|

লেন উইলকিনসন

৫ নভেম্বর, ১৯১৬ তারিখে চেশায়ারের নর্থউইচ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখতেন। লেগ-ব্রেক বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৩০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

নর্থউইচে জন্মগ্রহণ করলেও শৈশবকাল বোল্টনে অতিবাহিত করেন। মার্কল্যান্ড হিল স্কুলে ভর্তি হন। হিটনের পক্ষে খেলেন। ১৫ বছর বয়সে লেগ-স্পিনের দিকে ঝুঁকে পড়েন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ল্যাঙ্কাশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৩৭ থেকে ১৯৪৭ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। দ্রুতগতিতে তাঁর উত্থান ঘটে। ১৯৩৭ সালে ল্যাঙ্কাশায়ারের দ্বিতীয় একাদশে দূর্দান্ত খেলেন। পরের মৌসুমে প্রথম-শ্রেণীর বোলিং গড়ে শীর্ষে থাকেন।

২১ বছর বয়সেই দেশের সেরা লেগ-স্পিনার হিসেবে বিবেচিত হয়েছিলেন। ১৯৩৬ সালে ওল্ড ট্রাফোর্ডের কর্মী হিসেবে যোগ দেন। একই দিনে উইনস্টন প্লেসে পেশাদারী শর্তের প্রস্তাবনা দেয়া হয়। পরের মৌসুমে কার্লি পেজের নেতৃত্বাধীন সফররত নিউজিল্যান্ডীয় একাদশের বিপক্ষে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে প্রথমবারের মতো অংশ নেন। প্রথম ওভারেই কার্লি পেজকে বিদেয় করেন। সাত খেলা থেকে ২২ উইকেট দখল করেন। তন্মধ্যে, ট্রেন্ট ব্রিজের ব্যাটিং উপযোগী পিচে নয় উইকেট দখল করেছিলেন।

১৯৩৭ থেকে ১৯৪৭ সময়কালে ল্যাঙ্কাশায়ারের প্রধান বোলারের মর্যাদা লাভ করেন। তবে, ইংল্যান্ড দলে স্বীয় স্থান ধরে রাখতে পারেননি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণে অনেকের ন্যায় তারও খেলোয়াড়ী জীবনে বিঘ্ন ঘটে। পরবর্তীতে অবশ্য ওল্ড ট্রাফোর্ডে ফিরে আসেন। ১৯৪৭ সালে অবসর গ্রহণের পূর্বে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ২৫.২৫ গড়ে ২৮২ উইকেট দখল করেছিলেন।

১৯৩৮ সালে ল্যাঙ্কাশায়ারের পক্ষে প্রথমবারের মতো পূর্ণাঙ্গ মৌসুম খেলার সুযোগ পান। ৩৬ খেলা থেকে ২৩.২৮ গড়ে ১৫১ উইকেট দখল করেছিলেন। বুদ্ধিমত্তা সহযোগে পুরো উচ্চতাকে কাজে লাগিয়ে বল করতেন। প্রায়শঃই বলকে বেশ বাঁক খাওয়াতেন ও খুব কমই শর্ট বল করতেন। পাশাপাশি স্লিপ ফিল্ডার হিসেবেও অপূর্ব ভূমিকা রাখতেন। ২৬ ক্যাচ নিয়েছিলেন। ফলশ্রুতিতে, দল নির্বাচকমণ্ডলী তাঁকে উপেক্ষা করতে পারেননি।

১৯৩৮-৩৯ মৌসুমে ইংল্যান্ডের পক্ষে সব মিলিয়ে তিনটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। সবগুলো টেস্টই দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে খেলেছিলেন। ঐ মৌসুমে ওয়ালি হ্যামন্ডের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা সফর করেন। পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া ঐ সিরিজের তিন টেস্টে খেলেন। ঐ সফরে তাঁর দল অপরাজিত অবস্থায় দেশে ফিরে আসে। ২৪ ডিসেম্বর, ১৯৩৮ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। পল গিব ও নরম্যান ইয়ার্ডলি’র সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ২/৯৩ ও ০/১৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

একই সফরের ১৮ ফেব্রুয়ারি, ১৯৩৯ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১/৪৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ১* রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলেও স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজে এগিয়ে যায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

খেলোয়াড়ী জীবন শেষে সংবাদ প্রতিনিধি হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। ৩ সেপ্টেম্বর, ২০০২ তারিখে ল্যাঙ্কাশায়ারের ব্যারো-ইন-ফার্নেস এলাকায় নিজ গৃহে ৮৫ বছর ৩০২ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে। ব্যারোতে তাঁর শবানুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।

সম্পৃক্ত পোস্ট