| |

গ্যারি সোবার্স

২৮ জুলাই, ১৯৩৬ তারিখে বার্বাডোসের চেলসী রোড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। বামহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, বামহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম, স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স কিংবা বামহাতে রিস্ট-স্পিন বোলিংয়ে দক্ষতার স্বাক্ষর রাখেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন।

৫ ফুট ১১ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী তিনি। ১৯৫২-৫৩ মৌসুম থেকে ১৯৭৪ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে নটিংহ্যামশায়ার, ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে বার্বাডোস ও অস্ট্রেলীয় ক্রিকেট সাউথ অস্ট্রেলিয়ার সদস্যরূপে খেলেছিলেন। সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যাটসম্যান হিসেবে ডন ব্র্যাডম্যানের মর্যাদা উত্তরোত্তর হুমকির সম্মুখীন হলেও বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ অল-রাউন্ডার হিসেবে কেউ গারফিল্ড সোবার্সের দিকে তাকাতে সাহস করেনি। বামহাতে অর্থোডক্স, রিস্ট স্পিন ও ফাস্ট মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। এছাড়াও, মাঠের যে-কোন স্থানে দক্ষ ফিল্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন।

শামন্ট ও থেলমা সোবার্স দম্পতির সন্তান। সেন্ট মাইকেলের বে ল্যান্ড এলাকায় এক হাতে অতিরিক্ত আঙ্গুল নিয়ে জন্মগ্রহণ করেন। পরবর্তীতে অবশ্য তা নিষ্ক্রান্ত করা হয়েছিল। দ্বীপের অধিকাংশ জনগোষ্ঠীর কাছে ‘স্যার গ্যারি’ নামেই সমধিক পরিচিত ছিলেন। প্রকৃত অর্থেই কিংবদন্তীতুল্য ক্রিকেটার ছিলেন। বার্বাডোসের একমাত্র জাতীয় বীর হিসেবে পরিচিতি পান। চরম দারিদ্রতা ও অনাদরে-অবহেলায় বড় হন। পরবর্তীকালে বিশ্ববাসীর কাছে ক্রিকেটের ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ অল-রাউন্ডারের স্বীকৃতি পান। ক্রিকেটের পাশাপাশি অনেকগুলো ক্রীড়ায় দক্ষ ছিলেন। অ্যাথলেটিক্সের অধিকাংশ বিষয়ে পারদর্শী ছিলেন। বার্বাডোসের পক্ষে গল্ফ, ফুটবল ও বাস্কেটবলে অংশ নেন।

১৩ বছর বয়সে বার্বাডোস ক্রিকেট লীগ প্রতিযোগিতায় কেন্ট দলের খেলার জন্যে চুক্তিবদ্ধ হন। এরফলে, পুরনো দলের সাথে তরুণ হিসেবে খেলার বৃহৎ সুযোগ ঘটে। ওয়ান্ডারার্সে খেলাকালীন পুলিশ দলের অধিনায়ক ইন্সপেক্টর উইলফ্রেড ফারমারের কাছে তাঁর সহজাত প্রতিভা ধরা পড়ে। ১৬ বছর বয়সে প্রথম-শ্রেণীর পুলিশ ফার্স্ট ডিভিশন দলের সদস্যরূপে অন্তর্ভুক্ত হন। একই বছরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সদস্যরূপে ১৯৫২-৫৩ মৌসুমে ভারতের বিপক্ষে খেলায় অংশগ্রহণের জন্যে বার্বাডোসে যাচাই-বাছাইয়ের খেলায় অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ বার্তা লাভ করেন। শুরুতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলে প্রায়শঃই বোলার হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করতেন। তাসত্ত্বেও, চার বছর পর অনন্য টেস্ট রেকর্ডের সাথে স্বীয় নামকে যুক্ত করেন। দুই দশকব্যাপী আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন।

ব্যাটসম্যান হিসেবে তিনি তাঁর সময়ে সন্দেহাতীতভাবে বিশ্বের সেরা খেলোয়াড় ছিলেন। বোলার হিসেবে তাঁর তুলনায় অনেকেই এগিয়ে থাকলেও তাঁর সমকক্ষ ছিল না। নতুন বল নিয়ে দ্রুতলয়ে বোলিং করতেন। বল পুরনো হয়ে পড়লে প্রচলিত ধাঁচে স্পিন বোলিং করতেন। ফিল্ডার হিসেবে স্লিপ অঞ্চলে কিংবা লেগ-স্লিপ অঞ্চলে দণ্ডায়মান থাকতেন। নিঃসন্দেহে ঐ যুগের সেরা অল-রাউন্ড ফিল্ডার ছিলেন; এমনকি সর্বকালের সেরাদের কাতারেও ছিলেন।

