৩ মে, ১৮৬৭ তারিখে বাকিংহামশায়ারের চাফন্ট সেন্ট জাইলস এলাকায় জন্মগ্রহণকারী পেশাদার ক্রিকেটার, প্রশাসক ও কোচ ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিং করতেন। ১৮৯০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
ক্রিকেটের ইতিহাসের অন্যতম সেরা বোলার ছিলেন। দীর্ঘদেহের অধিকারী ছিলেন। টেস্টে অংশগ্রহণকারী অপর চার কাকাতো ভাই ও প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অংশগ্রহণকারী দুই ভ্রাতার তুলনায় নিজেকে বেশ এগ্রিয়ে রেখেছেন। কাকাতো ভাই জে. ডব্লিউ. হার্ন থেকে স্বতন্ত্র করে রাখতে ‘ওল্ড জ্যাক’ ডাকনামে পরিচিতি লাভ করেন। দীর্ঘ দূরত্ব থেকে ভারসাম্য বজায় রেখে সঠিক মানসম্পন্ন বোলিং করতে অগ্রসর হতেন। বলকে অফ থেকে লেগের দিকে নিয়ে আসতেন। এছাড়াও, সুইং সহযোগে বলে বৈচিত্র্যতা আনয়ণে পারদর্শী ছিলেন। উপযোগী পিচে বেশ দূর্বোধ্য বোলারে পরিণত হতেন।
মিডলসেক্সে যোগ দেন। একবার সাফল্যের সন্ধান পাওয়ায় তাঁকে তাৎক্ষণিকভাবে কাউন্টি দলের সদস্য করা হয়। ১৮৮৮ সাল থেকে ১৯২৩ সাল পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে মিডলসেক্সের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৮৯০ সালে কাউন্টি দলের পক্ষে প্রথম খেলতে নামেন। প্রথম খেলায় ৬২ রান খরচায় ৬ উইকেট দখল করেন। এরপর থেকে তাঁকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। পরের মৌসুমে মাত্র ১০ রান খরচায় ১১৮ উইকেট নিয়ে প্রথম-শ্রেণীর বোলিং গড়ে শীর্ষে আরোহণ করেন।
১৮৯১ থেকে ১৯২৪ সাল পর্যন্ত লর্ডসে মিডলসেক্সের বোলার হিসেবে খেলতেন। ১৮৯৬ সালে ২৫৭ উইকেট পেয়েছিলেন। পনেরো মৌসুমে ১০০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন। ক্লাব ত্যাগকালীন লর্ডস কর্তৃপক্ষ তাঁকে £৫০০ পাউন্ড-স্টার্লিং প্রদান করে।
১৮৯২-৯৩ মৌসুম থেকে ১৮৯৯ সাল পর্যন্ত সময়কালে ইংল্যান্ডের পক্ষে সর্বমোট ১২ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। টেস্টগুলো থেকে ২২.০৮ গড়ে ৪৯ উইকেট দখল করেছিলেন। ১৮৯১-৯২ মৌসুমে ওয়াল্টার রিডের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। ১৯ মার্চ, ১৮৯২ তারিখে কেপটাউনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের একমাত্র টেস্টে অংশ নেন। উইলিয়াম চ্যাটারটন, দুই কাকাতো ভাই – অ্যালেক হার্ন ও জর্জ হার্ন, ডিক পাওয়ার ও ভিক্টর বার্টনসহ প্রতিপক্ষের সাথে যুক্ত অপর কাকাতো ভাই – ফ্রাঙ্ক হার্নের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে দশ নম্বরে নেমে ৪০ রানের ইনিংস খেলেন। সফরকারীরা ইনিংস ও ১৮৯ রানে জয়লাভ করে।
পরের টেস্টে অংশ নেয়ার জন্যে চার বছর অপেক্ষা করতে হয়। ১৮৯৬ সালে নিজ দেশে হ্যারি ট্রটের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ২২ জুন, ১৮৯৬ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ঐ টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে ৫/৭৬ লাভ করেন। সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে প্রাপ্ত চারবার পাঁচ-উইকেট লাভের এটি প্রথম ঘটনা ছিল এবং সবগুলোই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পেয়েছেন। বিস্ময়করভাবে লর্ডসে তিনি একটিমাত্র টেস্টে অংশ নিতে পেরেছিলেন। অথচ, ঐ বছর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সব মিলিয়ে ৫৬ উইকেট দখল করেছিলেন। তবে, প্রথম ইনিংসে টম রিচার্ডসন ও জর্জ লোহমানের বোলিং দাপটে তিনি বোলিং করার সুযোগই পাননি। তবে, দ্বিতীয় ইনিংসে নিচেরসারিতে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করেন। সিড গ্রিগরি ও ক্লেম হিলের উইকেটসহ পাঁচ-উইকেট তুলে নেন। এছাড়াও, খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ১১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। স্বাগতিকরা ৬ উইকেটে জয়লাভ করলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
