ফেব্রুয়ারি, ১৯৪১ তারিখে বার্বাডোসের অ্যালিনেডেল এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি বামহাতে মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, দক্ষ ফিল্ডার ছিলেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

খুব ছোটবেলা থেকে ক্রিকেট খেলায় তাঁর হাতেখড়ি ঘটে। ১৯৫৭-৫৮ মৌসুম থেকে ১৯৭১-৭২ মৌসুম পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রেখেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে বার্বাডোসের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৫ বছরব্যাপী প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনে মাত্র ৫৬ খেলায় অংশ নিতে পেরেছিলেন। ৬ শতক সহযোগে ৪১.০৫ গড়ে ৩৫৭২ রান ও ৪৫ ক্যাচ তালুবন্দী করেছেন।

১৬ বছর বয়সে বার্বাডোসের সদস্যরূপে সফররত পাকিস্তানী একাদশের বিপক্ষে খেলে প্রতিশ্রুতিশীলতার স্বাক্ষর রাখেন। কনরাড হান্টের সাথে ব্যাটিং উদ্বোধনে নেমে ফজল মাহমুদ, আব্দুল হাফিজ কারদার, নাসিম-উল-গণি’র ন্যায় বোলারদের রুখে প্রথম ইনিংসে ৪৭ রান তুলেন। উদ্বোধনী জুটিতে তাঁরা ১২৩ রান যুক্ত করেছিলেন। ইনিংস ঘোষণার কারণে দ্রুতলয়ে ২৯ রান তুলে দলের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হন।

ঐ সময়ে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলার স্বল্প আয়োজনের ফলে তেমন খেলার সুযোগ পাননি। তবে, জ্যামাইকার বিপক্ষে পরবর্তী খেলায় ৫২ রান তুলেন। দুই খেলায় অংশ নেয়ার পর ভারত ও পাকিস্তান গমনের জন্যে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলে ঠাঁই পান। বার্বাডোসের ক্রিকেট কিংবদন্তী হিসেবে পরিচিতি পান। অনেকাংশে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে ভুল সময়ে দলের সদস্য হন। অসম্ভব ক্রিকেটীয় প্রতিভা থাকা সত্ত্বেও দলে ঠাঁই পাবার প্রশ্নে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখোমুখি হন।

১৯৫৯ থেকে ১৯৬৭ সাল পর্যন্ত ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে সব মিলিয়ে চারটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে সাফল্যের পরিচয় দিলেও মাত্র ১৮.৫০ গড়ে ১১১ রান তুলেন। ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ করেন ৪৮ রান।

সকলের ন্যায় তিনিও ভারতীয় স্পিনারদের মোকাবেলায় বেশ হিমশিম খেয়েছিলেন। ১৮-এর কম গড়ে রান পেয়েছিলেন। অবশ্য সফরের শুরুতে উপর্যুপরী ইনিংসগুলোয় ৪৮, অপরাজিত ৬৪ ও ৭৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এরপর খেলায় ছন্দ হারিয়ে ফেলেন ও সফরে তিনি ২৫.৯০ গড়ে ২৫৯ রান সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন।

সফরের দ্বিতীয় পর্যায়ের শুরুটা বেশ সাবলীল ছিল। মধ্যাঞ্চলের বিপক্ষে ৪১ ও ৭০, কমান্ডার-ইন-চিফ একাদশের বিপক্ষে ৪০ ও অপরাজিত ৪০ এবং প্রেসিডেন্ট একাদশের বিপক্ষে ৩৩ ও অপরাজিত ৩১ রান তুলেছিলেন।

১৯৫৮-৫৯ মৌসুমে জেরি আলেকজান্ডারের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সদস্যরূপে পাকিস্তান গমন করেন। ইতোমধ্যে ২-০ ব্যবধানে সফরকারীরা পিছিয়ে থাকা অবস্থায় ২৬ মার্চ, ১৯৫৯ তারিখে লাহোরে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ১৮ বছর ৩১ দিন বয়স নিয়ে ডেরেক সিলি ও গ্যারি সোবার্সের পর ওয়েস্ট ইন্ডিজের তৃতীয় সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড়ের সম্মাননা পান। একই টেস্টে মুশতাক আহমেদও সর্বকনিষ্ঠ টেস্ট ক্রিকেটার হিসেবে অভিষিক্ত হয়েছিলেন।

জেরি আলেকজান্ডারের সাথে ব্যাটিং উদ্বোধনে নামেন। ফজল মাহমুদ ও মাহমুদ হোসেনের বল মোকাবেলায় স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেননি। ১ রানে ফজল মাহমুদের শিকারে পরিণত হন। তবে, রোহন কানহাইয়ের ২১৭ রানের কল্যাণে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল ইনিংস ও ১৫৬ রানের ব্যবধানে জয় পেলেও স্বাগতিকরা ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে নেয়।

১৯৬৬-৬৭ মৌসুমে গ্যারি সোবার্সের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সদস্যরূপে ভারত সফরে যান। ১৩ জানুয়ারি, ১৯৬৭ তারিখে মাদ্রাজে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ৪৮ ও ৩৬ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে সফরকারীরা ২-০ ব্যবধানে সিরিজে জয়লাভ করে। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। তাঁর কাকাতো ভাই মাইকেল ফ্রেডরিক ১৯৫৩-৫৪ মৌসুমে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে একটিমাত্র টেস্ট খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন।

সম্পৃক্ত পোস্ট