১৯ এপ্রিল, ১৯৭৫ তারিখে সিডনির ডার্লিংহার্স্টে জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শনে অগ্রসর হতেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

‘ডিজ্জি’ ডাকনামে ভূষিত হয়েছিলেন। ৬ ফুট ৫ ইঞ্চি (১.৯৫ মিটার) উচ্চতার অধিকারী। অ্যাডিলেডভিত্তিক ক্যাব্রা কলেজে অধ্যয়ন করেছেন। ১৯৯৪-৯৫ মৌসুম থেকে ২০০৮-০৯ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে সাউথ অস্ট্রেলিয়া এবং ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে গ্ল্যামারগন ও ইয়র্কশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তন্মধ্যে, ২০০৮ সালে গ্ল্যামারগনের ক্যাপ লাভ করেন। এছাড়াও, আহমেদাবাদ রকেটসের পক্ষে খেলেছেন।

১৯৯৬ থেকে ২০০৬ সময়কালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সর্বমোট ৭১ টেস্ট, ৯৭টি ওডিআই ও একটিমাত্র টি২০আইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ৩০ আগস্ট, ১৯৯৬ তারিখে কলম্বোর আরপিএসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন।

১৯৯৬-৯৭ মৌসুমে নিজ দেশে কোর্টনি ওয়ালশের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ২৯ নভেম্বর, ১৯৯৬ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। এরফলে, অস্ট্রেলিয়ার প্রথম আদিবাসী টেস্ট ক্রিকেটারের মর্যাদা পাচ্ছেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ১৬* রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ২/৬২ ও ০/২৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, গ্লেন ম্যাকগ্রা’র অনিন্দ্যসুন্দর অল-রাউন্ড ক্রীড়া নৈপুণ্যে স্বাগতিকরা ১২৪ রানে জয় পেলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

১৯৯৮-৯৯ মৌসুমে স্টিভ ওয়াহ’র নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে যান। ১৩ মার্চ, ১৯৯৯ তারিখে কিংস্টনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১ ও ৭ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/৭৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, প্রতিপক্ষীয় অধিনায়ক ব্রায়ান লারা’র অসাধারণ দ্বি-শতকের (২১৩) কল্যাণে স্বাগতিকরা ১০ উইকেটে জয় পেলে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে সমতা আনতে সমর্থ হয়।

২০০১ সালে স্টিভ ওয়াহ’র নেতৃত্বাধীন অজি দলের সাথে ইংল্যান্ড গমন করেন। ৫ জুলাই, ২০০১ তারিখে বার্মিংহামে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে মার্ক বুচারের বলে শূন্য রানে বিদেয় নিয়েছিলেন। পাশাপাশি, একটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ২/৬৭ ও ৩/৫২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। অ্যাডাম গিলক্রিস্টের অসাধারণ শতকের কল্যাণে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ১১৮ রানে পরাভূত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

একই সফরের লর্ডস টেস্টে ৫/৫৩ বোলিং পরিসংখ্যান গড়ে লর্ডস অনার্স বোর্ডে স্বীয় নাম অন্তর্ভুক্ত করেন। প্রথম ইনিংসে স্বাগতিক দলকে ১৮৭ রানে গুটিয়ে দেন ও অস্ট্রেলিয়া দল ৪০১ রান তুলে জয়ের দিকে ধাবিত হয়। নতুন বল নিয়ে স্বীয় উচ্চতাকে ব্যবহার করে পেস বোলিংয়ে অগ্রসর হন ও পঞ্চম ওভারেই মার্কাস ট্রেস্কোথিকের উইকেট পান। ইংল্যান্ড দল জুটি গড়তে তৎপর হয় ও পুরনো বল মোকাবেলায় স্বাচ্ছন্দ্যে অগ্রসর হতে থাকে। তবে, তিনি পুণরায় নিজেকে জাগিয়ে তুলেন। স্বীয় অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে গুরুত্বপূর্ণ জুটিগুলোয় ভাঙ্গনের সৃষ্টি করতে থাকেন। মার্ক রামপ্রকাশকে ৪০ ও মার্ক বুচারকে ৮৩ রানে বিদেয় করেন। ইংল্যান্ড দল এ অস্ট্রেলীয় পেসারের বিপক্ষে তেমন সুবিধে করতে পারেনি। এরপর, অ্যান্ড্রু ক্যাডিক ও ড্যারেন গফকে দ্রুত বিদেয় করে ইংরেজদের ইনিংস শেষ করে দেন। এরফলে, অস্ট্রেলিয়া দল জয় পায়।

২০০৩-০৪ মৌসুমে রিকি পন্টিংয়ের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সাথে শ্রীলঙ্কা গমন করেন। ৮ মার্চ, ২০০৪ তারিখে গলেতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৪* ও ১১* রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/৬১ ও ০/২০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, ম্যাথু হেইডেনের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ১৯৭ রানে পরাভূত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

