১৫ ডিসেম্বর, ১৯০৯ তারিখে ত্রিনিদাদের পোর্ট অব স্পেনে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। এছাড়াও, শর্ট-লেগ অঞ্চলে দক্ষ ফিল্ডিং করতেন। ১৯৩০-এর দশকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। পাশাপাশি দলের অধিনায়কের দায়িত্বে ছিলেন।
১৯৩২ থেকে ১৯৩৮-৩৯ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে ত্রিনিদাদের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে খেলেছেন। জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা জ্যাকি গ্র্যান্টের সাথে তিনিও কেমব্রিজ থেকে ব্লু লাভ করেছিলেন। তেমন ভালোমানের খেলোয়াড় ছিলেন না। প্রধানতঃ দূর্দান্ত ফিল্ডিংয়ের কারণে শেষ মুহূর্তে ১৯৩৩ সালে দলে ঠাঁই পেয়েছিলেন। ফুটবলে ব্লু লাভ করেন ও অ্যামেচার ইন্টারন্যাশনালের গোলরক্ষকের দায়িত্বে ছিলেন। অক্সফোর্ডের প্রথম চার ব্যাটসম্যানের তিনটি ৪৪ রান খরচায় পেয়েছিলেন। এছাড়াও, অত্যন্ত বিপজ্জ্বনক খেলোয়াড় এফ. জি. এইচ. চকের ক্যাচ শর্ট লেগ অঞ্চলে অপূর্ব ভঙ্গীমায় করায়ত্ত্ব করেছিলেন। ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জে ফিরে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলে নিজেকে ঠাঁই করে নেন।
১৯৩৫ থেকে ১৯৩৯ সাল পর্যন্ত সময়কালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে সাতটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ লাভ করেছিলেন। ১৯৩৪-৩৫ মৌসুমে নিজ দেশে বব ওয়াটের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ৮ জানুয়ারি, ১৯৩৫ তারিখে ব্রিজটাউনে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। সিরিল ক্রিস্টিয়ানি, জর্জ ক্যারিও ও লেসলি হিল্টনের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ৫ ও ০ রান সংগ্রহসহ পাঁচটি ক্যাচ তালুবন্দী করেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/১৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করিয়েছিলেন। সফরকারীরা ৪ উইকেটে জয় পেলে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়। চতুর্থ টেস্টে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ৭৭ রানের ইনিংস খেলেছিলেন।
একই সফরের ১৪ মার্চ, ১৯৩৫ তারিখে কিংস্টনে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ব্যাট হাতে নিয়ে ৭৭ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/৪৮ ও ০/১৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। স্বাগতিকরা ইনিংস ও ১৬১ রানে জয়লাভ করলে ২-১ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।
গ্র্যান্ট ভ্রাতৃদ্বয়ের সর্বকনিষ্ঠ ছিলেন ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেটের শুরুরদিকে দলনায়কের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ১৯৩৯ সালের গ্রীষ্মে ক্যারিবীয় দলের নেতৃত্বে থেকে ইংল্যান্ড গমন করেন। জুনের মাঝামাঝি সময়ে উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানের ঘাটতি পূরণে স্বয়ং এগিয়ে এসে জে. বি. স্টলমেয়ারের সাথে জুটি গড়েন। অত্যন্ত সফলতার সাথে এ অবস্থানে খেলে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ল্যাঙ্কাশায়ারের বিপক্ষে ৯৫ রান তুলে ঐ মৌসুমে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানের সন্ধান পান। তবে, ওল্ড ট্রাফোর্ড টেস্টে ব্যক্তিগত সেরা ইনিংস খেলেছিলেন। স্বাগতিক দল ১৬৪/৭ তুলে ইনিংস ঘোষণা করলে ইনিংস উদ্বোধনে নেমে ৫৬ রানের জুটি গড়েন। আটত্রিশ মিনিটে গডার্ডের বলে তিনটি ছক্কা হাঁকিয়ে ৪৭ রান সংগ্রহ করলে দর্শকদের উষ্ণ হাততালি পান। এরপূর্বে ঐ দিন হাটন ও হার্ডস্টাফের উইকেট পেয়েছিলেন।
২৪ জুন, ১৯৩৯ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ২২ ও ২৩ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেন। স্বাগতিকরা ৮ উইকেটে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
এরপর, ২২ জুলাই, ১৯৩৯ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ৪৭ ও ০ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। বৃষ্টিবিঘ্নিত ঐ টেস্ট ড্রয়ে পরিণত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে সফরকারীরা ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।
একই সফরের ১৯ আগস্ট, ১৯৩৯ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ০/৩১ ও ০/৩৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে দলের একমাত্র ইনিংসে ৬ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে নেয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
১৮ অক্টোবর, ১৯৭৭ তারিখে কানাডার ওকভিল এলাকায় ৬৭ বছর ৩০৭ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।
