২ আগস্ট, ১৯৭৬ তারিখে পাঞ্জাবের গাগ্গু মান্ডি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
পাকিস্তানের ফাস্ট বোলার তৈরির ঊর্বরক্ষেত্র পাঞ্জাব থেকে মোহাম্মদ জাহিদের অংশগ্রহণ। দীর্ঘ সময় পর প্রকৃতমানের ফাস্ট বোলার হিসেবে তাঁর উত্থান হয়। শুরুতে নিখুঁত নিশানা বরাবর বল ফেলতে বেগ পেতে হয়েছিল। তাঁর বোলিং প্রকৃতই ভয়ঙ্কর পর্যায়ের ছিল ও ব্যাটিংকারী দলকে সন্ত্রস্ত অবস্থায় থাকতে হতো। ১৯৯৫-৯৬ মৌসুম থেকে ২০০৮-০৯ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে মুলতান, পাকিস্তান কাস্টমস, পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্স ও রাওয়ালপিন্ডির প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
১৯৯৬ থেকে ২০০৩ সময়কালে পাকিস্তানের পক্ষে পাঁচটিমাত্র টেস্ট ও ১১টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৯৬-৯৭ মৌসুমে নিজ দেশে লি জার্মনের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। ২৮ নভেম্বর, ১৯৯৬ তারিখে রাওয়ালপিন্ডিতে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ঐ টেস্ট থেকে ১১ উইকেট দখল করেছিলেন। এরফলে, পাকিস্তানের একমাত্র বোলার হিসেবে টেস্ট অভিষেকে ১০ বা ততোধিক উইকেট লাভের কৃতিত্ব প্রদর্শন করেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের সন্ধান পান। নিউজিল্যান্ডের দ্বিতীয় ইনিংসে টেস্টে প্রথমবারের মতো পাঁচ-উইকেট লাভ করেন। ৪/৬৪ ও ৭/৬৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে খেলায় স্বাগতিকরা ইনিংস ও ১৩ রানে জয় পেলেও সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় শেষ হয়। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন। একই সফরের ৮ ডিসেম্বর, ১৯৯৬ তারিখে করাচীতে তিনি প্রথমবারের মতো ওডিআইয়ে অংশ নেন।
শ্রীলঙ্কা সফরে পিঠের আঘাতের কবলে পড়েন। ফলশ্রুতিতে, অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন পড়ে। ২০০২-০৩ মৌসুমে ওয়াকার ইউনুসের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দল দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যায়। ২ জানুয়ারি, ২০০৩ তারিখে কেপটাউনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ২/১০৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, উভয় ইনিংসে মাখায়া এনটিনি’র বলে শূন্য রানে বিদেয় নেন। তবে, হার্শেল গিবসের অনবদ্য দ্বি-শতকের কল্যাণে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ১৪২ রানে জয় পেলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
