|

দিনেশ রামদিন

১৩ মার্চ, ১৯৮৫ তারিখে ত্রিনিদাদের কুভা এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যানের দায়িত্ব পালন করেছেন। উইকেট-রক্ষণের পাশাপাশি ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

৫ ফুট ৯ ইঞ্চি (১.৭৮ মিটার) উচ্চতার অধিকারী। শুরু থেকেই প্রকৃত মানসম্পন্ন উইকেট-রক্ষক ও ব্যাটসম্যান হিসেবে তাঁর দক্ষতা নিয়ে কোন সন্দেহের সৃষ্টি হয়নি। এমনকি, অভিষেকের পর থেকে এক পর্যায়ে তাঁকে ভবিষ্যতের অধিনায়ক হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছিল। কিন্তু, তিনি তাঁর প্রতিভা বিকাশে সোচ্চার ভূমিকা পালন করতে পারেননি। তবে, ত্রিনিদাদ ও টোবাগো দলের সেরা উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যান হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিলেন।

‘শটার’ ডাকনামে ভূষিত দিনেশ রামদিন প্রেসল গভর্নমেন্টে অধ্যয়ন করেছেন। প্রকৃতপক্ষে ১৩ বছর বয়সে ফাস্ট বোলার হিসেবে খেলতে শুরু করেন। তবে, উইকেট-রক্ষণের দিকে মনোনিবেশ ঘটানোর ফলে বোলারের ভূমিকা পালন করা থেকে দূরে সড়ে আসেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে ত্রিনিদাদ ও টোবাগো দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, গায়ানা আমাজন ওয়ারিয়র্স, লাহোর কালান্দার্স, মন্ট্রিল টাইগার্স, সিন্ধিজ, সেন্ট কিটস ও নেভিস প্যাট্রিয়টস, সেন্ট লুসিয়া জুকস, ত্রিনবাগো নাইট রাইডার্স, ত্রিনিদাদ ও টোবাগো রেড স্টিলের পক্ষে খেলেন।

১৯ বছর বয়সে ওয়েস্ট ইন্ডিজের অনূর্ধ্ব-১৯ দলে খেলেছেন। ৯ জানুয়ারি, ২০০৪ তারিখে মলিনাক্সে অনুষ্ঠিত ওয়েস্ট ইন্ডিজ ‘বি’ দল বনাম কেনিয়ার মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান।

২০০৫ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত সময়কালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে সর্বমোট ৭৪ টেস্ট, ১৩৯টি ওডিআই ও ৭১টি টি২০আইয়ে অংশ নিয়েছেন। ১৯ বছর বয়সে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে খেলার জন্যে মনোনীত হন। ২০০৫ সালে শিবনারায়ণ চন্দরপলের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সাথে শ্রীলঙ্কা গমন করেন। ১৩ জুলাই, ২০০৫ তারিখে কলম্বোর সিংহলীজ স্পোর্টস ক্লাবে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। জাভিয়ার মার্শাল ও রুনাকো মর্টনের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। নিজস্ব প্রথম টেস্টে ৭৩ বলে ৫৬ রান তুলে জ্ঞান বিজেকুনের শিকারে পরিণত হন। দ্বিতীয় ইনিংসে মুত্তিয়া মুরালিধরনের বলে এলবিডব্লিউতে ১১ রানে বিদেয় নিয়েছিলেন। তবে, চামিণ্ডা ভাসের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়া নৈপুণ্যের কারণে স্বাগতিকরা ৬ উইকেটে জয় পেলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

এছাড়াও, একই সফরের ৩১ জুলাই, ২০০৫ তারিখে রঙ্গিরি ডাম্বুলা ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ইন্ডিয়ান অয়েল কাপে ভারতের বিপক্ষে ওডিআইয়ে প্রথমবারের মতো অংশ নেন। ২১ বল থেকে ২৪ রান তুলেছিলেন। এছাড়াও, উইকেট-রক্ষণে দূর্দান্ত ভূমিকা রাখেন।

নিজস্ব সপ্তম টেস্টে ৭১ রান তুলেন। এরপর, ২০০৫-০৬ মৌসুমে প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট ক্রিকেট খেলেন। এ মৌসুমে শিবনারায়ণ চন্দরপলের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ড সফরে যান। তবে, টেস্টগুলো থেকে মাত্র ৩৩ রান তুলতে সমর্থ হয়েছিলেন। ৯ মার্চ, ২০০৬ তারিখে অকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৯ ও ১৫ রান তুলে উভয় ইনিংসে ড্যানিয়েল ভেট্টোরি’র শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। এছাড়াও, চারটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেছিলেন। শেন বন্ডের অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ২৭ রানে পরাজিত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

