| |

অ্যালান মস

১৪ নভেম্বর, ১৯৩০ তারিখে মিডলসেক্সের টটেনহাম এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ বোলিং কর্মে অগ্রসর হতেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে মিডলসেক্স দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৫০ থেকে ১৯৬৮ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। তন্মধ্যে, ১৯৫০ থেকে ১৯৬৩ সময়কালে মিডলসেক্সের পক্ষে ৩০৭টি খেলায় অংশ নিয়েছিলেন। মিডলসেক্সের বোলিং আক্রমণ পরিচালনা করতেন। এ পর্যায়ে বল হাতে নিয়ে ১৯.৮১ গড়ে ১০৮৮ উইকেট দখল করেছিলেন। ১৯৬০ সালে কেটারিংয়ে নর্দাম্পটনশায়ারের বিপক্ষে ৮/৩১ উইকেট নিয়ে ৫৮ রানে গুটিয়ে দিতে সবিশেষ ভূমিকা রাখেন। অপরদিকে ব্যাট হাতে ৬.৫৬ গড়ে ১২৩৪ রান তুলেছিলেন। ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ৪০ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, ১২১টি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন।

১৯৫৪ থেকে ১৯৬০ সময়কালে ইংল্যান্ডের পক্ষে মাত্র নয়টি টেস্টে অংশগ্রহণ করার সুযোগ পেয়েছিলেন। দলের কার্যকর খেলোয়াড় হলেও সীমিত পর্যায়ের সফলতা পান। ১৯৫৩-৫৪ মৌসুমে লেন হাটনের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সাথে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে যান। ১৫ জানুয়ারি, ১৯৫৪ তারিখে কিংস্টনের সাবিনা পার্কে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ১/৮৪ ও ১/৩০ লাভ করেন। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ০ ও ১৬ রানের ইনিংস খেলেন। ১৪০ রানে জয় পেলে সফরকারীরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

১৯৬০ সালে নিজ দেশে জ্যাকি ম্যাকগ্লিউ’র নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ২৩ জুন, ১৯৬০ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার সন্ধান পান। দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম ইনিংসে জেপি ফেলোস-স্মিথকে বিদেয় করে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বেকার সেরা ছিল ২/৩০। এ পর্যায়ে ব্রায়ান স্ট্যাদামের সাথে ৪/৩৪ নিয়ে প্রতিপক্ষ দক্ষিণ আফ্রিকাকে ১৫২ রানে গুটিয়ে দেন। এছাড়াও, দ্বিতীয় ইনিংসে ১/৪১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, খেলায় তাঁকে ব্যাট হাতে মাঠে নামতে হয়নি। সফরকারীরা ইনিংস ও ৭৩ রানে পরাভূত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।

এরপর, ৭ জুলাই, ১৯৬০ তারিখে নটিংহামের ট্রেন্ট ব্রিজে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। দ্বিতীয় ইনিংসে ৩/৩৬ পান। আবারও, ফ্রেড ট্রুম্যান-ব্রায়ান স্ট্যাদামের সাথে একত্রে খেলে স্প্রিংবকের বিপক্ষে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করেন। এছাড়াও, প্রথম ইনিংসে ১/২৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলায় তিনি একবার ব্যাট হাতে নিয়ে ৩* রান সংগ্রহ করেছিলেন। সফরকারীরা ৮ উইকেটে পরাজয়বরণ করলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়। টেস্টগুলো থেকে ২৯.৮০ গড়ে ২১ উইকেট দখল করেছিলেন। ১০.১৬ গড়ে ৬১ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন।

পাঁচ মৌসুমে ১০০ বা ততোধিক উইকেট পেয়েছেন। ১৯৬০ সালে ১৩.৭২ গড়ে সর্বাধিক ১৩৬ উইকেটের সন্ধান পান। সব মিলিয়ে ২০.৭৮ গড়ে ১৩০১ উইকেট দখল করেন। ১৯৬২ সালের মাঝামাঝি সময়ে ইয়ান বেডফোর্ডের পরিবর্তে অধিনায়কের দায়িত্ব পালনে অগ্রসর হন। দায়িত্ব সুচারূরূপে পালন করতে থাকেন। সতীর্থ খেলোয়াড়ের কাছে বেশ জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব ছিলেন ও অধিনায়ক হিসেবে সম্মানীয় ছিলেন। তবে, ঘরোয়া পর্যায়ের সফলতা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তুলে ধরতে পারেননি।

৩৩ বছর বয়সে ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর মুদ্রণ ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন। এছাড়াও, এমসিসি’র সহঃসভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৬ থেকে ২০১০ সময়কালে মিডলসেক্স ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। সব মিলিয়ে মিডলসেক্সের পক্ষে অর্ধ-শতাব্দীকালের অধিক সময় সংশ্লিষ্ট ছিলেন।

ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। সোনিয়া নাম্নী এক রমণীর পাণিগ্রহণ করেন। ১২ মার্চ, ২০১৯ তারিখে ৮৮ বছর ১১৮ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

সম্পৃক্ত পোস্ট