| |

জন ওয়ার

১৬ জুলাই, ১৯২৭ তারিখে মিডলসেক্সের ইলিং এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখতেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিংয়ের পাশাপাশি নিচেরসারিতে ডানহাতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৫০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

‘জেজে’ ডাকনামে ভূষিত হয়েছিলেন। কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালীন ১৯৪৯ থেকে ১৯৫২ সময়কালে চার বছরের প্রত্যেকবারই ব্লুধারী হন। তন্মধ্যে, ১৯৫১ সালে বিশ্ববিদ্যালয় দলটির অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে মিডলসেক্স দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে খেলেছেন। ১৯৪৯ থেকে ১৯৬০ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। তন্মধ্যে, ১৯৫৮ থেকে ১৯৬০ সময়কালে মিডলসেক্সের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন।

১৯৫৬ সালে লর্ডসে কেন্টের বিপক্ষে ব্যক্তিগত সেরা ৯/৬৫ পান। এছাড়াও, ১০.৮০ গড়ে ২৭৪৪ রান তুলেছেন। পাশাপাশি ৯১টি ক্যাচ তালুবন্দী করেছেন। দুই মৌসুমে ১০০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন। ১৯৫৬ সালে ১৮.১৭ গড়ে সর্বাধিক ১১৬ উইকেট পেয়েছেন।

১৯৫১ সালে ইংল্যান্ডের পক্ষে দুইটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। উভয়ক্ষেত্রেই তিনি স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলেছিলেন। তবে, সীমিত পর্যায়ের সফলতা পেয়েছেন। ইয়ান জনসনকে গডফ্রে ইভান্সের ক্যাচে পরিণত করে একমাত্র উইকেটের সন্ধান পেয়েছেন। সব মিলিয়ে এমসিসি দলের সাথে পাঁচবার বিদেশ সফর করেন। ১৯৫০-৫১ মৌসুমে ফ্রেডি ব্রাউনের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সাথে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড গমন করেন। ৫ জানুয়ারি, ১৯৫১ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৪ ও ০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/১৪২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। সফরকারীরা ইনিংস ও ১৩ রানে পরাজিত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।

এরপর, ২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫১ তারিখে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ টেস্ট খেলেন। উভয় ইনিংসেই তিনি শূন্য রানে বিদেয় নিয়েছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৬৩ ও ১/৭৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। স্বাগতিকরা ২৭৪ রানে জয় পেলে ৪-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

এরপর, এমসিসি দলের সাথে ১৯৫১ সালে কানাডা, ১৯৫৭-৫৮ মৌসুমে পূর্ব আফ্রিকা, ১৯৫৫-৫৬ মৌসুমে ই.ডব্লিউ. সোয়ান্টন একাদশের সদস্যরূপে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ১৯৫৬-৫৭ মৌসুমে নরফোক ডিউক একাদশের সদস্যরূপে জ্যামাইকা সফর করেন।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রত্যাখ্যাত হলেও প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে বেশ সফল ছিলেন। ১৯৪৯ থেকে ১৯৬০ সময়কালে মিডলসেক্সের পক্ষে ২৬০টি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিয়ে ২০.৭৬ গড়ে ৭০৩ উইকেট দখল করেছেন। সব মিলিয়ে ৩৪৪টি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিয়ে ৯৫৬টি উইকেট দখল করেছিলেন।

১৯৬০ সালে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণ করেন। খেলা থেকে অবসর গ্রহণ করার পর ক্রিকেট লেখক হিসেবে বেশ সুনাম কুড়ান। জকি ক্লাবের সদস্য হন। পরবর্তীতে, ১৯৮৭ থেকে ১৯৮৮ সময়কালে এমসিসি’র প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করেছেন। এরপর, ১৯৯১ সালে এমসিসি’র ট্রাস্টি হিসেবে নির্বাচিত হন। এছাড়াও, নৈশভোজন পরবর্তী বক্তার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন।

৯ মে, ২০১৬ তারিখে ৮৮ বছর ২৯৮ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

সম্পৃক্ত পোস্ট