২০০৬ সালে ইয়র্কশায়ারের পক্ষে খেলার জন্যে চুক্তিবদ্ধ হন। ২৬ এপ্রিল, ২০০৬ তারিখে এজবাস্টনে ইয়র্কশায়ার বনাম ওয়ারউইকশায়ারের মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে কাউন্টি ক্রিকেট জগতে প্রবেশ করেন। খুব শীঘ্রই প্রথম একাদশ দলের জনপ্রিয় সদস্যের মর্যাদা পান। স্বেচ্ছায় তিনি তাঁর অভিজ্ঞতা বিতরণসহ অন্যান্য ফাস্ট বোলারকে পরামর্শ দিতেন। বাংলাদেশে উপর্যুপরী টেস্টে অংশ নিয়ে সোজা ইয়র্কশায়ারে যোগ দেন। বাংলাদেশে তিনি নাইটওয়াচম্যান হিসেবে অপরাজিত ২০১ রানের উল্লেখযোগ্য সফলতার সাথে নিজেকে জড়ান।

২০০৫-০৬ মৌসুমে রিকি পন্টিংয়ের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে বাংলাদেশ গমন করেন। পুরো সিরিজে অসাধারণত্বের পরিচয় দেন। ১৬ এপ্রিল, ২০০৬ তারিখে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৩/১১ ও ০/১৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাট হাতে নিয়ে ২০১* রান সংগ্রহ করেছিলেন। তাঁর অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিক দল ইনিংস ও ৮০ রানে পরাজয়বরণ করলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন। এছাড়াও, এ সিরিজে ২৩১ রান সংগ্রহসহ ৮ উইকেট দখল করে ম্যান অব দ্য সিরিজের পুরস্কার পান। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে অংশগ্রহণ ছিল।

কোনরুপ অভিযোগ ছাড়াই ব্যাপক দায়িত্ব পালনে অগ্রসর হন। চ্যাম্পিয়নশীপে ৪৩১.৩ ওভার বোলিং করেছিলেন। সংখ্যার দিক দিয়ে অন্য যে-কোন ইয়র্কশায়ারীয় বোলার চেয়ে বেশী ছিল। ঐ মৌসুমের দ্বিতীয়ার্ধ্বে অধিকতর সফল ছিলেন। চেস্টার-লি-স্ট্রিটের রিভারসাইড গ্রাউন্ডে ডারহামের বিপক্ষে ৬/৩৭ পান। এটি ঐ বছরে ইয়র্কশায়ারের সেরা বোলিং ছিল। ঐ মৌসুমে ১৪ খেলা থেকে ২৪.৬৬ গড়ে ৩৭০ রান সংগ্রহসহ ৩৩.৬১ গড়ে ৩৬ উইকেট দখল করেছিলেন।

ঘরোয়া আসরের ক্রিকেটে সাউথ অস্ট্রেলিয়ার সাথে সফলতম মৌসুম অতিবাহিত করার পর ২০০৭ সালে পুণরায় ইয়র্কশায়ারে ফিরে আসেন। ঐ বছর ইয়র্কশায়ারের ক্যাপ লাভ করেন।

অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসের পঞ্চম সফলতম বোলারের মর্যাদা পাচ্ছেন। গ্লেন ম্যাকগ্রা’র সাথে ভীতিদায়ক বোলিং জুটি গড়েছিলেন। তবে, আঘাতের কারণে নিজেকে পুরোপুরি মেলে ধরতে পারেননি। ২৬.১৩ গড়ে ২৫৯ উইকেট দখল করেন। এছাড়াও, ১৮.৭৩ গড়ে ১২১৮ রান তুলেছেন। ওডিআইয়ে ১২.৫৬ গড়ে ২৮৯ রান ও ২৫.৪২ গড়ে ১৪২ উইকেট পেয়েছিলেন।

২০০৭-০৮ মৌসুম শেষে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণ করেন। ইন্ডিয়ান ক্রিকেট লীগে যোগ দেন।

২০০২ সালে উইজডেন কর্তৃক অন্যতম বর্ষসেরা ক্রিকেটারের সম্মাননাপ্রাপ্ত হন। ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণের পর কোচিং জগতের দিকে ধাবিত হন। ইয়র্কশায়ারের কোচ হিসেবে মনোনীত হন। ২০১৫ সালে অ্যাডিলেড স্ট্রাইকার্সের কোচ হিসেবে যোগ দেন। ২০১৯ সালে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী একাদশের কোচের দায়িত্ব পালন করেন।

সম্পৃক্ত পোস্ট