৮ অক্টোবর, ১৯৯২ তারিখে প্রিটোরিয়ায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলছেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিং করে থাকেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
গ্রায়েম স্মিথ পরবর্তী যুগে দক্ষিণ আফ্রিকার অন্যতম সেরা প্রতিশ্রুতিশীল ক্রিকেটার হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছেন। ‘ট্রাইব্রস’ ডাকনামে ভূষিত থিউনিস ডি ব্রুন হাই স্কুল মেনলোপার্কে অধ্যয়ন করেছেন। মারকুটে ব্যাটসম্যান হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন। প্রিটোরিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হিসাববিজ্ঞান বিষয়ে বি.কম ডিগ্রী লাভ করেন। ক্রিকেট ও চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্টের যে-কোন বেছে নেয়ার বিষয়ে ক্রিকেটকেই অগ্রাধিকার দেন।
ছোটবেলা থেকে তাঁর মাঝে অপার সম্ভাবনা লক্ষ্য করা যায়। জাতীয় পর্যায়ের অনূর্ধ্ব-১৭ সপ্তাহে প্রতিযোগিতার সেরা খেলোয়াড় হিসেবে মনোনীত হন। দুই বছর পর ২০১২ সালের আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় কুইন্টন ডি ককের সাথে দক্ষিণ আফ্রিকা দলে খেলেছিলেন। দলকে সেমি-ফাইনালে নিয়ে যান। ঐ প্রতিযোগিতায় দলের তৃতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকে পরিণত হয়েছিলেন। তবে, পাছায় আঘাত পেলে নয়মাস খেলার জগৎ থেকে বিরত থাকেন।
২০১৩-১৪ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে নাইটস, নর্দার্নস ও টাইটান্সের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৪ তারিখে উইন্ডহোকে নামিবিয়া বনাম নর্দার্নসের মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান।
টাইটান্স দলের বিপক্ষে মৌসুমের পূর্বেকার প্রস্তুতিমূলক খেলায় অংশ নিয়ে কোচ রব ওয়াল্টারের নজর কাড়েন। তাঁকে ঐ মৌসুমে উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলার জন্যে দলে অন্তর্ভুক্ত করেন। ২০১৪-১৫ মৌসুমে টাইটান্সের পক্ষে অভিষেক মৌসুমে তাৎক্ষণিক সফলতার স্বাক্ষর রাখেন। দলের সর্বাধিক রান সংগ্রাহকে পরিণত হন ও একদিনের শিরোপা বিজয়ে সবিশেষ ভূমিকা রাখেন। এ সময়ে দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের সদস্যরূপে মনোনীত হন। ইংল্যান্ড ‘এ’ দলের বিপক্ষে দূর্দান্ত দ্বি-শতক হাঁকান।
২০১৭ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে সর্বমোট ১২ টেস্ট ও দুইটিমাত্র টি২০আইয়ে অংশ নিয়েছেন। ২০ জানুয়ারি, ২০১৭ তারিখে সেঞ্চুরিয়নে অনুষ্ঠিত সফররত শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টি২০আইয়ে অংশগ্রহণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন। টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন করতেও খুব বেশী দেরী হয়নি।
দুই মাস পর নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো টেস্ট ক্রিকেটে অংশ নেন। ২০১৬-১৭ মৌসুমে ফাফ ডু প্লিসি’র নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ড গমন করেন। ২৫ মার্চ, ২০১৭ তারিখে হ্যামিল্টনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ইনিংস উদ্বোধনে নেমেছিলেন। ০ ও ১২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। প্রতিপক্ষীয় অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনের অসাধারণ ব্যাটিং দৃঢ়তায় খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
২০১৭ সালে প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ বছর ডিন এলগারের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ৬ জুলাই, ২০১৭ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের ছাঁপ রাখেন। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ১২ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি ৪৮ ও ১ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। মঈন আলী’র অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়া নৈপুণ্যের কল্যাণে স্বাগতিকরা ২১১ রানে জয় পেলে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
২০১৯-২০ মৌসুমে ফাফ ডু প্লিসি’র নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের সাথে ভারত সফরে যান। ১৯ অক্টোবর, ২০১৯ তারিখে রাঁচিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ঘটনাবহুল এ টেস্টের তৃতীয় ইনিংসে ডিন এলগার ১৬ রানে রিটায়ার্ড হার্ট হন। অতঃপর, ২৮.৩ ওভার শেষে তিনি পরিবর্তিত খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামেন। একবার খেলতে নেমে ৩০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। রোহিত শর্মা’র অসাধারণ দ্বি-শতকের কল্যাণে সফরকারীরা ইনিংস ও ২০২ রানে পরাজিত হলে ১-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
২০২২-২৩ মৌসুমে প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে ডিন এলগারের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ২৬ ডিসেম্বর, ২০২২ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১২ ও ২৮ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। ডেভিড ওয়ার্নারের অসাধারণ দ্বি-শতকের কল্যাণে সফরকারীরা ইনিংস ও ১৮২ রানে পরাভূত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।