জুন, ২০১০ সালে নিজ দেশে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজ থেকে ৬৩ রান তুলেন। দূর্বল ক্রীড়া নৈপুণ্য ও ছন্দহীনতার কারণে তাঁকে আর চুক্তির আওতায় নিয়ে আসা হয়নি। এক পর্যায়ে দল থেকে বাদ পড়েন। তবে, ঘরোয়া ক্রিকেটে দারুণ খেলার সুবাদে অক্টোবর, ২০১১ সালে ভারতের বিপক্ষে ওডিআই সিরিজে তাঁকে দলে যুক্ত করা হয়।

২০১৪-১৫ মৌসুমে ক্যারিবীয় দলকে নেতৃত্ব দিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। ২ জানুয়ারি, ২০১৫ তারিখে কেপটাউনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে ব্যক্তিগতভাবে সফল ছিলেন। প্রথম ইনিংসে ৪৩ রানে পৌঁছানোকালে টেস্টে ২৫০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। খেলায় তিনি ৫৩ ও ০ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে ডেল স্টেইনের শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে একটি স্ট্যাম্পিং ও সমসংখ্যক ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেছিলেন। তবে, এবি ডি ভিলিয়ার্সের অসাধারণ শতকের কল্যাণে সফরকারীরা ৮ উইকেটে পরাজিত হলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

২০১৫-১৬ মৌসুমে নিজ দেশে জেসন হোল্ডারের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ৩ জানুয়ারি, ২০১৬ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ৬২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ডেভিড ওয়ার্নারের অসাধারণ শতক সত্ত্বেও খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে সফরকারীরা ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত। জানেল মহেশ নাম্নী এক রমণীর পাণিগ্রহণ করেন।

Similar Posts

  • |

    দিলরুয়ান পেরেরা

    ২২ জুলাই, ১৯৮২ তারিখে পানাদুরা এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে ব্যাটিং করে থাকেন। শ্রীলঙ্কার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ৫ ফুট ১০ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী। ধ্রুপদীশৈলীর অল-রাউন্ডার। বলে তেমন বাঁক খাওয়াতে না পারলেও বেশ বৈচিত্র্যতা আনয়ণসহ নিখুঁততা আনতে পারতেন। সহজাত ও স্বাবলীল ভঙ্গীমায় শ্রীলঙ্কার প্রথম-শ্রেণীর…

  • |

    কিথ দাবেঙ্গা

    ১৭ আগস্ট, ১৯৮০ তারিখে বুলাওয়েতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলতেন। বামহাতে ব্যাটিং করতেন। পাশাপাশি, স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিংয়ে পারদর্শী। জিম্বাবুয়ের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ছোটখাটো গড়নের অধিকারী ও কিঞ্চিৎ শক্তিধর হলেও মাঠে বেশ দৌঁড়ুতে পারেন। বুলাওয়েভিত্তিক বাইনেস জুনিয়র ও মিল্টন হাই স্কুলে অধ্যয়ন করেছেন। লীগের খেলায় সুন্দর ক্রীড়ানৈপুণ্য প্রদর্শনের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০১…

  • |

    হ্যারি মাসগ্রোভ

    ২৭ নভেম্বর, ১৮৫৮ তারিখে সারের সারবিটন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ১৮৮০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৮৮১-৮২ মৌসুম থেকে ১৮৮৭-৮৮ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে ভিক্টোরিয়ার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৮৮৫ সালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে একটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন।…

  • | | | |

    গৌতম গম্ভীর

    ১৪ অক্টোবর, ১৯৮১ তারিখে দিল্লিতে জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার, ধারাভাষ্যকার, কোচ ও রাজনীতিবিদ। মূলতঃ শীর্ষসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। বামহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ভারতের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন ও অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। ৫ ফুট ৬ ইঞ্চি (১.৬৮ মিটার) উচ্চতার অধিকারী। দীপক গম্ভীর ও সীমা গম্ভীর দম্পতির…

  • | | |

    অশঙ্কা গুরুসিনহা

    ১৬ সেপ্টেম্বর, ১৯৬৬ তারিখে কলম্বোয় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, কোচ ও প্রশাসক। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। বামহাতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শনসহ ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। শ্রীলঙ্কার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯৮৪-৮৫ মৌসুম থেকে ১৯৯৬-৯৭ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটে নন্দেস্ক্রিপ্টস ক্রিকেট ক্লাব ও সিংহলীজ স্পোর্টস ক্লাবের…

  • | |

    স্টুয়ার্ট ব্রড

    ২৪ জুন, ১৯৮৬ তারিখে নটিংহামে জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করছেন। এছাড়াও, বামহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন করে থাকেন। ইংল্যান্ড দলের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন ও দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। ‘ব্রডি’ ডাকনামে পরিচিত স্টুয়ার্ট ব্রড ৬ ফুট ৫ ইঞ্চির দীর্ঘ উচ্চতার অধিকারী। ওকহাম স্কুলে…