বিরাট ক্রিকেট প্রতিভার অধিকারী হিসেবে ক্রিকেটের সকল স্তরে প্রত্যাশার অধিক অতি উচ্চমানের দক্ষতার স্বাক্ষর রাখেন। খুব কমসংখ্যক ক্রিকেট বিশ্লেষকই দ্বি-মত পোষণ করবেন যে, আধুনিক ক্রিকেট তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ অল-রাউন্ডার নন। ব্যতিক্রমধর্মী টেস্ট ব্যাটিং গড়ে লক্ষ্য করা যায় যে তিনি কিরূপ রান সংগ্রহ করেছিলেন।

মারমুখী ভঙ্গীমায় সকল ধরনের শট খেলায় অভ্যস্ত ছিলেন। তবে, অফ-সাইডের দিকেই অধিক স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন। ব্যাটসম্যান হিসেবে তিনি যেমন সেরা ছিলেন, ঠিক তেমনি বোলার হিসেবেও দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছিলেন। বামহাতি অর্থোডক্স ও রিস্ট স্পিন – উভয় ধাঁচের বোলিংয়েই সিদ্ধহস্তের পরিচয় দিয়েছেন। এছাড়াও উদ্বোধনী বোলার হিসেবে চমৎকার ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতে পারতেন। উইকেটের কাছাকাছি এলাকায় অবস্থান করলেও সমানতালে কিন্তু আশ্চর্যান্বিত হবার কোন কারণ ছিল না যে মাঠের যে কোন অবস্থানেই নিজেকে মানিয়ে নিতে পারতেন।

১৯৫৪ থেকে ১৯৭৪ সময়কালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে সর্বমোট ৯৩ টেস্ট ও একটিমাত্র ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৫৩-৫৪ মৌসুমে নিজ দেশে লিওনার্ড হাটনের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ৩০ মার্চ, ১৯৫৪ তারিখে কিংস্টনে অনুষ্ঠিত ১৭ বছর বয়সে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সদস্যরূপে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে। সফররত ইংল্যান্ড দলের বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নিয়ে বর্ণাঢ্যময় খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান। শুরুতে দলে বোলার হিসেবে অংশ নিয়েছিলেন। খেলায় তিনি ৪/৭৫ ও ০/৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ১৪* ও ২৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। স্বাগতিকরা ৯ উইকেটে পরাজিত হলে ২-২ ব্যবধানে সিরিজটি ড্রয়ে পরিণত হয়।

১৯৫৫-৫৬ মৌসুমে প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে ডেনিস অ্যাটকিনসনের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের অন্যতম সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ড গমন করেন। ৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫৬ তারিখে ডুনেডিনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ২৭ রান সংগ্রহসহ খেলায় একটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। সফরকারীরা ইনিংস ও ৭১ রানে জয় পেলে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

প্রথম ২৬ টেস্টের মধ্যে ২১ বছর ২১৬ দিন বয়সে রেকর্ড ভঙ্গকারী ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানের ইনিংস খেলেন। ব্যাটসম্যান হিসেবে ১৯৫৮ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে কিংস্টনে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অপরাজিত ৩৬৫ রানের অবিশ্বাস্য ইনিংস উপহার দেন। ঐ সময়ে এটিই টেস্টে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসের বিশ্বরেকর্ড ছিল। এরফলে, ১৯৩৮ সালে স্যার লেন হাটনের সংগৃহীত ৩৬৪ রানের রেকর্ড ম্লান হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে, ১৯৯৪ সালে অ্যান্টিগুয়ায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের অধিনায়ক ব্রায়ান লারা ৩৭৫ ও আবারও ৪০০ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে দূর্দান্ত কৃতিত্বের পরিচয় দিয়েছেন। দলের সংগ্রহ ৭৯০/৩ থাকাকালীন দলনায়ক জেরি আলেকজান্ডার ইনিংস ঘোষণা করেন। অদ্যাবধি ব্যাটসম্যান হিসেবে তাঁর এ সংগ্রহটি সর্বকালের সেরাদের তালিকায় ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে। এছাড়াও, অল-রাউন্ডারদের তালিকায় শীর্ষে অবস্থান করছে। পাশাপাশি, আরও কয়েকটি ব্যক্তিগত অর্জনের সাথে নিজেকে চিত্রিত করেন।

