১৫ জুন, ১৯৩৭ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের গুজরাতের জামনগর এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। উইকেট-রক্ষক হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। এছাড়াও, ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ১৯৬০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
দিলীপসিংজী’র ভ্রাতুষ্পুত্র, রণজিৎসিংজী’র দৌহিত্র এবং সাবেক ভারতীয় ব্যাটসম্যান ও আইসিসি ম্যাচ রেফারি হনুমন্ত সিংয়ের কাকাতো ভাই ছিলেন। ১৯৫৪-৫৫ মৌসুম থেকে ১৯৭২-৭৩ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া পর্যায়ের ক্রিকেটে দিল্লি ও সৌরাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করতেন। পারিবারিক ঐতিহ্য তুলে ধরতে সচেষ্ট ছিলেন। রঞ্জী ট্রফিতে দিল্লি ও সৌরাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করে বিরাট সফলতা পেয়েছেন। এ প্রতিযোগিতার প্রথমদিকের অন্যতম উইকেট-রক্ষক হিসেবে ১০০ ডিসমিসাল ঘটানোর কৃতিত্বের অধিকারী হন। ১৯৬০-৬১ মৌসুমে ২৩ ডিসমিসাল ঘটিয়ে রেকর্ড গড়েন।
১৯৬৪ থেকে ১৯৬৯ সময়কালে ভারতের পক্ষে চারটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯৬৪-৬৫ মৌসুমে নিজ দেশে ববি সিম্পসনের নেতৃত্বাধীন অজি দলের বিপক্ষে নিজেকে মেলে ধরতে সচেষ্ট হন। অজ্ঞাতকারণে শীর্ষ উইকেট-রক্ষকদ্বয়ের অনুপস্থিতির সুযোগে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজের সবকটিতেই তাঁর অংশগ্রহণ ছিল। ২ অক্টোবর, ১৯৬৪ তারিখে মাদ্রাজে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। অভিষেক টেস্টের উভয় ইনিংসেই তিনি ব্যাটিং উদ্বোধনে নেমেছিলেন। একটি স্ট্যাম্পিং ও তিনটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেন। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ৪ ও ০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলায় তাঁর দল ১৩৯ রানে পরাভূত হয় ও ১-০ ব্যবধানে সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
এরপর, বোম্বের ব্রাবোর্ন স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে চান্দু বোর্দে’র সাথে নবম উইকেটে নিরবিচ্ছিন্ন থেকে ৩২ রানের জুটি গড়ে ভারত দলের দুই উইকেটের স্মরণীয় জয়ে বিশাল ভূমিকা রেখেছিলেন। ৪১ মিনিট শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশে ক্রিজ আঁকড়ে মাত্র ৩ রান তুলেছিলেন তিনি।
তাসত্ত্বেও দলে স্বীয় স্থান ধরে রাখতে পারেননি। ঐ সিরিজ শেষে ফারুক ইঞ্জিনিয়ার ও বুধি কুন্দরনকে দলে ফিরিয়ে আনা হয়। ফারুক ইঞ্জিনিয়ারের আঘাতের কারণে আরও একটি টেস্ট খেলার সুযোগ এনে দেয়। ১৯৬৯-৭০ মৌসুমে হায়দ্রাবাদের ডেকানে সফরকারী নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। ১৫ অক্টোবর, ১৯৬৯ তারিখে অনুষ্ঠিত ঐ টেস্টে এক ক্যাচ এবং উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে ৭ ও ১২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। বৃষ্টিবিঘ্নিত ঐ খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায় ও সিরিজটি ১-১ ব্যবধানে ড্রয়ে পরিণত হয়।
প্রায় ২০ বছর প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে সরব ছিলেন। পাঁচ শতক সহযোগে ২৬.৭৬ গড়ে ৩৬৯৪ রান পেয়েছেন। ২১৩টি ডিসমিসালের ১৩৩টিই করেছেন গ্লাভসবন্দীকরণের মাধ্যমে। ৮০ স্ট্যাম্পিং করে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর অন্যতম শীর্ষস্থানীয় উইকেট-রক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। কিন্তু, টেস্ট ক্রিকেটে মাত্র কয়েকটি খেলায় অংশ নিতে পেরেছিলেন। তাসত্ত্বেও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ খেলা উপহারে সচেষ্ট ছিলেন।
প্রতিদ্বন্দ্বিতামূখর উইকেট-রক্ষক ও ডানহাতি ব্যাটসম্যান ছিলেন। ইনিংস উদ্বোধনে কিংবা মাঝারিসারিতে ব্যাটিং করতে নামতেন। ফারুক ইঞ্জিনিয়ার ও বুধি কুন্দরনের সাথে তাঁকে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অবতীর্ণ হতে হয়। কেবলমাত্র তাঁদের অনুপস্থিতিতেই খেলার সুযোগ পেতেন।
১২ মার্চ, ২০১১ তারিখে ৭৩ বছর ২৭০ দিন বয়সে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মুম্বইয়ে তাঁর দেহাবসান ঘটে। যজুর্বিন্দ্র সিং ‘মিড-ডে’তে তাঁর প্রসঙ্গে উল্লেখ করে লিখেছেন যে, তিনি মুম্বই ক্রিকেটে কর্ষণ ঘাবরীসহ বেশ কয়েকজন সৌরাষ্ট্রের খেলোয়াড়ের উত্থানে সহায়তা করেছেন। তাঁর মাঝে ক্রিকেটীয় প্রতিভা ছিল ও ক্রিকেটের ইতিহাস সম্পর্কে বেশ জ্ঞান রাখতেন।