এ সিরিজে দারুণ খেলার সুবাদে ১৮৯৭-৯৮ মৌসুমের সফরসহ ১৮৯৯ সালে নিজ দেশের সিরিজে স্বাভাবিকভাবে অন্তর্ভুক্ত হন। তন্মধ্যে, ১৮৯৯ সালের লিডসের হেডিংলি টেস্টে ক্লেম হিল, সিড গ্রিগরি ও মন্টি নোবেলের উইকেট নিয়ে ইংল্যান্ডের ইতিহাসের প্রথম হ্যাট্রিক করার গৌরবের অধিকারী হন।
১৮৯৭-৯৮ মৌসুমে অ্যান্ড্রু স্টডার্টের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া সফরে যান। ২৯ জানুয়ারি, ১৮৯৮ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ৬/৯৮ ও ০/১৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ০ ও ৪* রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। স্বাগতিকরা ৮ উইকেটে জয় পেলে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
এরপর, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ১৮৯৮ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ১/৪০ ও ১/৫২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ২* ও ৩* রান সংগ্রহ করেছিলেন। ৬ উইকেটে পরাজিত হলে সফরকারীরা ৪-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
১৮৯৯ সালে নিজ দেশে জো ডার্লিংয়ের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ২৯ জুন, ১৮৯৯ তারিখে লিডসে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। দূর্দান্ত বোলিংশৈলী প্রদর্শন করে নিজেকে স্মরণীয় করে রাখেন। ঘটনাবহুল এ টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে হিল, গ্রিগরি ও নোবেল – এ তিনজনকে শূন্য রানে বিদেয় করন। তন্মধ্যে, সিড গ্রিগরি উভয় ইনিংসে তাঁর বলে শূন্য রানে বিদেয় নেন। খেলায় তিনি ১/৬৯ ও ৪/৫০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। বৃষ্টিবিঘ্নিত খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।
১৮৯৯ সালে নিজ দেশে জো ডার্লিংয়ের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ১৭ জুলাই, ১৮৯৯ তারিখে ম্যানচেস্টারের ওল্ড ট্রাফোর্ডে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ১ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, ০/৭ ও ৩/৫৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলেও সফরকারীরা ১-০ ব্যবধান এগিয়ে যায়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট থেকে তিন সহস্রাধিক উইকেটের সন্ধান পেয়েছেন। নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে বেশ কার্যকর ভাব বজায় রেখেছেন। নির্ভরযোগ্যতার পরিচয় দিতেন। পাশাপাশি, উইকেটের কাছাকাছি অবস্থান করে দূর্দান্ত ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হতেন। ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর প্রশাসনের দিকে ঝুঁকে পড়েন। ১৯২০ সালে প্রথম পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে মিডলসেক্স কমিটিতে নির্বাচিত হন। এরপর কোচিং জগতের দিকে ধাবিত হন। ১৯২০-এর দশকে পাতিয়ালার মহারাজার আমন্ত্রণে বেশ কয়েকবার কোচের দায়িত্ব নিয়ে ভারত গমন করেন। ১৯৩০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রশিক্ষণ দেন। পঞ্চাশের কোটায় এসেও মাঝে-মধ্যে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অংশ নিতেন।
১৭ এপ্রিল, ১৯৪৪ তারিখে বাকিংহামশায়ারের চাফন্ট সেন্ট জাইলস এলাকায় দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর ৭৬ বছর ৩৫০ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।