তদুপরি, এর কয়েক বছর পরই প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটের ইতিহাসের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে এক ওভার থেকে ছয়টি ছক্কা হাঁকিয়েছিলেন। ১৯৬৬ সালে দূর্ভাগা ম্যালকম ন্যাশের এক ওভার থেকে প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে উপর্যুপরী ছয়টি ছক্কা হাঁকানোর রেকর্ড গড়েন। এ সকল বিষয়াদি বিবেচনায় এনে স্যার ডোনাল্ড ব্র্যাডম্যানের পর উইজডেন কর্তৃক শতাব্দীর সেরা ক্রিকেটার হিসেবে দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন। দূর্ভাগ্যজনকভাবে অনেক সেরা ক্রিকেটারের ন্যায় ব্যতিক্রমী রেকর্ডের সাথেও নিজেকে যুক্ত করেছেন। ৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৩ তারিখে লিডসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওডিআইয়ে একটিমাত্র খেলায় অংশগ্রহণ করেছিলেন। ছয় বল মোকাবেলা করে শূন্য রানে বিদেয় নিয়েছেন। তবে, ঐ খেলায় একটি উইকেটের সন্ধান পেয়েছিলেন।

১৯৫৯-৬০ মৌসুমে নিজ দেশে পিটার মে’র নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ১৭ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬০ তারিখে কিংস্টনের সাবিনা পার্কে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১৪৭ ও ১৯ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, ০/১৪ ও ০/১৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।

১৯৬৩ সালে ফ্রাঙ্ক ওরেলের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের অন্যতম সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ৪ জুলাই, ১৯৬৩ তারিখে বার্মিংহামের এজবাস্টনে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ৫/৬০ ও ২/৮০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ১৯ ও ৯ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। ২১৭ রানে জয়লাভ করলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-১ ব্যবধানে সমতায় চলে আসে।

১৯৬৯ সালে ক্যারিবীয় দলকে নেতৃত্ব দিয়ে ইংল্যান্ড গমন করেন। ১২ জুন, ১৯৬৯ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্ট খেলেন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ১০ ও ৪৮ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ১/৭৮ ও ০/১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। স্বাগতিকরা ১০ উইকেটে জয়লাভ করলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

২০ বছরেরও অধিক সময় ধরে ক্রিকেট মাঠে অবাধে বিচরণ করেছেন। উপস্থিত দর্শকদের কাছে পরবর্তী করণীয় কি হতে পারে তা বিস্ময়ের কারণে পরিণত করেন। অনবদ্য ও দর্শনীয় ক্রিকেট খেলার ধরনের মাধ্যমে ব্যাট, বল, মাঠ, উইকেট-রক্ষণ ও পরবর্তীতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের অধিনায়ক হিসেবে নিজেকে পরিচিতি ঘটান। অধিনায়ক হিসেবেও উদ্যমশীলতার পরিচয় দিয়েছেন। পোর্ট অব স্পেনে উদারচিত্তে ইনিংস ঘোষণায় ইংল্যান্ডের সিরিজ নির্ধারণী খেলায় জয়কালেও উদ্যমতা নিয়ে দলকে পরিচালনা করেছিলেন।

অনেক ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান খেলোয়াড়ের ন্যায় তিনিও বৈশ্বিক পরিচিতি পান। ১৯৭১ সালে বহিঃবিশ্ব দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়ায় বিপক্ষে ২৫৪ রানে ঝলঝলে ইনিংস খেলে ব্যাটিং কিংবদন্তী ডন ব্র্যাডম্যানের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা কুড়ান। ১৯৭৩-৭৪ মৌসুমে নিজ দেশে মাইক ডেনিসের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ৩০ মার্চ, ১৯৭৪ তারিখে পোর্ট অব স্পেনে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ০ ও ২০ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/৪৪ ও ২/৩৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। সফরকারীরা ২৬ রানে জয় পেলে সিরিজটি ১-১ ব্যবধানে শেষ করতে সক্ষম হয়।

হাঁটুর আঘাতের কারণে ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণ করতে বাধ্য হন। ডন ব্র্যাডম্যানকে যদি ক্রিকেট ‘মাঠের সেরা ব্যাটসম্যান’ হিসেবে গণ্য করা হয়, তাহলে গারফিল্ড সোবার্সকে ‘সকল ক্রিকেটারের সেরা’ হিসেবে পরিগণিত করা হবে। তাঁর সৃষ্ট রেকর্ডগুলোর মাধ্যমেই এর সত্যতা প্রকাশ পায়। এছাড়াও, অবসর গ্রহণের পর নৈশভোজন পরবর্তী বক্তার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন।

