|

সদাশিব শিন্দে

১৮ আগস্ট, ১৯২৩ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের বোম্বে এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। লেগ-ব্রেক গুগলি বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ভারত দলের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

৫ ফুট পৌনে ৯ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী ছিলেন। ভবন ঠিকাদারের সন্তান ছিলেন। ১৯৪০-৪১ মৌসুম থেকে ১৯৫৪-৫৫ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে বরোদা, হিন্দু, মহারাষ্ট্র ও বোম্বের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। মহারাষ্ট্রের পক্ষে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে তাঁর অভিষেক ঘটে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হবার পর ঐ খেলায় প্রতিপক্ষ ছিল বরোদা। প্রথম ইনিংসে মোটেই সুবিধে করতে পারেননি। তবে, দ্বিতীয় ইনিংসে শঙ্কররাও পাওয়ার ও হিমু অধিকারী’র উইকেট পেয়েছিলেন।

ডিবি দেওধরের ছত্রচ্ছায়ায় নিজেকে বোলার হিসেবে গড়ে তুলেন। ব্রাবোর্ন স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত খেলায় বোম্বের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো উল্লেখযোগ্য ভূমিকার স্বাক্ষর রাখেন। বিজয় মার্চেন্ট ৩৫৯ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন ও বোম্বে দল ৭৩৫ রান তুলেন। ৭৫.৫ ওভার বোলিং করে ৫/১৮৬ লাভ করেন। পুনায় নয়ানগরের বিপক্ষে দেওধর খেলায় দুইটি শতরান করেন এবং তিনি ৫/১৭ ও ৪/২৯ লাভ করেছিলেন। এটিই খেলায় তাঁর সেরা বোলিং সাফল্য ছিল।

বলে বৈচিত্র্যতা আনয়ণে অসম্ভব দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছিলেন। লেগ-ব্রেক বোলিংয়ের সাথে গুগলির সংমিশ্রণ ছিল। এছাড়াও, আরও দুই ধরনের গুগলির ব্যবহার জানতেন। একটি সাধারণমানের এবং অপরটি অফের দিক থেকে ফেলতেন। এরফলে, ঐ ধরনের বল মোকাবেলা দূরূহ হয়ে পড়তো।

১৯৪৬ থেকে ১৯৫২ সময়কালে ভারতের পক্ষে সাতটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯৪৬ সালে ইফতিখার আলী খান পতৌদি’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের সাথে ইংল্যান্ড সফরে যান। ২২ জুন, ১৯৪৬ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে অংশ নেন। বিনু মানকড়, রুসি মোদী, বিজয় হাজারে, আব্দুল কারদারগুল মোহাম্মদের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ১০ ও ৪* রান সংগ্রহ করেছিলেন। স্বাগতিক দল ১০ উইকেটে জয় পায় ও তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

টেস্টগুলো থেকে মাত্র ১২ উইকেটের সন্ধান পেয়েছিলেন। তন্মধ্যে, ১৯৫১-৫২ মৌসুমে কোটলায় সফরকারী ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলা থেকেই পেয়েছিলেন ৮ উইকেট। প্রথম ইনিংসে ৬/৯১ নিয়ে ইংল্যান্ড দলকে ২০৩ রানে গুটিয়ে ফেলতে বিরাট ভূমিকা রাখেন। দ্বিতীয় ইনিংসে আরও ২ উইকেট পান। তবে, ইংল্যান্ড দল খেলাটিকে ড্র করতে সমর্থ হয়েছিল। ঐ টেস্ট বাদে আরও আট ইনিংসে বোলিং করেছিলেন তিনি। তবে, কোনটিতেই একের অধিক উইকেট তুলতে সক্ষমতা দেখাতে পারেননি।

প্রতিভাবান লেগ-স্পিনার ছিলেন। কিন্তু শীর্ষ পর্যায়ের ক্রিকেটে নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি। বিনু মানকড়গুলাম আহমেদের দাপটে দীর্ঘদিন টেস্ট খেলার সুযোগ পাননি। দূর্ভাগ্যজনকভাবে ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে পারেননি। সুভাষ গুপ্তে’র আগমনে দল থেকে বাদ পড়েন।

১৯৫২ সালে বিজয় হাজারে’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ১৯ জুন, ১৯৫২ তারিখে লর্ডসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ৫ ও ১৪ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, ০/৪৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করিয়েছিলেন। স্বাগতিক দল ৮ উইকেটে জয় পায় ও চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

৭৯টি প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ৩২.৫৯ গড়ে ২৩০ উইকেট দখল করেন। কিন্তু, টেস্টে তাঁর গড় ৫৯.৭৫ ছিল। রঞ্জী ট্রফি প্রতিযোগিতায় মহারাষ্ট্র, বরোদা ও বোম্বে – এ তিনটি দলের পক্ষে খেলেছেন। বারোবার পাঁচ-উইকেটের সন্ধান পেয়েছেন। তবে, ব্যাট হাতে তেমন সুবিধে করতে পারেননি। ১৪.০৪ গড়ে ৮৭১ রান তুলেছেন।

ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। তাঁর কন্যা প্রতিভাকে মহারাষ্ট্রের মূখ্যমন্ত্রী এবং বিসিসিআই ও আইসিসির সভাপতি শরদ পাওয়ার বিয়ে করেন। টাইফয়েডে আক্রান্ত হলে আর আরোগ্য লাভ করেননি। ২২ জুন, ১৯৫৫ তারিখে বোম্বেতে মাত্র ৩১ বছর ৩০৮ দিন বয়সে তাঁর জীবনাবসান ঘটে।

সম্পৃক্ত পোস্ট