর ২০০৪ সালে দ্রুত তাঁকে ইংল্যান্ড দলে খেলার জন্যে আমন্ত্রণ জানানো হয়।

২০০৪ থেকে ২০১৪ সময়কালে ইংল্যান্ডের পক্ষে সর্বমোট ১০৪ টেস্ট, ১৩৬টি ওডিআই ও ৩৭টি টি২০আইয়ে অংশ নিয়েছেন। ২০০৪-০৫ মৌসুমে জিম্বাবুয়ে সফরে তাঁর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট জীবনের সূত্রপাত ঘটে। তিনটি ওডিআই থেকে ১০৪ রান তুলেন। ফলশ্রুতিতে, দক্ষিণ আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়া-বাংলাদেশের বিপক্ষে একদিনের দলে তাঁকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

ওডিআইয়ে ক্রমাগত ধারাবাহিক ক্রীড়া নৈপুণ্য প্রদর্শনের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৫ সালের অ্যাশেজ সিরিজ খেলতে তাঁকে ইংল্যান্ডের টেস্ট দলে রাখা হয়। ঐ বছর নিজ দেশে রিকি পন্টিংয়ের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ২১ জুলাই, ২০০৫ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ৫৭ ও ৬৪* রান সংগ্রহসহ একটি রান-আউটের সাথে নিজেকে জড়ান। তবে, গ্লেন ম্যাকগ্রা’র অপূর্ব বোলিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ২৩৯ রানে পরাভূত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।

ভীতিহীন বক্ষে স্ট্রোক-প্লের অপূর্ব ফুলঝুড়ি ছোটান। এ সিরিজে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকে পরিণত হন। দুই দশক পর প্রথমবারের মতো অ্যাশেজ সিরিজ করায়ত্ত্বে ইংল্যান্ড দলে প্রধান ভূমিকার স্বাক্ষর রাখেন।

ধারাবাহিক কুশলতার কারণে ২০০৭ সালে সকল স্তরের ক্রিকেট স্থায়ীভাবে খেলার জন্যে মনোনীত হন। ব্রিসবেনে নিজস্ব শততম টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে রায়ান হ্যারিসের পরিবর্তে অতিরিক্ত খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামা ক্রিস সাবার্গ লং-লেগ অঞ্চলে ২৬ রান তুলে ক্যাচ দিয়ে বিদেয় নেন।

২০০৭ সালে নিজ দেশে রামনরেশ সারওয়ানের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ৭ জুন, ২০০৭ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৯ ও ৬৮ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেন। তবে, মন্টি পানেসরের অসাধারণ বোলিংয়ের কল্যাণে স্বাগতিকরা ৬০ রানে জয় পেলে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

২০০৮ সালে নিজ দেশে গ্রায়েম স্মিথের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। পুরো সিরিজে অসাধারণত্বের পরিচয় দেন। ৭ আগস্ট, ২০০৮ তারিখে ওভালে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে চমৎকার ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনে অগ্রসর হন। খেলায় তিনি ১০০ ও ১৩ রান সংগ্রহ করেন। তাঁর অসাধারণ শতকের কল্যাণে স্বাগতিকরা ৬ উইকেটে জয়লাভ করলেও ২-১ ব্যবধানে সিরিজে পরাজিত হয়। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন। এছাড়াও, এ সিরিজে ৪২১ রান সংগ্রহসহ একটি উইকেট লাভ করে গ্রায়েম স্মিথের সাথে যৌথভাবে ম্যান অব দ্য সিরিজের পুরস্কার পান।

২০০৯ সালে নিজ দেশে ক্রিস গেইলের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ১৪ মে, ২০০৯ তারিখে চেস্টার-লি-স্ট্রিটে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে ৪৯ রান সংগ্রহসহ একটি রান-আউটের সাথে নিজেকে জড়ান। তবে, জেমস অ্যান্ডারসনের অসাধারণ বোলিং দাপটে সফরকারীরা ইনিংস ও ৮৩ রানে পরাভূত হলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

২০০৯-১০ মৌসুমে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে অ্যান্ড্রু স্ট্রসের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। ১৬ ডিসেম্বর, ২০০৯ তারিখে সেঞ্চুরিয়নে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৪০ ও ৮১ রান সংগ্রহ করেন। তবে, গ্রায়েম সোয়ানের অসামান্য অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

২০১০-১১ মৌসুমে অ্যান্ড্রু স্ট্রসের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের সাথে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ৩ ডিসেম্বর, ২০১০ তারিখে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট খেলেন। দূর্দান্ত ক্রীড়া নৈপুণ্য প্রদর্শনে অগ্রসর হন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ২২৭ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/১০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর অসাধারণ দ্বি-শতকের কল্যাণে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ৭১ রানে পরাভূত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার পান।

২০১২ সালে নিজ দেশে গ্রায়েম স্মিথের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ২ আগস্ট, ২০১২ তারিখে লিডসে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। দূর্দান্ত ক্রীড়া নৈপুণ্যের স্বাক্ষর রাখেন। খেলায় তিনি ১৪৯ ও ১২ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/২৬ ও ৩/৫২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলী সত্ত্বেও খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে সফরকারীরা ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকে। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।

২০১৩-১৪ মৌসুমে সর্বশেষ অ্যাশেজ সিরিজ খেলতে অ্যালাস্টার কুকের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের অন্যতম সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ২৬ ডিসেম্বর, ২০১৩ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৭১ ও ৪৯ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, মিচেল জনসনের অসাধারণ বোলিং সাফল্যে ঐ টেস্টে সফরকারীরা ৮ উইকেটে পরাজয়বরণ করলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৪-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।

এরপর, ৩ জানুয়ারি, ২০১৪ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ৩ ও ৬ রান সংগ্রহ করে উভয় ক্ষেত্রে রায়ান হ্যারিসের শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/১৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। স্বাগতিকরা রায়ান হ্যারিসের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়া নৈপুণ্যে ২৮১ রানে জয় পেলে ৫-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়। সব মিলিয়ে অ্যাশেজ সিরিজে ৩৮৫২ বল মোকাবেলা করে ২৪টি ছক্কা মেরেছিলেন।

ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত। ডিসেম্বর, ২০০৭ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।

সম্পৃক্ত পোস্ট