ব্যাটসম্যান হিসেবে তিনি খুবই ভালোমানের ক্রীড়া নৈপুণ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। অবসর গ্রহণকালীন টেস্টে ৫৭.৭৮ গড়ে ৮০৩২ রান তুলে তৎকালীন ব্যক্তিগত সর্বমোট টেস্ট রানের রেকর্ড গড়েছিলেন। পাশাপাশি ৩৪.০৩ গড়ে ২৩৫ উইকেট লাভে স্বীয় প্রতিভার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন। এ পর্যায়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেট সংগ্রাহক ছিলেন। এ সময়ে টেস্ট খেলাগুলো অনিয়মিতভাবে অনুষ্ঠিত হতো ও বোলারদের মানও যথেষ্ট মানসম্পন্ন ছিল। বামহাতে মিডিয়াম পেস ও বামহাতে স্পিন – উভয় ধরনের বোলিংয়েই সিদ্ধহস্তের অধিকারী ছিলেন। এছাড়াও, ১০৯টি ক্যাচ মুঠোয় পুড়ে ফিল্ডার হিসেবে তৃতীয় সর্বোচ্চ স্থানে অবস্থান করছিলেন। ১৬০ ইনিংস থেকে প্রাপ্ত ২৬ শতকের বিপরীতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিখ্যাত অল-রাউন্ডার জ্যাক ক্যালিসের ২৮০ ইনিংসে সংগৃহীত ৪৫ শতকের তুলনা করলে দেখা যায় যে, গ্যারি সোবার্স ১৬.৩% ও জ্যাক ক্যালিস ১৬.১% শতরান করেছিলেন। টেস্টের ঊনিশজন শীর্ষ অল-রাউন্ডারের অন্যতম হিসেবে ২০০ উইকেট ও ৩০০০ রানের ন্যায় ‘ডাবল’ লাভের অধিকারী।

৬০ টেস্টে এলআর গিবসের বোলিং থেকে তিনি সর্বাধিক ক্যাচ নেয়ায় যে-কোন বোলারের নির্দিষ্ট ফিল্ডারের সহায়তায় সর্বাধিক ক্যাচ নেয়ার রেকর্ড গড়েন। পরবর্তীতে, ১৯৯৭-৯৮ মৌসুমে ব্রিসবেন টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার মার্ক টেলর ৫৭ টেস্টে শেন ওয়ার্নের বোলিং থেকে ৪০তম ক্যাচ মুঠোয় পুড়ে রেকর্ডটি নিজেদের করে নেন।

ক্রিকেটবিষয়ক বেশ কয়েকটি গ্রন্থ প্রকাশ করেন। তন্মধ্যে, ১৯৬৭ সালে শিশুতোষ ‘বোনাভেঞ্চার এন্ড দ্য ফ্ল্যাশিং ব্লেড’ এবং একই সালে জে.এস. বার্কারের সাথে ‘এ হিস্ট্রি অব ক্রিকেটে ইন দি ওয়েস্ট ইন্ডিজ’ উপন্যাস লিখেন। ১৯৬৬-৬৭ মৌসুমে ভারত সফরে অঞ্জু মহেন্দ্রু নাম্নী ভারতীয় অভিনেত্রীর সাথে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্যে প্রেমে জড়িয়ে পড়েন। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। সেপ্টেম্বর, ১৯৬৯ সালে প্রু কার্বি নাম্নী অস্ট্রেলীয় রমণীর পাণিগ্রহণ করেন। এ দম্পতির ম্যাথু ও ড্যানিয়েল নামীয় দুই পুত্র রয়েছে। এছাড়াও, জেনেভিভ নাম্নী দত্তক কন্যা রয়েছে। ১৯৮৪ সালে তাঁরা পৃথকভাবে বসবাস করতে থাকেন ও ১৯৯০ সালে বিবাহ-বিচ্ছেদ ঘটে। তবে, বৈবাহিক সূত্রে তিনি দ্বৈত অস্ট্রেলীয় নাগরিকত্ব লাভ করেছেন।

১৯৬৯ সালে ক্রিকেট খেলার মাধ্যমে সম্প্রদায়ের মাঝে একতা আনয়ণে চেষ্টারত অন্যতম জনপ্রিয় ব্যক্তিত্বে পরিণত হন। ১৯৭৪ সালে উইজডেন বর্ষসেরা ক্রিকেটার সম্মাননা লাভের পাশাপাশি ওয়াল্টার লরেন্স ট্রফি লাভ করেন। ১৯৭৫ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ রাণী দ্বিতীয় এলিজাবেথের কাছ থেকে নাইট উপাধিতে ভূষিত হন। ২০০০ সালে উইজডেন কর্তৃক শতাব্দীর সেরা পাঁচজন ক্রিকেটারের অন্যতম হিসেবে মনোনীত হন। ৯ অক্টোবর, ২০২১ তারিখে বিশিষ্ট ক্রিকেট বিশ্লেষক অনন্ত নারায়ণন তাঁকে টেস্টের শীর্ষ অল-রাউন্ডার হিসেবে চিত্রিত করেছেন।

