৬ জুন, ১৯৪০ তারিখে ট্রান্সভালের প্রিটোরিয়ায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম বোলিং করতেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

খেলাধূলাপ্রিয় পরিবারের সন্তান ছিলেন। দীর্ঘকায় ও শক্ত-মজবুত গড়নের অধিকারী। সচরাচর পাঁচ নম্বর অবস্থানে মাঠে নামতেন। এছাড়াও, স্লিপ অঞ্চলে অসাধারণ ফিল্ডিং করতেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে নর্থ ইস্টার্ন ট্রান্সভাল ও ট্রান্সভালের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৫৮-৫৯ মৌসুম থেকে ১৯৭১-৭২ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন।

১৯৬২ থেকে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত সময়কালে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে সর্বমোট ১৩ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৬১-৬২ মৌসুমে নিজ দেশে জন আর রিডের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। ২১ বছর বয়সে ২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬২ তারিখে জোহানেসবার্গের নিউ ওয়ান্ডারার্সে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। আঘাতের কবলে পড়া উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান টম পিদি’র পরিবর্তে খেলার সুযোগ পান। তবে তিনি মাঝারিসারিতে নিচেরদিকে ব্যাটিংয়ে নেমেছিলেন। প্রথম ইনিংসে ৩/৩০ লাভ করেছিলেন। ইনিংস ও ৫১ রানে জয় পেলে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। দুই টেস্ট থেকে ৭ উইকেট দখল করেছিলেন ও সিরিজটি ২-২ ব্যবধানে ড্রয়ে পরিণত হয়েছিল।

ইংল্যান্ড সফরে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকা অবস্থায় সফরকারীরা ওভাল টেস্টে খেলতে নামেন। প্রথম ইনিংসে ২০০ মিনিটে ৬৯ রান তুলেন। দ্বিতীয় ইনিংসে দলের সংগ্রহ ১৬৪/৪ থাকা অবস্থায় মাঠে নামেন। এবার তিনি ৫৩ রান তুলেন। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে ৩০ বছর পর প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকা দল সিরিজ জয় করতে সমর্থ হয়।

১৯৬৫ সালে প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ বছর পিটার ফন ডার মারউই’র নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ২২ জুলাই, ১৯৬৫ তারিখে লর্ডসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ২৮ ও ৯ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে ডেভিড ব্রাউনের শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। এছাড়াও, ০/১৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ফলাফলবিহীন অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

এরপর, ৫ আগস্ট, ১৯৬৫ তারিখে নটিংহামে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট খেলেন। ব্যাট হাতে নিয়ে ৭ ও ০ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। তাসত্ত্বেও খেলায় তাঁর দল ৯৪ রানে জয়লাভ করলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

১৯৬৬-৬৭ মৌসুমে নিজ দেশে বব সিম্পসনের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ২৩ ডিসেম্বর, ১৯৬৬ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ৪৪ ও ৭০ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে গ্রাহাম ম্যাকেঞ্জি’র শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/৩৫ ও ০/৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ২৩৩ রানে জয় পেলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

১৯৭০ সালে পোর্ট এলিজাবেথে আলী বাখেরের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের সদস্যরূপে বিল লরি’র নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭০ তারিখে ডারবানে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার স্বাক্ষর রাখেন। প্রথম ইনিংসে ৪৮ রানে পৌঁছানোকালে টেস্টে ৫০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ৬১ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। ইনিংস ও ১২৯ রানে পরাজয়বরণ করলে সফরকারীরা চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।

একই সফরের ৫ মার্চ, ১৯৭০ তারিখে জিকিবার্হায় অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ২১ ও ১৯ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/৩২ ও ০/১৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। চূড়ান্ত টেস্টে তাঁর দল ৩২৩ রানে জয় পায় ও ৪-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে। এ টেস্টের পর পরবর্তী ২২ বছর দলটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে অংশগ্রহণ ছিল।

টেস্টগুলো থেকে ২৮.১৪ গড়ে ৫৯১ রান ও ৩৯.৯১ গড়ে ১২ উইকেট দখল করেছিলেন। সবগুলো প্রথম-শ্রেণীর খেলা থেকে ৩৪.৮৭ গড়ে ৫৩৩৬ রান সংগ্রহসহ ২৫.৬৫ গড়ে ১৬৭ উইকেট লাভ করেন।

ক্রিকেটের বাইরে ফুটবল খেলায়ও দক্ষতার ছাঁপ রাখেন। দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম পেশাদার লীগে মেফেয়ার র‌্যাঞ্জার্সের পক্ষে খেলতেন। এছাড়াও, হকিতে অংশ নিতেন। মৃত্যুর চার সপ্তাহ পূর্বে গাড়ী দূর্ঘটনার কবলে পড়েন। অতঃপর, আঘাতের জটিলতায় পড়ে ১০ নভেম্বর, ২০১০ তারিখে জোহানেসবার্গের হাসপাতালে ৭০ বছর ১৫৭ দিন বয়সে তাঁর জীবনাবসান ঘটে। তাঁর মৃত্যুতে দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেট পতাকা অর্ধ-নমিত রাখা হয়। ক্রিকেট সাউথ আফ্রিকার সিইও জেরাল্ড মাজোলা মন্তব্য করেন যে, ‘জীবদ্দশায় তিনি শক্তিধর ক্রিকেটার ও বৃহৎ ব্যক্তিত্বের মর্যাদা পেয়ে গেছেন।’

সম্পৃক্ত পোস্ট