|

রামনাথ পার্কার

৩১ অক্টোবর, ১৯৪৬ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের বোম্বেতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ইনিংস উদ্বোধনে নামতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ১৯৭০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

১৯৬৪-৬৫ মৌসুম থেকে ১৯৮০-৮১ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে বোম্বের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। মারকুটে ব্যাটসম্যান হিসেবে যে-কোন অবস্থানে খেলতে পারতেন। ৫ ফুট ৩ ইঞ্চি উচ্চতা নিয়ে দর্শনীয় ফিল্ডিং করতেন। ৩০ গজের মধ্যে বা ডিপ অঞ্চলে অসাধারণ ফিল্ডিংয়ের পাশাপাশি ব্যাট-প্যাড থেকে আসা ক্যাচ তালুবন্দীকরণে সবিশেষ দক্ষ ছিলেন। কভার-পয়েন্ট অঞ্চলে দূর্দান্ত ফিল্ডিং করে সুনাম কুড়িয়েছেন। প্রায়শঃই বোম্বেতে টেস্ট চলাকালীন অতিরিক্ত খেলোয়াড় হিসেবে ফিল্ডিং করতেন।

দলীয় সঙ্গী মিলিন্দ রেগে মন্তব্য করেছেন যে, তিনি ১০টির মধ্যে ৭টিতেই স্ট্যাম্পে আঘাত করতে পারতেন। প্রায়শঃই অশোক মানকড়ের নির্দেশনায় ডিপ অঞ্চলে অবস্থান করতেন ও দৃষ্টিনন্দন রান-আউটে সম্পৃক্ত থাকতেন। এছাড়াও দারুণ স্ট্রোক খেলতেন। সুনীল গাভাস্কার তাঁকে তাঁর দেখা খেলোয়াড়ী জীবনের সেরা উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে উল্লেখ করেছেন। মিলিন্দ রেগে বলেন যে, ভাগবত চন্দ্রশেখর বাদে অন্য কাউকে সমীহ করতেন না। স্পিনের বিপক্ষে তাঁর পায়ের কারুকাজ বেশ যুঁৎসই ছিল।

বিনু মানকড়ের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। ১৯৭০-৭১ মৌসুমে রঞ্জী ট্রফিতে অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে উত্থান ঘটে। সেমি-ফাইনালে বাংলা দলের বিপক্ষে ১০১ রান তুলেন। চূড়ান্ত খেলায় মহারাষ্ট্রের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ১০৮ রান তুলে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হন। ঐ খেলায় বোম্বে দল মাত্র ৪৮ রানের ব্যবধানে জয় পেয়েছিল। পরের মৌসুমে দিলীপ ট্রফিতে প্রথমবারের মতো খেলতে নেমে ১৩১ রান সংগ্রহ করেছিলেন।

বোম্বের পক্ষে দশ বছর প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। প্রায় ৪০ গড়ে ২৮০০-এর অধিক রান তুলেন। হায়দ্রাবাদের বিপক্ষে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ১৯৭ রানের ইনিংস খেলেন। সব মিলিয়ে ৮৫টি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিয়ে ৩৪ গড়ে ৪৪৫৫ রান পেয়েছেন।

১৯৭২ সালে সব মিলিয়ে ভারতের পক্ষে দুইটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। উভয় টেস্টই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেছিলেন। ১৯৭২-৭৩ মৌসুমে নিজ দেশে টনি লুইসের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ২০ ডিসেম্বর, ১৯৭২ তারিখে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ইনিংসের গোড়াপত্তনে নেমে ৪ ও ৩৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ঐ খেলায় তাঁর দল ৬ উইকেটে পরাজয়বরণ করে ও পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।

একই সফরের ৩০ ডিসেম্বর, ১৯৭২ তারিখে কলকাতায় সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ২৬ ও ১৫ রান সংগ্রহ করে নিম্নমূখী রানের খেলায় ভূমিকা রাখেন। খেলায় স্বাগতিকরা ২৮ রানে জয় পায় ও সিরিজটি ১-১ ব্যবধানে অগ্রসর হতে থাকে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়। ৪ ইনিংস থেকে ৮০ রান সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন। তন্মধ্যে ৪০ রানই এসেছে বাউন্ডারি থেকে। সর্বোচ্চ করেন ৩৫ রান।

ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। কুমুদিনি নাম্নী এক রমণীর পাণিগ্রহণ করেন। সুচিত্রা ও নিখিল নামীয় দুই সন্তানের জনক। ১১ আগস্ট, ১৯৯৯ তারিখে ৫২ বছর ২৮৪ দিন বয়সে মুম্বইয়ের লোকমান্য তিলক মেমোরিয়াল জেনারেল হাসপাতালে দেহাবসান ঘটে। এর পূর্বে প্রায় তিন বছর নিবিড় পরিচর্য্যা কেন্দ্রে ছিলেন। ১৯৯৫ সালে নববর্ষের প্রাক্কালে স্কুটার দূর্ঘটনায় মারাত্মকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হন। স্কুটার চালানো অবস্থায় বাসের ধাক্কায় পড়ে যান।

সম্পৃক্ত পোস্ট