|

দুষ্মন্ত চামিরা

১১ জানুয়ারি, ১৯৯২ তারিখে রাগামায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নেমে থাকেন। শ্রীলঙ্কার পক্ষে সকল স্তরের ক্রিকেটে অংশ নিচ্ছেন।

মরিস স্টেলা কলেজে অধ্যয়ন করেছেন। দীর্ঘদেহী ৬ ফুটের লিকলিকে গড়নের অধিকারী ফাস্ট বোলার। ২০১১-১২ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটে নন্দেস্ক্রিপ্টস ক্রিকেট ক্লাবের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, কলম্বো কিংস, নাগেনাহিরা নাগাস, রাজস্থান রয়্যালস ও ইয়াল ব্ল্যাজার্সের পক্ষে খেলেছেন। ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১২ তারিখে কলম্বোর ব্লুমফিল্ডে অনুষ্ঠিত ব্লুমফিল্ড ক্রিকেট ও অ্যাথলেটিক ক্লাব বনাম নন্দেস্ক্রিপ্টস ক্রিকেট ক্লাবের মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট জগতে প্রবেশ করেন।

২০১২ সালে এনসিসিতে যুক্ত হন। খুব দ্রুত নিজেকে ভবিষ্যতের বোলার হিসেবে গড়ে তুলতে সচেষ্ট হন। শুরু থেকেই পেসে বৈচিত্র্যতা আনয়ণ ও কিছুটা ডানহাতি ভঙ্গীমায় বলকে গতিশীল করতে বাঁক খাওয়াতে পারেন। ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটারের অধিক গতিবেগে বোলিংয়ে সক্ষম। ২৩ বছর বয়সের মধ্যেই কোচদের কাছ থেকে দেশের দ্রুত গতিসম্পন্ন বোলারের স্বীকৃতি পেয়েছেন। নিজস্ব প্রথম পরবর্তী দুই মৌসুমে কিছু খেলায় সুন্দর ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন করেছেন। তবে, ২০১৩-১৪ মৌসুমের এনসিসি’র পক্ষে চ্যাম্পিয়নশীপের খেলায় রান সংগ্রহে তৎপর ছিলেন। এ পর্যায়ে ২১.১৮ গড়ে ৩২টি প্রথম-শ্রেণীর উইকেট লাভ করেন।

ঘরোয়া ক্রিকেটে দূর্দান্ত ক্রীড়া নৈপুণ্যের স্বাক্ষর রাখতে থাকেন ও দ্রুততার সাথে ব্যাটসম্যানদেরকে বিদেয় করার স্বীকৃতিস্বরূপ জাতীয় দল নির্বাচকমণ্ডলীর নজর কারেন।

২০১৫ সাল থেকে শ্রীলঙ্কার পক্ষে টেস্ট, ওডিআই ও টি২০আইয়ে অংশ নিচ্ছেন। ২০১৪ সালের শেষদিকে নিউজিল্যান্ড গমনার্থে শ্রীলঙ্কার টেস্ট দলে ঠাঁই পান। তবে, কোন টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পাননি। প্রস্তুতিমূলক খেলায় শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার কবলে পড়েছিলেন। একই সফরের শেষ মুহূর্তে ওডিআই দলে যুক্ত হন। ২০১৫ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতা আরম্ভ হবার পূর্বে ওয়েলিংটনে একদিনের আন্তর্জাতিকে প্রথমবারের মতো অংশ নেন। ২৯ জানুয়ারি, ২০১৫ তারিখে স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত ওডিআইয়ে প্রথম ওভারে ১৪৬ কিলোমিটার গতিবেগে বোলিং করে রস টেলরের উইকেট লাভ করেছিলেন। খেলায় তিনি ২/৬০ বোলিং পরিসংখ্যান গড়েন। চমৎকার খেলে ২০১৫ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় শ্রীলঙ্কা দলের সদস্য হন ও ধম্মিকা প্রসাদের স্থলাভিষিক্ত হন। কয়েক মাস পর ক্রিকেটের দীর্ঘতর সংস্করণে খেলার সুযোগ পান। কিন্তু, ঐ সিরিজে তাঁকে খেলানো হয়নি।

২০১৫ সালে নিজ দেশে মিসবাহ-উল-হকের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের মুখোমুখি হন। ২৫ জুন, ২০১৫ তারিখে কলম্বোর পিএসএসে অনুষ্ঠিত সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ১/৩৩ ও ৩/৫৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিং করার সুযোগ পেয়ে ২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, ধাম্মিকা প্রসাদের অসামান্য অল-রাউন্ড ক্রীড়ানৈপুণ্যের কারণে খেলায় স্বাগতিকরা ৭ উইকেটে জয় পেয়ে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

একই বছরের ৯ নভেম্বর, ২০১৫ তারিখে পাল্লেকেলেতে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ক্ষুদ্রতর সংস্করণ হিসেবে পরিচিত টি২০আইয়ে প্রথম খেলেন। তবে, ক্রমাগত আঘাতপ্রাপ্তির ফলে স্বাভাবিক ক্রীড়াশৈলীতে বিঘ্ন ঘটায়।

২০১৫-১৬ মৌসুমে অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজের নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের সাথে নিউজিল্যান্ড গমন করেন। ১৮ ডিসেম্বর, ২০১৫ তারিখে হ্যামিল্টনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ৪ ও ২ রান সংগ্রহ করেন। ৫/৪৭ ও ৪/৬৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, কেন উইলিয়ামসনের অসাধারণ ব্যাটিং সাফল্যে স্বাগতিকরা ৫ উইকেটে জয় পায় ও ২-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।

২০২১-২২ মৌসুমে নিজ দেশে ক্রেগ ব্রাদওয়েটের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ২১ নভেম্বর, ২০২১ তারিখে গলেতে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। একবার ব্যাটিংয়ে নামার সুযোগ পেয়ে ৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/১৪ ও ০/১২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করানোসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, দলীয় অধিনায়ক ডিমুথ করুণারত্নে’র অসাধারণ ব্যাটিং সাফল্যে স্বাগতিকরা ১৮৭ রানে জয় পেয়ে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

২০২৩-২৪ মৌসুমে নিজ দেশে আফগানিস্তানের মুখোমুখি হন। ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ তারিখে পাল্লেকেলেতে অনুষ্ঠিত ওডিআইয়ে ২/৫৫ লাভ করেছিলেন।

সম্পৃক্ত পোস্ট