তাঁর সম্মানার্থে ২৮ এপ্রিল, ২০০২ তারিখে সেন্ট মাইকেলের ওয়াইল্ডি এলাকায় কার্ল ও ভার্জিল ব্রুডহাগেনের নেতৃত্বে দেড় টন ওজন ও ১২ ফুট লম্বা (ভিত্তিসহ উচ্চতা ২০ ফুট) ব্রোঞ্জের ভাস্কর্য নির্মাণ করা হয়। হিরোজ ডে সেলিব্রেশনের অংশ হিসেবে আবক্ষ উন্মোচন করা হলেও পরবর্তীতে ১৯ নভেম্বর, ২০০৬ তারিখে বার্বাডোসের কেনসিংটন ওভাল ফ্যাসিলিটিতে স্থানান্তরিত করা হয়। ২০০৪ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল কর্তৃক বর্ষসেরা খেলোয়াড়কে বার্ষিকাকারে প্রদান করা হয়।

Similar Posts

  • | |

    গ্যারি ব্র্যান্ট

    ১৩ জানুয়ারি, ১৯৭৬ তারিখে ম্যাশোনাল্যান্ডের সিনোইয়া এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছেন। ডানহাতে মিডিয়াম বোলিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। জিম্বাবুয়ের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ৬ ফুট উচ্চতার অধিকারী। ১৯৯৪-৯৫ মৌসুম থেকে ২০০৮ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর জিম্বাবুয়ীয় ক্রিকেটে মনিকাল্যান্ড ও…

  • |

    গ্রেগ লাভরিজ

    ১৫ জানুয়ারি, ১৯৭৫ তারিখে মানাওয়াতুর পালমারস্টোন নর্থ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। দলে তিনি মূলতঃ লেগ-ব্রেক বোলার হিসেবে খেলতেন। এছাড়াও, নিচেরসারিতে ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। তুলনামূলকভাবে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন বেশ দারুণ ছিল। ১৯৯৪ সাল থেকে ২০০২-০৩ মৌসুম পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় ও ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর…

  • | |

    অরুণ লাল

    ১ আগস্ট, ১৯৫৫ তারিখে উত্তরপ্রদেশের মোরাদাবাদ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৮০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ক্রিকেটপ্রিয় পরিবারে তাঁর জন্ম। ‘পিগ্গি’ ডাকনামে পরিচিতি পান। পিতা, কাকা, কাকাতো ভাই – সকলেই তাঁর পূর্বে প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিয়েছিলেন।…

  • |

    ম্যাথু ফিশার

    ৯ নভেম্বর, ১৯৯৭ তারিখে ইয়র্কে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে খেলছেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নেমে থাকেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। জুন, ২০১৩ সালে সর্বপ্রথম তাঁর প্রতিভা সর্বসমক্ষে ধরা পড়ে। ১৫ বছর ২১২ দিন বয়স নিয়ে ল্যাঙ্কাশায়ারের বিপক্ষে বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী কাউন্টি ক্রিকেটার হিসেবে ৪০ ওভারের খেলায় অংশ নেন। ঐ…

  • | |

    নাজির আলী

    ৮ জুন, ১৯০৬ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের পাঞ্জাবের জলন্ধরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৩০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। আগ্রাসী ডানহাতি ব্যাটসম্যান হিসেবে বলকে বেশ জোড়ালোভাবে আঘাত করতেন, মিডিয়াম-পেস বোলিং করতেন ও দূর্দান্তভাবে ফিল্ডিং করতেন। অল-রাউন্ডার হিসেবে খেললেও…

  • | |

    জ্যাক ব্ল্যাকহাম

    ১১ মে, ১৮৫৪ তারিখে ভিক্টোরিয়ার নর্থ ফিটজরয় এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষণে অগ্রসর হতেন। উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, অস্ট্রেলিয়া দলের অধিনায়কের দায়িত্বে ছিলেন। ক্রিকেটের ইতিহাসের অন্যতম সেরা উইকেট-রক্ষকের মর্যাদাপ্রাপ্ত হন। ‘উইকেট-রক্ষকদের রাজপুত্র’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। ঊনবিংশ শতকের শুরুরদিকে ক্রিকেটকে মহীয়ান করে গেছেন। দূর্দান্তভাবে ও দক্ষতার সাথে উইকেট-রক্ষণ…